Homeনাগরিক দর্পণ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার কোথায়? স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটের দাবিতে বড় অসঙ্গতি

৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার কোথায়? স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটের দাবিতে বড় অসঙ্গতি

একই গোষ্ঠীর দুই ওয়েবসাইটে একই হ্যাঙ্গার নিয়ে দুই রকম তথ্য—একটিতে বলা হচ্ছে হ্যাঙ্গার ‘ভবিষ্যতে’ হবে, অন্যটিতে বলা হচ্ছে সেটি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে পূর্ণমাত্রায় চালু; কিন্তু সেই স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান, সরকারি অনুমোদন ও স্বাধীন অস্তিত্বের প্রমাণ কোথায়?

টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ হাজার বর্গফুটের একটি আধুনিক উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার—যেখানে পূর্ণমাত্রায় রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রকৌশলসেবা চলছে—এমন দাবি করছে স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস। কিন্তু একই গোষ্ঠীর মূল প্রতিষ্ঠান স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল-এর ওয়েবসাইটে একই ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারকে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে ‘হবে’, অন্যদিকে ‘চলছে’—দুই বক্তব্যের এই অসঙ্গতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বড় প্রশ্ন: শাহজালাল বিমানবন্দরে সেই হ্যাঙ্গারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, সরকারি অনুমোদন, বরাদ্দপত্র, হ্যাঙ্গার নম্বর, স্থাপনার নির্ভরযোগ্য ছবি কিংবা তৃতীয় পক্ষের স্বতন্ত্র প্রমাণ কোথায়?

একই হ্যাঙ্গার—এক ওয়েবসাইটে ভবিষ্যৎ, অন্যটিতে বর্তমান

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ হাজার বর্গফুটের একটি উড়োজাহাজ হ্যাঙ্গার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। সেখানে এটিকে ভবিষ্যৎ সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১ লাখ বর্গফুটের একটি সুবিধা বর্তমানে চালু থাকার দাবিও করা হয়েছে। অন্যদিকে স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের ৫২ হাজার বর্গফুটের একটি ‘স্টেট-অব-দ্য-আর্ট’ হ্যাঙ্গার বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রকৌশলসেবা দিচ্ছে। অর্থাৎ একই গোষ্ঠীর দুই ওয়েবসাইটে একই ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার নিয়ে দুটি ভিন্ন দাবি: একটি ভবিষ্যৎ প্রকল্প, অন্যটি বর্তমানের চালু স্থাপনা। এটি সামান্য ভাষাগত পার্থক্য নয়। একটি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘পরিকল্পিত হ্যাঙ্গার’ এবং ‘বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় চালু হ্যাঙ্গার’—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি।

স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের সম্পর্ক

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ওয়েবসাইটে স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসকে তাদের বিমান চলাচল বিভাগের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে দুই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে আলাদা দুটি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। একই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর একটি ওয়েবসাইটে যে স্থাপনাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলা হচ্ছে, অন্য ওয়েবসাইটে সেটিই বর্তমান কার্যক্রম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সেখান থেকেই অনুসন্ধানের মূল প্রশ্নটি তৈরি হয়—কোন বক্তব্যটি সঠিক?

৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা কোথায়?

স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী তাদের অবস্থান হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের সুনির্দিষ্ট নম্বর, টার্মিনাল বা অ্যাপ্রন-সংলগ্ন অবস্থান, প্লট নম্বর, ইজারা বা বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৫২ হাজার বর্গফুটের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার কোনো সাধারণ ছোট স্থাপনা নয়। এমন একটি স্থাপনার সঙ্গে ভূমি বা অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি অনুমোদন, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক নথিপত্র থাকার প্রত্যাশা স্বাভাবিক। সুতরাং প্রশ্নটি খুব নির্দিষ্ট: স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের সরকারি নথি কোথায়?

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি?

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এএনও (এডব্লিউ) পার্ট-১৪৫ কাঠামোর অধীনে অনুমোদিত রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, অনুমোদনের পরিধি এবং প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই কাঠামো ব্যবহৃত হয়। এ কারণে স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস যদি সত্যিই শাহজালাল বিমানবন্দরে পূর্ণমাত্রায় বিমান রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার পরিচালনা করে, তাহলে স্বাভাবিক অনুসন্ধানের প্রশ্ন হবে—তাদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নম্বর কী এবং সেই অনুমোদনের আওতাধীন স্থাপনার ঠিকানা কোথায়? টুডে টিভি বিডির প্রকাশ্য অনলাইন অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের কথিত ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের এমন কোনো স্বাধীন সরকারি নথি পাওয়া যায়নি, যা দেখে স্থাপনাটির অবস্থান ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়। তবে সরকারি ওয়েবসাইটের সব নথি অনলাইনে উন্মুক্ত বা সার্চযোগ্য নাও হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভুল বক্তব্য হলো—প্রকাশ্য অনলাইন সরকারি তথ্য থেকে দাবিটির স্বাধীন যাচাই করা যাচ্ছে না।

হ্যাঙ্গার থাকলে তার দৃশ্যমান ও প্রশাসনিক ছাপ থাকার কথা

স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস দাবি করছে, তাদের হ্যাঙ্গার বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় কাজ করছে। তাহলে আরও কয়েকটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। কোন কোন উড়োজাহাজ সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে? কোন কোন এয়ারলাইন বা উড়োজাহাজ মালিক তাদের গ্রাহক? কতজন অনুমোদিত প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী সেখানে কাজ করেন? কোন ধরনের উড়োজাহাজে রক্ষণাবেক্ষণের অনুমোদন রয়েছে? সম্প্রতি কোন কোন উড়োজাহাজ সেখানে কাজ করিয়েছে? হ্যাঙ্গারে প্রবেশকারী উড়োজাহাজের কোনো রেকর্ড আছে কি? এসবের যেকোনো একটি নির্ভরযোগ্য দলিল দেখানো গেলেই দাবিটির বড় অংশ যাচাই করা সম্ভব।

ওয়েবসাইটের ছবি কি হ্যাঙ্গারের অস্তিত্ব প্রমাণ করে?

স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটে উড়োজাহাজ ও বিমান চলাচল-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি রয়েছে। কিন্তু কোনো ছবিকেই এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না, যেখানে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে সেটিই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার। একটি উড়োজাহাজের ছবি বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাধারণ ছবি একটি প্রতিষ্ঠানের বিমান ব্যবসার দাবি দেখাতে পারে। কিন্তু সেটি শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব সক্রিয় হ্যাঙ্গারের প্রমাণ নয়। এই দাবিকে সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন হ্যাঙ্গারের এমন ছবি, যেখানে স্থাপনার পরিচয়, অবস্থান ও সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব।

১ লাখ বর্গফুটের সুবিধাটিও কোথায়?

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ওয়েবসাইটে ৫২ হাজার বর্গফুটের ভবিষ্যৎ হ্যাঙ্গারের পাশাপাশি ১ লাখ বর্গফুটের একটি সুবিধা বর্তমানে চালু থাকার কথাও বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, সেই ১ লাখ বর্গফুটের সুবিধার অবস্থান কোথায়? সেটি কোন দেশের কোন বিমানবন্দরে? জমি কার? সেখানে কী ধরনের বিমান চলাচল-সংক্রান্ত কার্যক্রম হয়? কারা সেখানে কাজ করেন? কোন কর্তৃপক্ষ সেটিকে অনুমোদন করেছে? একটি কোম্পানি যখন নিজের সক্ষমতার অংশ হিসেবে বড় অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করে, তখন সেসব স্থাপনার অবস্থান ও কার্যক্রম যাচাই করার সুযোগ থাকা জরুরি।

স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস কি তাহলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান?

এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এখনই যাওয়া যাবে না। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট আছে, করপোরেট পরিচয় আছে, ব্যবস্থাপনা কাঠামোর তথ্য আছে এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের কিছু তৃতীয় পক্ষের উল্লেখও পাওয়া যায়। ফলে ‘কোম্পানি নেই’ বলা তথ্যগতভাবে অতিরঞ্জিত হবে। কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। কোম্পানি থাকলেই তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা প্রতিটি অবকাঠামোও বাস্তবে আছে—এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। এখানে নির্দিষ্ট দাবি হলো—শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর। এই নির্দিষ্ট দাবিটির স্বাধীন প্রমাণই এখনো জনসম্মুখে স্পষ্ট নয়।

এটি কি বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে?

ওয়েবসাইটে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য থাকলেই সেটিকে সরাসরি ‘বিনিয়োগ প্রতারণা’ বলা আইনগতভাবে ঠিক হবে না। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে দেখতে হবে—তথ্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ছিল কি না, কারও কাছ থেকে অর্থ বা বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং ওই তথ্যের সঙ্গে আর্থিক সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না। তবে একটি বিষয় অবশ্যই গুরুতর: কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার বা গ্রাহকের কাছে নিজের অবকাঠামোগত সক্ষমতা সম্পর্কে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে, তাহলে সেটি করপোরেট স্বচ্ছতা ও ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। আর এখানে একই গোষ্ঠীর দুই ওয়েবসাইটে একই হ্যাঙ্গার সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে—এটাই অনুসন্ধানের যথেষ্ট কারণ।

সেতু প্রকল্পের সঙ্গে একই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাও কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল বড় অবকাঠামো প্রকল্পেও স্থানীয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় সেতু প্রকল্পে অংশীদারত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজের করপোরেট সক্ষমতা ও অবকাঠামো সম্পর্কে যে তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করছে, তার নির্ভুলতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সেতু প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং বিমান হ্যাঙ্গারের দাবির মধ্যে সরাসরি কোনো অনিয়মের সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার মতো তথ্য এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। দুটি বিষয় আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

আমাদের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত যা স্পষ্ট

প্রথমত, স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস নিজেই দাবি করছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় কাজ করছে। দ্বিতীয়ত, স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ওয়েবসাইট একই ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারকে ভবিষ্যতে স্থাপনের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করছে। তৃতীয়ত, স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ওয়েবসাইটে ১ লাখ বর্গফুটের আরেকটি সুবিধা বর্তমানে চালু থাকার দাবিও রয়েছে। চতুর্থত, প্রকাশ্য অনলাইন তথ্যের মধ্যে হ্যাঙ্গারের সুনির্দিষ্ট নম্বর, অবস্থান, বরাদ্দ বা ইজারা এবং পূর্ণমাত্রায় পরিচালনার স্বাধীন প্রমাণ স্পষ্ট নয়। পঞ্চমত, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য অনলাইন তথ্য থেকে এই নির্দিষ্ট হ্যাঙ্গারের অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই পাঁচটি তথ্য একসঙ্গে রাখলেই বোঝা যায়—এখানে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে।

এখন জবাব দেওয়ার পালা স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের

এই অনুসন্ধান কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য নয়; বরং জনসমক্ষে প্রকাশিত একটি বড় ব্যবসায়িক দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের জন্য। স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস চাইলে খুব সহজেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে। ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা কী? হ্যাঙ্গার নম্বর বা সরকারি পরিচিতি কী? বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নম্বর কী? হ্যাঙ্গার বরাদ্দ বা ইজারার সরকারি নথি কোথায়? কোন কোন উড়োজাহাজ সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে? কতজন অনুমোদিত প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী সেখানে কর্মরত? ২০২৬ সালে সেখানে সম্পন্ন হওয়া কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নথি কি দেখানো সম্ভব? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ওয়েবসাইটে ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারকে ‘ভবিষ্যৎ’ বলা হলেও স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটে সেটিকে ‘বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় চালু’ বলা হলো কেন? এই একটি প্রশ্নের উত্তরই হয়তো বর্তমান বিতর্কের বড় অংশ পরিষ্কার করে দিতে পারে।

টুডে টিভি বিডির অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ

আমাদের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গার আদৌ নেই—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে কোম্পানির ওয়েবসাইটের দাবিকে সত্য ধরে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—একই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর দুই ওয়েবসাইটে একই হ্যাঙ্গার সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। একটি জায়গায় সেটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। অন্য জায়গায় সেটি বর্তমানের পূর্ণমাত্রায় চালু স্থাপনা। ৫২ হাজার বর্গফুটের একটি বিমান হ্যাঙ্গার এমন কোনো ভার্চুয়াল সম্পদ নয়, যার অস্তিত্ব শুধু ওয়েবসাইটে লেখা থাকলেই প্রমাণ হয়ে যায়। স্থাপনা থাকলে তার অবস্থান থাকবে। অনুমোদন থাকলে তার নথি থাকবে। কার্যক্রম থাকলে তার রেকর্ড থাকবে। গ্রাহক থাকলে তার ব্যবসায়িক চিহ্ন থাকবে। সুতরাং এখন সবচেয়ে স্বাভাবিক দাবি একটাই— স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস তাদের কথিত ৫২ হাজার বর্গফুটের হ্যাঙ্গারের ঠিকানা, বাস্তব ছবি, সরকারি অনুমোদন, বরাদ্দ বা ইজারা-সংক্রান্ত নথি এবং সেখানে পরিচালিত বাস্তব রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করুক। এতে প্রতিষ্ঠানটি যেমন নিজেদের দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তেমনি জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও অবসান হবে। আর সেই প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ হাজার বর্গফুটের স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেস হ্যাঙ্গারটি আসলে কোথায়?

আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—

একই গোষ্ঠীর দুই ওয়েবসাইটে একই স্থাপনা নিয়ে দুই বিপরীত তথ্য কেন?

তথ্যসূত্র: স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের নিজস্ব ওয়েবসাইট, স্ট্যালিয়ন অ্যারোস্পেসের নিজস্ব ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য অনলাইন নথি ও বিধিমালা, বাংলাদেশ সেতু বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments