Homeশোবিজ টুডেব্রিটিশ র‍্যাপার সোয় ৪৪ বছর বয়সে মারা গেলেন

ব্রিটিশ র‍্যাপার সোয় ৪৪ বছর বয়সে মারা গেলেন

২০০৫ সালে আনসাইন্ড শিল্পী হিসেবে মবোর হিপ-হপ পুরস্কার জিতে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সঙ্গীতশিল্পী, প্রযোজক ও শিল্পী গড়ার মানুষ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিক অঙ্গনে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন সোয়।

লন্ডন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিটিশ র‍্যাপার সোয় (Sway) ৪৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার প্রকৃত নাম ডেরেক সাফো। তিনি ঘানায় নিজের বাড়িতে মারা যান বলে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন। মৃত্যুর কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

১৯৮২ সালে উত্তর লন্ডনে জন্ম নেওয়া সোয় ব্রিটিশ হিপ-হপ, গ্রাইম এবং ড্রাম অ্যান্ড বেস—বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতকে নিজের স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়েছিলেন। গল্প বলার ক্ষমতা, শব্দের ব্যবহার এবং নিজস্ব প্রযোজনা কাঠামোর জন্য তিনি অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠেছিলেন।

আনসাইন্ড শিল্পী হিসেবেই বড় স্বীকৃতি

সোয়য়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা ২০০৫ সালের মবো অ্যাওয়ার্ড। তখনও তিনি কোনো বড় রেকর্ড লেবেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন না। সেই অবস্থায় সেরা হিপ-হপ অ্যাক্টের পুরস্কার জিতে তিনি ইতিহাস তৈরি করেন।

পরের বছর স্বাধীনভাবে প্রকাশ করেন তার প্রথম অ্যালবাম ‘দিস ইজ মাই ডেমো’। অ্যালবামটি ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং মার্কারি প্রাইজের জন্য মনোনয়নও লাভ করে।

তার গান ‘লিটল ডেরেক’ এবং ‘স্টিল স্পিডিন’ ব্রিটিশ মিউজিক চার্টে পরিচিতি পায়। তবে শুধু নিজের গান নয়, নতুন শিল্পীদের সামনে আনার ক্ষেত্রেও সোয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পী থেকে মেন্টর

নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডাইসাইফা প্রোডাকশনের মাধ্যমে সোয় একাধিক তরুণ শিল্পীকে সুযোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেএসআইয়ের মতো নামও রয়েছে, যিনি পরবর্তীতে ইউটিউব ও বিনোদন জগতে বড় পরিচিতি পান।

রিজ আহমেদ, এড শিরান, কানও এবং একনের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও হয়েছিল সোয়ের। ফলে তার ক্যারিয়ার শুধু ব্রিটিশ র‍্যাপ দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; আন্তর্জাতিক সঙ্গীতাঙ্গনেও তার কাজ পৌঁছেছিল।

তিনি টেলিভিশন ও অভিনয়েও সীমিতভাবে কাজ করেন। নেটফ্লিক্সের ‘টপ বয়’ সিরিজেও তাকে দেখা যায়।

মৃত্যুর খবরে শ্রদ্ধা

সোয়য়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ব্রিটিশ সঙ্গীত অঙ্গনে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সহকর্মী ও ভক্তরা তাকে এমন একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছিলেন এবং বড় মিউজিক লেবেলের বাইরে থেকেও স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।

তার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শিল্পী-স্বাধীনতা। নিজের প্রযোজনা, লেখালেখি ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছিলেন, মূলধারার বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকেও একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার তৈরি করা সম্ভব।

সোয়য়ের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অনুমান করার সুযোগ নেই। তবে তার রেখে যাওয়া সঙ্গীত এবং নতুন শিল্পীদের জন্য তৈরি করা প্ল্যাটফর্ম ব্রিটিশ হিপ-হপ সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।

তথ্যসূত্র: The Guardian, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments