Homeটুডে হেলথযুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত ওষুধে শুল্ক ছাড় পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে নতুন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত ওষুধে শুল্ক ছাড় পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে নতুন সুযোগ

১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের নতুন ব্যবস্থার মধ্যেও নির্দিষ্ট ওষুধ ও কাঁচামাল ছাড়ের তালিকায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার সময় বাংলাদেশসহ ২০টি দেশকে নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত যোগ্য বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ছাড় প্রযোজ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিতে সব ধরনের ওষুধ একইভাবে আওতাভুক্ত নয়। নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ, বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পণ্য, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক চিকিৎসা, ফার্টিলিটি চিকিৎসা, সেল ও জিন থেরাপির কিছু পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোন বাংলাদেশি পণ্য এই তালিকায় পড়বে, তা পণ্যভিত্তিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নির্দিষ্ট পণ্যে বাড়তি শুল্ক না বসলে এসব পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত ওষুধ ও নির্দিষ্ট কাঁচামালের ক্ষেত্রে শুল্ক খরচ কম থাকা রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তবে এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের পুরো ওষুধ রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্তির ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। ছাড় নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য ও উপকরণের জন্য এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন নিয়ম ও পণ্যের যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য থাকবে। ফলে কোন কোন বাংলাদেশি কোম্পানি বা পণ্য সরাসরি সুবিধা পাবে, তা আলাদা করে নির্ধারিত হবে।

বৈশ্বিক ওষুধবাজারে নতুন বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কনীতি বিশ্ব ওষুধ বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন একদিকে দেশে ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে চায়, অন্যদিকে বিরল রোগ বা বিশেষ চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কিছু দেশের পণ্যে ছাড় দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়প্রাপ্ত তালিকার আওতায় থাকা পণ্য চিহ্নিত করা, উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো। কারণ শুল্ক সুবিধা থাকলেও উচ্চমানের ওষুধের জন্য মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।
নতুন এই সিদ্ধান্ত তাই বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য একটি সম্ভাব্য বাজারসুবিধা তৈরি করেছে। তবে এর প্রকৃত আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে কোন পণ্য কত পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা যায় তার ওপর।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নোটিশ; বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments