আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে চললেও, স্থায়ী কোনো চুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধের দামামা নতুন করে বাজতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের অস্বীকার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের ঘোষণা দিলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বৈঠকে বসার ব্যাপারে তারা কোনো সম্মতি দেয়নি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি শান্তি চুক্তি হবেই—সেটি ‘ভালোভাবে হতে পারে অথবা কঠিনভাবে’। এমনকি দাবি আদায় না হলে তিনি ইরানকে “উড়িয়ে দেওয়া” এবং দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ব্রিজগুলো ধ্বংস করার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সংলাপে অচলাবস্থা
ইরানের প্রধান আলোচক সাঈদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, প্রথম দফার আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও দুই দেশ এখনো চূড়ান্ত চুক্তির থেকে অনেক দূরে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। বুধবারের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে দুই দেশ আবারও পুরোদমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপসংহার: বিশ্বের নজর এখন আগামী বুধবারের দিকে। ইসলামাবাদে কোনো অলৌকিক সমঝোতা না হলে বা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো না গেলে, মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



