২০২৭ সালের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজে প্রায় ২৫২ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, এনসিটিবির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে দুদকের একটি দল।
কী নিয়ে তদন্ত
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার জন্য নির্ধারিত আনুমানিক মূল্য আগেই কিছু ঠিকাদারের কাছে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। পরে সেই মূল্য বাড়িয়ে নেওয়া এবং বাড়তি সুবিধা বিভিন্ন ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের দল এনসিটিবি থেকে প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের নথি, সরকারি মূল্যতালিকা এবং এনসিটিবির ৪২৩তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী সংগ্রহ করেছে। এসব নথি যাচাইয়ের পর কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
৭৫ মুদ্রণ মালিকের আবেদন
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পাঠ্যবই ছাপার জন্য দরপত্র আহ্বান শুরু হয় জুনের শুরুতে। প্রাক-প্রাথমিক ও এবতেদায়ি শ্রেণির বইয়ের জন্য ২ জুন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৩ জুন এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের জন্য যথাক্রমে ৭ ও ৯ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এ সময় ৭৫ জন মুদ্রণশিল্প মালিক নির্ধারিত আনুমানিক মূল্য বাড়ানোর আবেদন করেন। এনসিটিবির বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে তাদের আবেদনের পর মূল্য সংশোধনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগই
তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দুদকের তদন্তের লক্ষ্য হলো মূল্য নির্ধারণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সরকারি অর্থের বাড়তি ব্যয় কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো সমন্বয় বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।
বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রতিবছর দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই ছাপার ব্যয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ শুধু সরকারি অর্থের বিষয় নয়, এর সঙ্গে শিক্ষা খাতের অর্থ ব্যবস্থাপনাও জড়িত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনভিত্তিক সংবাদ ; দ্য নিউ এজ ।




