দেশের হাম পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু ১ হাজার ১০৮ জনে পৌঁছেছে।
বাড়ছে সন্দেহভাজন রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২২১টি সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১।
একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫২০ জন।
হাসপাতালে ভর্তি বিপুলসংখ্যক শিশু
১৫ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হামের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭ জন। অন্যদিকে একই সময় নতুন করে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০১।
টিকাদান ও নজরদারি জরুরি
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের জ্বর, শরীরে র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের চিহ্নিত করা এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে ; রয়টার্স ; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর




