ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো—পুলিশের দাবি; দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখন ডিবির হাতে
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে থাকার সময় বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে তারা। ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাদের ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।
তদন্তে কী পাওয়া যাচ্ছে
মামলার তদন্ত এখন গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পরিচালনা করছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বিয়ের পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের কাছে জানিয়েছিলেন। এসব অভিযোগ মামলার নথিতে রয়েছে; তবে এগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত ঘটনা নয়।
২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন, সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে তার সম্পৃক্ততার বিষয় সামনে এসেছে এবং প্রয়োজন হলে পরে রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পরও তদন্ত চলমান রয়েছে। তাকে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কী হবে
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণের জন্য মৃত্যুর আগে-পরে ঘটনাপ্রবাহ, পারিবারিক সম্পর্ক, ডিজিটাল ও অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পরীক্ষা করতে হবে। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য—দুই দিকই তদন্তে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। কারণ মামলায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক বিষয় নয়।
এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ
রিমান্ড শেষ হওয়ার পর গাজী নজরুল কারাগারে থাকলেও মামলার তদন্ত থেমে নেই। ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা, মরিয়মের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ, ন্যাম ভবনের ঘটনাস্থলের তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মরিয়মের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার সঙ্গে মামলায় অভিযুক্তদের ভূমিকার কোনো সরাসরি যোগসূত্র ছিল কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া প্রমাণ ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য।




