চলন্ত ট্রেনে জ্বরে নিস্তেজ হয়ে পড়া দেড় বছরের শিশুকে সিপিআর দিয়ে প্রাণ ফেরালেন তরিকুল ইসলাম; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই দেবদূত।
ঢাকা | ১৩ মে ২০২৬
রাজধানীর বুকে দ্রুতগতির মেট্রোরেল যখন যান্ত্রিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব মানবিকতার সাক্ষী হলো শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন। চলন্ত ট্রেনে প্রচণ্ড জ্বরে নিস্তেজ হয়ে পড়া এক শিশুকে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় নতুন জীবন দান করেছেন মেট্রোরেলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য তরিকুল ইসলাম। ইউনিফর্মের নিচে লুকানো এক বিশাল মানবিক হৃদয়ের এই গল্প এখন দেশজুড়ে মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
যেভাবে ঘটল সেই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা
ঘটনাটি শুরু হয় মেট্রোরেলের একটি চলন্ত কোচের ভেতর। দেড় বছর বয়সী এক শিশু প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তার বাবা-মায়ের কোলেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হাত-পা নাড়ানো বন্ধ করে শিশুটি যখন অচেতন হয়ে যায়, তখন দিশেহারা বাবা-মা শাহবাগ স্টেশনে নেমে চিৎকার শুরু করেন। স্টেশনে উপস্থিত সাধারণ যাত্রীরা যখন কেবল দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসেন আনসার সদস্য তরিকুল ইসলাম।
পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত
তরিকুল ইসলাম এক মুহূর্ত দেরি না করে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন। শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে দেখে তিনি দ্রুত ‘মাউথ-টু-মাউথ রেসকিউ ব্রেথ’ (মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম শ্বাস) দিতে শুরু করেন। একদম নিজের সন্তানের মতো একাগ্রচিত্তে তিনি শিশুটির চেতনা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। কিছু সময় পর অলৌকিকভাবে শিশুটি নড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। একটি পরিবারের অন্ধকার হতে যাওয়া পৃথিবীতে মুহূর্তেই আবার প্রাণের আলো ফিরে আসে।
🔎 বিশ্লেষণ: জরুরি সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব
তরিকুল ইসলামের এই পদক্ষেপটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাথমিক চিকিৎসা (CPR/Rescue Breath)। অনেক সময় উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরে শিশুরা ‘ফেব্রাইল সিজার’ বা এ জাতীয় জটিলতায় নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। সেই মুহূর্তে অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখা না গেলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তরিকুল ইসলামের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগই শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।
📊 ঘটনা সংক্ষেপ
💬 প্রতিক্রিয়া
- স্থান: শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন।
- নায়ক: তরিকুল ইসলাম (আনসার সদস্য)।
- আক্রান্ত: দেড় বছর বয়সী এক শিশু।
- পদ্ধতি: মাউথ-টু-মাউথ রেসকিউ ব্রেথিং।
- ফলাফল: শিশুটির চেতনা ফিরে পাওয়া এবং সফল উদ্ধার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তরিকুল ইসলামকে ‘দেবদূত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে এমন দক্ষ ও মানবিক কর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইউনিফর্ম পরা একজন সদস্যের এমন মমত্ববোধ বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপসংহার
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—ভূপেন হাজারিকার এই চিরন্তন বাণীটি আজ বাস্তবে প্রমাণ করলেন তরিকুল ইসলাম। তাঁর এই বীরত্ব কেবল একটি প্রাণ বাঁচায়নি, বরং পুরো সমাজকে শিক্ষা দিয়ে গেল যে পেশাদারিত্বের চেয়ে বড় ধর্ম হলো মানবধর্ম।
সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।



