আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তদন্ত; এমপির ৪ দিন ও প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর রাতে মামলাটি ডিবিতে দেওয়া হয়। এখন পুলিশ হেফাজতে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
১৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল, মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
আদালতের আদেশ
২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকেই সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদন আংশিক মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর আগে ও পরে কী ঘটেছিল, অভিযুক্তদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না এবং মামলায় উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। মামলার নথিতে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এমপির বক্তব্য
আদালতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, মরিয়মের মৃত্যুর সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে জানিয়েছেন, তদন্তে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে কিছু বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। মামলার অভিযোগপত্র বা এফআইআরে মরিয়মের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে এখনই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো বিতর্কও আলোচনায়
মামলার নথি ও প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজী নজরুল ও মরিয়মের সম্পর্ক নিয়ে জুলাই মাস থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছিল। ২০ জুলাই তাদের একটি ঘনিষ্ঠ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতে ইসলামী ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল মরিয়মকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২২ জুলাই দলটি তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
মরিয়মের মৃত্যুর পর ঘটনাটির আগের এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ভিডিও, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা দলীয় সিদ্ধান্ত—কোনোটিই নিজে থেকে মৃত্যুর কারণ প্রমাণ করে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
তদন্ত এখন কোন পথে
ডিবির কাছে তদন্তভার যাওয়ার ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ হবে আলামত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা যাচাই। মরদেহ উদ্ধারের পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল।
মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো আদালতের রায় এখনো নেই। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর যে তথ্য পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জাগোনিউজ২৪, পুলিশের বক্তব্য ও আদালতের আদেশ।




