দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বুধবার, ১৪ অক্টোবর রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ নভেম্বর নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
সুপারিশের চেয়ে নিয়োগ কম ১০৫ জনের
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৮০৭ জনকে সুপারিশ করেছিল। কিন্তু প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পেয়েছেন ১ হাজার ৭০২ জন। অর্থাৎ পিএসসির সুপারিশের তুলনায় ১০৫ জন কম নিয়োগ পেয়েছেন।
কেন এই ১০৫ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বাদ পড়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ২৬৬ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭১ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন রয়েছেন। অন্যরাও বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নবম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই গ্রেডে মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যথাযথ কারণ বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত দিনে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগে অনিচ্ছুক বলে গণ্য করা হতে পারে এবং নিয়োগ বাতিল হবে।
প্রবেশনারি মেয়াদ ও প্রশিক্ষণ
নতুন কর্মকর্তাদের দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল বা প্রবেশনারি মেয়াদে থাকতে হবে। প্রয়োজনে এ মেয়াদ আরও দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। তাঁদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও সংশ্লিষ্ট ক্যাডারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
৪৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের ৮ জুলাই মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন পেতে প্রার্থীদের আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের পর এখন তাঁদের সামনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান ও প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)




