Homeটুডে নেশনরিয়াদে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু: সতর্কবার্তা ছিল, ঢাকার প্রস্তুতি কোথায়?

রিয়াদে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু: সতর্কবার্তা ছিল, ঢাকার প্রস্তুতি কোথায়?

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এবং আরও চার বাংলাদেশির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার খবর শুধু শোক প্রকাশের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: বিপদের পূর্বাভাস যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আসছিল, কয়েকটি বিদেশি বিমান সংস্থা যখন রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করছিল, তখন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১১ অক্টোবর জানিয়েছেন, আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। সরকার নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয় বহনের কথাও জানিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ঘটনার পর সহায়তা দেওয়া আর ঘটনা ঘটার আগেই নাগরিকদের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা—এই দুটি এক বিষয় নয়। প্রথমটি মানবিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব; দ্বিতীয়টি সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানোর জন্য রাষ্ট্রের প্রতিরোধমূলক দায়িত্ব।

বিপদের সংকেত কি আগে থেকেই ছিল না?

ছিল। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। ৫ অক্টোবর সৌদির আল-খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী মো. সজিব হোসেন নিহত হন বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। অর্থাৎ রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগেই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকির বাস্তব নজির সামনে এসেছিল।

এরপর ৮ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে নতুন করে হামলা ও হুতিদের হুমকির প্রেক্ষাপটে জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ এবং ভারতের ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া ও আকাসা এয়ার রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসও ৯ অক্টোবর রিয়াদে ফ্লাইট স্থগিত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা সৌদি আরবের আকাশসীমা নিয়ে আগে জারি করা সতর্কতা আরও বিস্তৃত করে। বিমান চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংস্থা ওপসগ্রুপও সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

এসব পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে প্রতিটি সৌদি বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট একই মাত্রার ঝুঁকিতে ছিল। তবে এগুলো স্পষ্ট করে যে পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক ছিল না। বিশেষ করে একই বিমানবন্দরে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা, প্রাণহানি এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করা—এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ সরকারও ৯ অক্টোবর সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলার নিন্দা ও সংঘাত বন্ধের আহ্বান থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সৌদি আরবের ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলা বা অপ্রয়োজনীয় যাত্রা স্থগিত রাখার নির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল না। প্রকাশ্য তথ্যের এই ঘাটতি নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলতে হবে।

বিদেশি বিমান সংস্থা সিদ্ধান্ত নিল, বাংলাদেশ কেন আগাম সতর্ক করল না?

ভারত, পাকিস্তান ও জার্মানির বিমান সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত দেখায়, বিমান চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো ফ্লাইট স্থগিত করতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা, উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট দেশের নির্দেশনা এবং নিজস্ব নিরাপত্তামূল্যায়ন—এসব বিষয় বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার পর ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যেতে বলে। ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে মাসকাট ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসে। পরে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে একাধিক ফ্লাইট বাতিলের খবর জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এখানে একটি পার্থক্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কোন ফ্লাইট চালু থাকবে, তা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয় না; বিমান সংস্থা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের ভ্রমণ-সতর্কতা দেওয়া, দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকি বাড়লে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় করার দায়িত্ব সরকারের।

সুতরাং প্রশ্নটি শুধু, “বিমান কেন চলল?” নয়। প্রশ্নটি আরও বড়: যখন ঝুঁকি বাড়ছিল, তখন বাংলাদেশ কি সময়মতো নিজস্ব নিরাপত্তামূল্যায়ন করে নাগরিকদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিল? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত।

নিহত দুই বাংলাদেশি কি ওই দিনই বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব গিয়েছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। দুই বাংলাদেশি রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়েছেন—এ তথ্য নিশ্চিত হলেও তাঁরা হামলার দিন বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করেছিলেন, নাকি আগে থেকেই সৌদি আরবে বসবাস বা কাজ করতেন, তা নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়নি। তাঁদের পেশা ও বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার কারণও প্রকাশ্যে পুরোপুরি জানা যায়নি।

তাই তাঁদের নতুন করে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে এই অনিশ্চয়তা সরকারের দায়িত্বের প্রশ্নকে বাতিল করে না। তাঁরা যদি দীর্ঘদিনের প্রবাসী হয়ে থাকেন, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর যদি নতুন কর্মী বা যাত্রী হিসেবে সেখানে যাওয়ার পথে থাকতেন, তাহলে যাত্রার আগে কী তথ্য তাঁদের দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের নিয়োগকর্তা ও বিমান সংস্থা কী জানিয়েছিল এবং সরকারি সতর্কতা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে, বিমানবন্দর বা সৌদি আরবের অন্য কোনো স্থানে থাকা বাংলাদেশিরা যেন নিজেদের নিরাপদ মনে করে ঝুঁকির তথ্য উপেক্ষা না করেন, সে জন্য সরকারি নির্দেশনা স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হওয়া জরুরি।

এখনই সরকারের কী করা উচিত?

প্রথম কাজ হওয়া উচিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি জরুরি, প্রকাশ্য ও নিয়মিত হালনাগাদ নিরাপত্তা-সতর্কতা জারি করা। কোন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু, কোথায় কার্যক্রম বন্ধ, কোন রুটে নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি এবং কোন পরিস্থিতিতে যাত্রা স্থগিত রাখা উচিত—এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শও বিবেচনা করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল বার্তা, কমিউনিটি সংগঠন, শ্রমিকনেতা ও নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সতর্কতা ছড়িয়ে দিতে হবে। বিপদের সময় কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কোন সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে কীভাবে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং জরুরি সহায়তার জন্য কোথায় যোগাযোগ করতে হবে—এসব তথ্য এক জায়গায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে নতুন কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করতে হবে। নির্দিষ্ট গন্তব্য বা রুটে ঝুঁকি গুরুতর হলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তামূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বা স্থগিত করা যায় এমন যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন, ফেরত ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা পরিষ্কার করতে হবে।

চতুর্থত, সরকারকে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিৎসা-সহায়তা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিয়মিত হালনাগাদ জানাতে হবে। তাঁদের পরিবার যেন খবরের জন্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য না হয়। ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্য বাংলাদেশিদেরও শনাক্ত করে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে।

পঞ্চমত, একটি আন্তমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা প্রয়োজন—কোন তারিখে কী সতর্কতা জারি হয়েছিল, কোন কোন বিদেশি বিমান সংস্থা কখন ফ্লাইট স্থগিত করে, বাংলাদেশি সংস্থাগুলো কখন সিদ্ধান্ত নেয় এবং যাত্রীদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না। যদি সমন্বয়ের ঘাটতি বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া যায়, তার ব্যাখ্যা ও সংশোধনী ব্যবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

সব সৌদি বিমানবন্দরকে কি যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করা উচিত?

এখানে আবেগের পাশাপাশি সতর্ক ভাষাও দরকার। হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এই হুমকিকে সরাসরি সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষিত হয়েছে—এভাবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। একইভাবে রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে—এমন দাবির পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যর্থ হওয়া গুরুতর উদ্বেগের বিষয়, কিন্তু তা থেকেই পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে না বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

বাংলাদেশের উচিত গুজবের ভিত্তিতে নয়, ঝুঁকির প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত সতর্কতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকাও ঠিক হবে না। জীবনহানির সম্ভাবনা গুরুতর হলে সাময়িক সতর্কতা ও অপ্রয়োজনীয় যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ দিতে পারে সরকার; পরিস্থিতি বদলালে তা নতুন করে পর্যালোচনা করা যায়।

এখানে সৌদি, বাংলাদেশি বা মার্কিন—কোনো নাগরিকের মৃত্যুকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা সবার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক হলেই তাঁদের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।

শোকবার্তার বাইরে চাই প্রতিরোধমূলক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব

রিয়াদের হামলায় বাংলাদেশিদের মৃত্যু আবারও দেখিয়ে দিল, বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের নিরাপত্তা শুধু দূতাবাসের প্রশাসনিক কাজ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পররাষ্ট্রনীতি, শ্রমবাজার, বিমান চলাচল, জরুরি সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি। কোনো বাংলাদেশি বিদেশে বিপদে পড়ার পর উদ্ধার, চিকিৎসা কিংবা মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি; কিন্তু তার আগেই ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ঠেকানোর সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ সরকারকে এখনই একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত—ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ ও অন্যান্য আক্রান্ত গন্তব্যের ফ্লাইট পরিস্থিতি যাচাই না করে কেউ যেন বিমানবন্দরে রওনা না হন। সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদেরও দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। কোন গন্তব্যে কতটা ঝুঁকি, কোন ফ্লাইট চালু কিংবা বাতিল এবং কখন যাত্রা করা নিরাপদ—এই তথ্য নির্ভরযোগ্য সরকারি চ্যানেলে নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এবং চারজনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার খবরের পর এখন আর শুধু নিন্দা বা শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সতর্কতা, দ্রুত সমন্বয়, নাগরিকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং কী করা হয়েছিল—তার পরিষ্কার জবাব।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু শ্রমবাজারের পরিসংখ্যান নন; তাঁরা এই রাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ঝুঁকি যখন স্পষ্ট, তখন সময়মতো সতর্ক করা কেন হলো না—এই প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ সরকারকে দিতেই হবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ডন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments