বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চলমান চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়েছে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান
৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, আফগানিস্তানকে বাদ দিলে বাংলাদেশই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধির মুখে থাকা দেশ।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতি তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দারিদ্র্যও বাড়ছে
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার সঙ্গে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যসীমা বিবেচনায় দেশে দারিদ্র্যের হার গত অর্থবছরে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। কর্মসংস্থানের স্থবিরতা ও নারীদের কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও ব্যাংক খাতেও চাপ
দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা বাধা রয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংক খাতের সুশাসন এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান পূর্বাভাস বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। অর্থনীতির বড় সূচকগুলোতে চাপ তৈরি হলে এর প্রভাব কর্মসংস্থান, আয়, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ; বাংলা ট্রিবিউন, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটভিত্তিক প্রতিবেদন ; প্রথম আলো ।




