চলতি বছরে মোট মৃত্যু ২৩৩, রোগী ৭৫ হাজার ৭৩০; চলতি মাসেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সেপ্টেম্বরের শেষভাগে আরও খারাপ হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন।
নতুন আট মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনেই মারা গেছেন ১৩৬ জন, যা চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মৃত্যু ছিল পাঁচজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন।
রোগী কত বেড়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩০ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২ হাজার ৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ডেঙ্গুর রোগী এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। সর্বশেষ আট মৃত্যুর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একটি করে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একটি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুটি মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন অঞ্চলে রোগের চাপ একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বর কেন এত কঠিন
আইইডিসিআর আগেই সতর্ক করেছিল, ডেঙ্গুর সংক্রমণ ৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেপ্টেম্বরের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও পরিস্থিতি উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। মশার প্রজননের পরিবেশ, বৃষ্টির পানি জমে থাকা এবং উষ্ণ আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সংক্রমণ কমানোর মূল কাজ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ড্রেন, নির্মাণস্থল এবং যে কোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
হাসপাতাল ব্যবস্থায় চাপ
এক দিনে দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা ও চিকিৎসক-নার্সের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সময়ে দেশে অন্যান্য সংক্রামক রোগের রোগীও থাকায় হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গুতে জ্বরের পরও রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হতে পারে। অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। সেপ্টেম্বরের বাকি দিনগুলোতে মৃত্যুহার ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কোন দিকে যায়, সেটিই এখন স্বাস্থ্য বিভাগের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ চলতি বছর এরই মধ্যে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাসে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; আইইডিসিআর; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।




