কীটনাশক কমিয়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি কী, কৃষকের জন্য কোন পথ বাস্তবসম্মত
বিশেষ কাভার স্টোরি | TODAY TV BD হেলথ ও কৃষি ডেস্ক
কয়েকদিন আগে একজন কীটনাশক আমদানিকারকের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে—প্যারাকোয়েট ছাড়া দেশ চলবে না। কিন্তু কৃষিবিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাকোয়েট বা গ্লাইফোসেটই একমাত্র পথ নয়। বিশ্বের বহু কৃষি ব্যবস্থায় রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে Integrated Weed Management বা সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনা চালু করা হচ্ছে।
এখানে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি: কোনো রাসায়নিক কীটনাশক বা আগাছানাশককে “শতভাগ ক্ষতিহীন” বলা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত—যেখানে সম্ভব রাসায়নিকের প্রয়োজন কমানো, বেশি ঝুঁকির উপাদান পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া, এবং প্রয়োজন হলে তুলনামূলক কম ঝুঁকির নিবন্ধিত পণ্য সঠিক মাত্রা ও সঠিক সময়ে ব্যবহার করা। WHO-ও উচ্চঝুঁকির কীটনাশক পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের সুপারিশ করে।
প্যারাকোয়েট কেন এত আলোচিত?
প্যারাকোয়েট একটি দ্রুত কার্যকর, non-selective herbicide—অর্থাৎ এটি শুধু আগাছা নয়, সবুজ উদ্ভিদের ওপরই ব্যাপকভাবে কাজ করে। এর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো মানববিষক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের EPA-এর তথ্য অনুযায়ী, concentrated paraquat অত্যন্ত বিষাক্ত; সামান্য পরিমাণ গিলে ফেললেও মৃত্যু হতে পারে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট antidote নেই। কর্মক্ষেত্রে mixing, loading ও application-এর সময় exposure-ও বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
WHO-এর pesticide-hazard classification-এও paraquat-এর বিষাক্ততা নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। WHO বলেছে, ঘনীভূত পণ্য মুখে গেলে প্রাণঘাতী হতে পারে এবং ত্বক ও চোখের সংস্পর্শেও গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু “প্যারাকোয়েট আগাছা মারে কি না”—তা নয়। প্রশ্ন হলো, একই কৃষি-উদ্দেশ্য কি অপেক্ষাকৃত কম স্বাস্থ্যঝুঁকির উপায়ে পূরণ করা যায়?
গ্লাইফোসেট নিয়ে বিতর্ক কেন?
গ্লাইফোসেট বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত broad-spectrum herbicide-এর একটি। এটি বহু ধরনের আগাছা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর এবং no-till/low-till কৃষিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক রয়েছে। IARC ২০১৫ সালে glyphosate-কে “probably carcinogenic to humans” (Group 2A) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল—এই মূল্যায়ন মানবদেহে সীমিত প্রমাণ, প্রাণীতে পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং genotoxicity-র শক্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। একই সঙ্গে IARC নিজেই পরিষ্কার করেছে, এটি hazard classification; বাস্তবে কোনো ব্যক্তির ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ভর করে exposure-এর মাত্রা ও ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে: সব আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা একই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ECHA glyphosate-কে carcinogen হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি।
তাই glyphosate নিয়ে সংবাদ বা নীতিনির্ধারণে “এটি নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার ঘটায়” বা উল্টোভাবে “এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ”—দুই ধরনের চরম ভাষাই এড়িয়ে চলা উচিত।
তাহলে বিকল্প কী?
বিকল্পের সবচেয়ে কার্যকর উত্তর হলো একটি নতুন ‘ম্যাজিক রাসায়নিক’ নয়; বরং একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়।
FAO বলছে, Integrated Weed Management বা IWM হলো স্থানীয় আগাছার ধরন, ঘনত্ব ও ফসলের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে যুক্ত করে ব্যবহার করা। একক কোনো পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়।
১. হাতে আগাছা পরিষ্কার
ছোট ও মাঝারি জমিতে হাতে আগাছা পরিষ্কার এখনো সবচেয়ে সরাসরি রাসায়নিকমুক্ত পদ্ধতিগুলোর একটি।
বিশেষ করে সবজি, মরিচ, বেগুন, শাকসবজি ও ছোট আকারের উচ্চমূল্যের ফসলে এটি কার্যকর হতে পারে।
সমস্যা হলো শ্রমের খরচ ও শ্রমিকের স্বল্পতা। তাই এটিকে একা নয়, যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করাই বেশি কার্যকর।
২. মেকানিক্যাল উইডিং
Weeder, rotary weeder, cono weeder বা অন্যান্য কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করে আগাছা দমন করা যায়।
বাংলাদেশের ধান উৎপাদনের গবেষণায় mechanical weeding-এর সঙ্গে hand weeding যুক্ত করে এমন একটি non-chemical পদ্ধতি পাওয়া গেছে, যা প্রচলিত কৃষক-পদ্ধতির তুলনায় ফলন ও লাভের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।
৩. Stale Seedbed পদ্ধতি
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত প্রযুক্তি।
প্রথমে জমিতে আগাছার বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর ফসল বোনার আগে অগভীর চাষ বা অন্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেই আগাছা নষ্ট করে দেওয়া হয়।
ফলে ফসল ওঠার পর জমিতে আগাছার চাপ অনেকটাই কমে যায়। IRRI এই পদ্ধতিকে বিশেষ করে irrigated ও dry direct-seeded rice-এর জন্য কার্যকর বলে উল্লেখ করেছে।
৪. মালচিং
ধানের খড়, ফসলের অবশিষ্টাংশ বা উপযুক্ত জৈব উপকরণ মাটির ওপর বিছিয়ে দিলে সূর্যের আলো আগাছার কাছে পৌঁছাতে পারে না।
ফলে—
- আগাছার অঙ্কুরোদগম কমে
- মাটিতে আর্দ্রতা থাকে
- মাটির তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে
- কিছু ক্ষেত্রে মাটির জৈব পদার্থও বাড়ে
এটি বিশেষ করে সবজি ও বাগান ফসলে কার্যকর হতে পারে।
৫. সঠিক জমি প্রস্তুতি
অনেক আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ফসল রোপণের আগেই।
সঠিকভাবে জমি সমতলকরণ, সময়মতো চাষ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জমি প্রস্তুতির মাধ্যমে আগাছার প্রাথমিক চাপ কমানো যায়।
ধানের ক্ষেত্রে সঠিক puddling, leveling, early flooding এবং দ্রুত crop canopy তৈরি IWM-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে IRRI উল্লেখ করেছে।
৬. পানি ব্যবস্থাপনা
ধানের মতো পানিনির্ভর ফসলে সঠিক সময়ে পানি দেওয়া ও জমির পানি ব্যবস্থাপনা অনেক আগাছার বৃদ্ধি কমাতে পারে।
অর্থাৎ সব সমস্যার সমাধান স্প্রে নয়; পানি ব্যবস্থাপনাও আগাছা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার।
৭. দ্রুত বেড়ে ওঠা ও প্রতিযোগী জাত
যে ফসল দ্রুত ছায়া তৈরি করে এবং মাটির বড় অংশ ঢেকে ফেলে, সেই ফসল অনেক আগাছাকে আলো থেকে বঞ্চিত করে।
তাই উপযুক্ত crop variety নির্বাচনও আগাছা নিয়ন্ত্রণের অংশ হতে পারে।
৮. ফসল আবর্তন
একই জমিতে বছরের পর বছর একই ফসল ও একই ধরনের আগাছানাশক ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট আগাছা প্রজাতির আধিপত্য এবং herbicide resistance-এর সমস্যা বাড়তে পারে।
ফসল পরিবর্তন করলে আগাছার জীবনচক্র ভাঙা যায় এবং একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। IRRI সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় crop rotation-কে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
৯. জৈবিক ও পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ
কিছু আগাছার ক্ষেত্রে biological control, allelopathy এবং bioherbicide নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।
FAO biological control, cultural control এবং অন্যান্য non-chemical ব্যবস্থাকে IWM-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে এগুলো সব ফসল ও সব আগাছায় একইভাবে কার্যকর নয়; স্থানীয় গবেষণা দরকার।
শুধু প্যারাকোয়েট বাদ দিলেই কি সমস্যার সমাধান?
না।
একটি উচ্চঝুঁকির herbicide বন্ধ করে যদি কৃষককে আরেকটি উচ্চঝুঁকির chemical-এর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা থেকেই যাবে।
সঠিক লক্ষ্য হওয়া উচিত—
High-risk chemical → lower-risk chemical → mechanical/cultural control → integrated management → যেখানে সম্ভব chemical-free production।
WHO-এর pesticide management guidance-এও phase-out-এর সময় risk reduction, stakeholder involvement এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ধানচাষে বাস্তব উদাহরণ
বাংলাদেশের কৃষি গবেষণাতেও সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
একটি মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, transplanted rice-এ pre-emergence ও post-emergence herbicide-এর সঙ্গে একবার hand weeding যুক্ত করা কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত কৃষক-পদ্ধতির তুলনায় শ্রম ও খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে পারে। একই গবেষণায় mechanical weeding + hand weeding-এর non-chemical option-ও কৃষকের প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক ফলন ও লাভ দিয়েছে।
অর্থাৎ বাস্তব সমাধান ইতিমধ্যে গবেষণায় আছে; প্রয়োজন সেগুলো মাঠে নিয়ে যাওয়া।
কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
কোনো herbicide-এর নাম দেখে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
একই chemical—
- এক ফসলে নিরাপদ হতে পারে
- অন্য ফসলে ক্ষতিকর হতে পারে
- সঠিক মাত্রায় কার্যকর হতে পারে
- অতিরিক্ত মাত্রায় crop injury বা residue তৈরি করতে পারে
বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিবন্ধিত বালাইনাশকের তালিকা প্রকাশ করে। তাই কৃষককে শুধু নিবন্ধিত পণ্য, অনুমোদিত ফসল, অনুমোদিত আগাছা, নির্ধারিত dose এবং label-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: “কম ক্ষতিকর” মানেই “ক্ষতিহীন” নয়
কৃষকের কাছে আমরা কোনো নতুন herbicide-কে “একেবারে নিরাপদ” বলে প্রচার করতে পারি না।
বরং বিজ্ঞানভিত্তিক ভাষা হবে—
“তুলনামূলক কম ঝুঁকির বিকল্প, সঠিক ব্যবস্থাপনায়।”
FAO-ও বলছে, pesticide একেবারে এড়ানো সবসময় সম্ভব না হলেও কম বিষাক্ত ও কম persistent pesticide বেছে নেওয়া, সঠিক dose, timing এবং application method ব্যবহার করা এবং runoff ও drift কমানো জরুরি।
কৃষকের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ৫ ধাপের মডেল
ধাপ ১ — আগাছা শনাক্ত করুন
কোন আগাছা, কতটা এবং কোন পর্যায়ে আছে—সেটি আগে নির্ধারণ।
ধাপ ২ — রাসায়নিকের আগে অ-রাসায়নিক পদ্ধতি বিবেচনা করুন
হাতে পরিষ্কার, mechanical weeding, mulching, stale seedbed, পানি ব্যবস্থাপনা।
ধাপ ৩ — প্রয়োজন হলে নিবন্ধিত কম-ঝুঁকির herbicide নির্বাচন
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বা প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ধাপ ৪ — label অনুযায়ী dose ও timing
“বেশি দিলে বেশি কাজ করবে”—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
ধাপ ৫ — রোটেশন ও পর্যবেক্ষণ
একই mode of action বারবার ব্যবহার না করে integrated approach গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের করণীয় কোথায়?
প্যারাকোয়েট বা glyphosate নিয়ে বিতর্ককে শুধু নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না।
সরকারের উচিত—
প্রথমত: ঝুঁকিভিত্তিক স্বাধীন scientific assessment করা।
দ্বিতীয়ত: উচ্চঝুঁকির pesticide phase-out করতে হলে আগে থেকেই বিকল্পের ব্যবস্থা করা।
তৃতীয়ত: প্রতিটি agro-ecological zone অনুযায়ী weed management package তৈরি করা।
চতুর্থত: mechanical weeder, mulcher, precision sprayer ও অন্যান্য যন্ত্রে কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া।
পঞ্চমত: কৃষকের কাছে স্থানীয় ভাষায় crop-specific weed-management নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া।
ষষ্ঠত: মাটি, পানি, ফসল ও খাদ্যে pesticide residue-এর নিয়মিত surveillance চালু করা।
সপ্তমত: নিবন্ধন, আমদানি, বিক্রয় ও মাঠপর্যায়ের ব্যবহার—পুরো চেইনকে digital traceability-এর আওতায় আনা।
WHO-এর pesticide legislation guidance-ও শুধু আইন নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, registration ব্যবস্থা, inspector training, low-risk products-এর availability এবং IPM incentive-এর ওপর গুরুত্ব দেয়।
সবচেয়ে বড় ভুল হবে “এক রাসায়নিকের বদলে আরেক রাসায়নিক”
একটি herbicide বন্ধ করে আরেকটি herbicide একই মাত্রায় ব্যবহার করা হলে কৃষি ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন হবে না।
আমাদের লক্ষ্য হতে হবে—
“কম রাসায়নিক, সঠিক রাসায়নিক, সঠিক সময়ে—আর যেখানে সম্ভব, কোনো রাসায়নিক নয়।”
এটাই আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনার মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শেষ কথা
বাংলাদেশে কৃষককে প্যারাকোয়েট বা glyphosate-এর ওপর নির্ভরশীল রেখে নিরাপদ কৃষি গড়ে তোলা সম্ভব নয়—আবার রাতারাতি সব herbicide বন্ধ করে দিলেও কৃষকের উৎপাদন ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই প্রয়োজন পরিকল্পিত রূপান্তর।
কৃষককে বিকল্প দিতে হবে।
যন্ত্র দিতে হবে।
প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
স্থানীয় গবেষণা বাড়াতে হবে।
নিরাপদ নিবন্ধিত উপকরণ সহজলভ্য করতে হবে।
এবং মাটি, পানি ও খাদ্যে residue-এর নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশের কৃষিকে কীটনাশকমুক্ত করার স্বপ্ন হয়তো একদিনে বাস্তব হবে না। কিন্তু উচ্চঝুঁকির রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমন্বিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে যাওয়া আজই শুরু করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: World Health Organization (WHO), Food and Agriculture Organization (FAO), International Rice Research Institute (IRRI), Bangladesh Rice Research Institute (BRRI)-সম্পর্কিত গবেষণা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), U.S. Environmental Protection Agency (EPA), International Agency for Research on Cancer (IARC)।
সম্পাদকীয় নোট: বাংলাদেশে প্যারাকোয়েট ও glyphosate-এর বর্তমান নিবন্ধন বা লাইসেন্সের মেয়াদ সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে পৃথকভাবে নিশ্চিত দাবি করা হয়নি; বিষয়টি DAE-এর সর্বশেষ সরকারি রেজিস্ট্রেশন নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।




