Homeনাগরিক দর্পণবসুন্ধরা সিটির ‘অলংকার নিকেতন’ থেকে ৯৪ কোটির স্বর্ণ লুট: সেলসম্যান স্বপন গ্রেপ্তার

বসুন্ধরা সিটির ‘অলংকার নিকেতন’ থেকে ৯৪ কোটির স্বর্ণ লুট: সেলসম্যান স্বপন গ্রেপ্তার

১৫ হাজার টাকা বেতনের আড়ালে ৫ বছরে ৭ হাজার ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ; ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

ঢাকা | ১৪ মে ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ‘অলংকার নিকেতন’ নামক একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাককে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (১২ মে) তেজগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিশ্বাসভঙ্গ করে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

৫ বছরে ৭ হাজার ভরি স্বর্ণ গায়েব

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অলংকার নিকেতনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছেলে দাইয়ান আজাদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় এই মামলাটি করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্বপন বসাক এবং তাঁর সহযোগীরা মিলে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে এই স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা

বিলাসবহুল জীবন ও বিপুল সম্পদ

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্বপন বসাক মাসিক মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে বিক্রয়কর্মী (সেলসম্যান) হিসেবে কাজ করতেন। তবে এই সামান্য আয়ের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সম্পদের পাহাড়। সিআইডি তাঁর আয়কর নথি ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখতে পায়:

  • তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিপুল ও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
  • নিজের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
  • পুঁজিবাজারে (শেয়ার বাজার) রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকার শেয়ার।
  • রাজধানীর একটি এলাকায় ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও পার্কিংয়ের মালিক তিনি।
  • তাঁর আয়কর নথিতেও পাওয়া গেছে ৫০ ভরি স্বর্ণের তথ্য।

💬 তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

“সিআইডির পরিদর্শক মুহিতুলের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে স্বপন বসাককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় এর আগেও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা স্বপন বসাককে রিমান্ডে নিয়ে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করছি।”
জয়নাল আবেদীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি), সিআইডি ঢাকা মেট্রো পশ্চিম।

🔎 বিশ্লেষণ: নজরদারির গলদ ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র
একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের কেনাবেচা ও স্টকের হিসাব হওয়ার কথা থাকলেও টানা পাঁচ বছর ধরে কীভাবে একজন সেলসম্যান এত বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ সরাতে সক্ষম হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অভ্যন্তরীণ অডিট বা স্টক যাচাইয়ের ত্রুটিকেই কাজে লাগিয়েছেন স্বপন বসাক।

📊 এক নজরে মামলার তথ্য

বিবরণতথ্য
প্রতিষ্ঠানের নামঅলংকার নিকেতন, বসুন্ধরা সিটি।
প্রধান অভিযুক্তকৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক (গ্রামের বাড়ি: মানিকগঞ্জ)।
আত্মসাতের পরিমাণ৭,৫৫০ ভরি স্বর্ণ।
বাজারমূল্য৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মামলার বাদীদাইয়ান আজাদ (মালিকের ছেলে)।

উপসংহার: সিআইডি জানায়, স্বপন বসাককে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের ধরতেও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিআইডি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments