প্রথম গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার, ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা; ধাপে ধাপে পুরো সুবিধা মিলবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে। নতুন এই কাঠামো গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
নতুন পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। তবে গ্রেডভেদে মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রথম থেকে দশম গ্রেডে মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার গ্রেডভেদে আরও বেশি, সর্বোচ্চ বৃদ্ধি ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
একবারে নয়, তিন ধাপে বাড়তি বেতন
নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ওই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ পাবেন। এই অর্থ ৩০ জুন ২০২৬-এর আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত যে বকেয়া পাওনা তৈরি হয়েছে, সেটিও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন।
বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতায় সময় লাগবে
নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও সব ভাতা একই সময় থেকে পুরোপুরি বাড়ছে না। গেজেট অনুযায়ী নতুন হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এলাকাভেদে তখন মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা মাসে ৫০০ টাকা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য কিছু ভাতার বর্তমান হারও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নির্ধারিত ভাতার হার পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। একই সঙ্গে আগের বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করে তা বকেয়া বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
কারা এই কাঠামোর আওতায়
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সামরিক অংশ, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, দৈনিকভিত্তিক, আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এই আদেশের আওতায় পড়ছেন না। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে আইবিএএস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাবে প্রায় ২৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী নতুন এই বেতন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে বাড়তি সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় পুরো আর্থিক প্রভাবও ধাপে ধাপে পড়বে।
নতুন পে-স্কেলের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়লেও ভাতা ও পূর্ণ সুবিধা পেতে আরও সময় লাগবে। তাই এখন নজর থাকবে বকেয়া পরিশোধ, নতুন বেতন নির্ধারণ এবং তিন ধাপের বাস্তবায়ন কতটা নির্বিঘ্নে হয়, সেদিকে।
তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, দ্য ডেইলি ইত্তেফাক, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জাগোনিউজ২৪।




