বিনোদন ও সংস্কৃতি প্রতিবেদক
স্বাধীনতা যোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলু মারা গেছেন। রোববার, ১৮ অক্টোবর সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের ছোট বোন।
মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসারির হাসপাতালে দায়িত্ব পালন
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদা কামাল তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে কাজ করেছিলেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দেওয়ার কাজে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কমান্ডার-ইন-চিফস স্পেশাল কমেন্ডেশন’ সম্মাননা পান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর এই ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে শিল্পচর্চা—দুই ক্ষেত্রেই তিনি পরিচিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। নিউমোনিয়া ও কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাও ছিল। মৃত্যুর আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল।
চারুশিল্পে শিক্ষা ও কাজ
সাঈদা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পড়াশোনা করেন। পরে ভারতের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নকশা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর আঁকা শিল্পকর্ম দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি তিনি এমন একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন, যাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্য, শিল্প ও সামাজিক আন্দোলনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মা সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত কবি ও নারী অধিকার আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। বড় বোন সুলতানা কামালও মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।
দাফনের প্রস্তুতি
সাঈদা কামালের মরদেহ ঢাকার বারডেম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যে থাকা তাঁর মেয়ের দেশে ফেরার পর মঙ্গলবার আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, চারুশিল্প এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত একজন মানুষের জীবনাবসান ঘটল। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেবামূলক কাজ ও শিল্পচর্চা—দুটি পরিচয়ই তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, পরিবারের বক্তব্য।




