Homeটুডে নেশনতিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের হাত ধরছে বাংলাদেশ: বেইজিংয়ে খলিলুর রহমান-ওয়াং ই বৈঠক

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের হাত ধরছে বাংলাদেশ: বেইজিংয়ে খলিলুর রহমান-ওয়াং ই বৈঠক

‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে’ চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সমর্থন চাইল ঢাকা; জোরদার হচ্ছে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা।

বেইজিং | বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

​ভারতকে পাশ কাটিয়ে বহুল আলোচিত ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই বাংলাদেশের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির প্রথম বেইজিং সফর, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিস্তা প্রকল্পের রূপরেখা ও গুরুত্ব

​১০২ কিলোমিটার নদী খনন, নদীর দুই পাশে ২০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন রোধে আধুনিক অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

  • প্রেক্ষাপট: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই প্রকল্প নিয়ে ভারত ও চীন—উভয় দেশই আগ্রহ দেখিয়েছিল। শেখ হাসিনার সরকার প্রকল্পটি ভারতকে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
  • ঢাকার প্রস্তাব: বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান চীনের প্রতি ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

কূটনৈতিক বার্তা ও ‘এক চীন’ নীতি

​বৈঠকে বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঢাকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। এর বিনিময়ে চীনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।

🔎 বিশ্লেষণ: ভারতের উদ্বেগ ও ভূ-রাজনীতি

​তিস্তা নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত বরাবরই বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এই প্রকল্পে চীনের উপস্থিতিকে তাদের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেন’স নেক’-এর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখে আসছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন ও বিরোধী জোটের স্পষ্ট অবস্থান হলো—জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিকল্প হিসেবে নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহায়তাই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ।

📊 তথ্যচিত্র: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ

  • তিস্তা প্রকল্প: চীনের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
  • বেল্ট অ্যান্ড রোড: উচ্চমানের বিআরআই (BRI) সহযোগিতা আরও জোরদারে ঐকমত্য।
  • রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে চীনের মধ্যস্থতা বজায় রাখা।
  • অর্থনৈতিক খাত: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানো।

💬 মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

​বৈঠক শেষে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি অনুসরণ করে আমরা চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ গঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থনের প্রশংসা করেন।

উপসংহার

​পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর তিস্তা প্রকল্পের অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশ কীভাবে তিস্তা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, ড. খলিলুর রহমান ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করছেন এবং আজই তাঁর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular