কোহাটে মসজিদে নামাজের সময় বিস্ফোরকভর্তি গাড়ির হামলা, ২০ ঘণ্টার অভিযান শেষে নিহত আট হামলাকারী
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার এএফপির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার পুলিশ কম্পাউন্ডে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ঢুকিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই সময় কম্পাউন্ডের ভেতরের একটি মসজিদে পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের লোকজন নামাজ পড়ছিলেন।
হামলার পর কম্পাউন্ডের ভেতরে বন্দুকধারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় আট হামলাকারী নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আত্মঘাতী বোমারু ছিল। হামলার ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন এবং আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও নামাজরত ব্যক্তিরাও ছিলেন।
পুলিশ পরিবারের লোকজনও ছিলেন কম্পাউন্ডে
ঘটনাটি ঘটে এমন একটি এলাকায়, যেখানে পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্যদের আবাসন এবং কার্যালয় রয়েছে। কম্পাউন্ডের ভেতরে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন স্থাপনা এবং কর্মকর্তাদের বাসস্থান ছিল। ফলে হামলার লক্ষ্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা।
প্রথম বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা কম্পাউন্ডে ঢুকে গুলি চালায় বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চলে। শেষ পর্যন্ত কম্পাউন্ডটি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।
হামলার পর নিহত পুলিশ সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
এখনো দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী
হামলার দায় এখনো কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জঙ্গি হামলার বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির সরকার প্রায়ই আফগানিস্তানে অবস্থানকারী জঙ্গি নেটওয়ার্ককে সীমান্তপার হামলার জন্য দায়ী করে। আফগান তালেবান সরকার অবশ্য এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
কোহাটের হামলার সঙ্গে ২০২৩ সালে পেশোয়ারের একটি পুলিশ কম্পাউন্ডের মসজিদে আত্মঘাতী হামলার তুলনা করা হচ্ছে। ওই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল। এবারের ঘটনাতেও পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের লোকজন একই স্থানে থাকার সময় হামলা হওয়ায় নিরাপত্তা স্থাপনার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩১। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং হামলার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। কোনো সংগঠন দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত হামলার পূর্ণ নেপথ্য ও উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), এএফপি।




