প্রতি ব্যাগের সম্ভাব্য দাম ২০–২৪ টাকা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক ব্যবহারের প্রশ্ন এবং দীর্ঘ গবেষণার পর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটির নেতিবাচক মত; তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় আবারও দেখা গেছে, প্রযুক্তিটির উন্নতির সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি
ঢাকা | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাট থেকে তৈরি, দেখতে অনেকটা পলিথিনের মতো, আবার ব্যবহারের পর তুলনামূলক দ্রুত প্রকৃতিতে মিশে যাবে—একসময় বাংলাদেশের জন্য এমনই এক সম্ভাবনার নাম ছিল ‘সোনালি ব্যাগ’। পাটের সেলুলোজ ব্যবহার করে তৈরি এই জৈবভিত্তিক ব্যাগকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাজারে আনার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ গবেষণা, পাইলট উৎপাদন এবং কয়েক দফা উদ্যোগের পরও সেই স্বপ্ন বাস্তবে বড় বাজারে পৌঁছাতে পারেনি।
সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে সোনালি ব্যাগের গবেষণা প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। কমিটির মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে ব্যাগপ্রতি খরচ ২০ থেকে ২৪ টাকার মতো হতে পারে, যা সাধারণ বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করা কঠিন। পাশাপাশি গবেষণায় ব্যবহৃত রাসায়নিক নিয়ে মানবস্বাস্থ্যের প্রশ্নও তোলা হয়।
তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়। কারণ একই পণ্য নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক-অর্থনৈতিক গবেষণায় আবারও দেখানো হয়েছে, উৎপাদন প্রযুক্তি ও ব্যয় কাঠামো উন্নত করা গেলে সোনালি ব্যাগ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় হতে পারে। অর্থাৎ ‘প্রকল্প বন্ধ’ এবং ‘প্রযুক্তির সম্ভাবনা শেষ’—এই দুটি কথা এক নয়।
পাট থেকে প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরির ভাবনা
সোনালি ব্যাগের মূল উপাদান হলো পাট থেকে পাওয়া সেলুলোজ। পাটের আঁশে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও লিগনিনসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এর মধ্যে সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এমন একটি জৈবভিত্তিক উপাদান তৈরির চেষ্টা করা হয়, যেখান থেকে পাতলা শিট বা ফিল্ম তৈরি করা সম্ভব।
এই ধারণার সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খানের নাম বিশেষভাবে যুক্ত। তিনি পাটের সেলুলোজভিত্তিক জৈব পলিমার ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যাগ তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। ২০১৬ সালের দিকে আবিষ্কারটি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে পাইলট প্রকল্পও চালু হয়।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন বা BJMC যুক্তরাজ্যের Futamura Chemical Ltd.-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য সমঝোতা স্মারকও সই করেছিল। তখন কয়েক মাসের মধ্যে বাজারে উৎপাদন শুরু করার আশাবাদ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়নি।
কেন এত বছরেও বাজারে এল না?
সোনালি ব্যাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দুটি—দাম এবং উৎপাদন প্রযুক্তি।
পাটের সেলুলোজ বের করা, সেটিকে পরিবর্তিত করে water-soluble বা film-forming material বানানো, বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মেশানো এবং পরে শিট তৈরি করা—পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রচলিত পলিথিন উৎপাদনের তুলনায় জটিল।
২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, পাইলট প্ল্যান্টের তথ্য অনুযায়ী প্রতি কেজি সোনালি ব্যাগের উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ৫৬২ টাকা। তবে একই গবেষণায় উচ্চ উৎপাদন সক্ষমতায় প্রতি কেজি ৬০০ টাকা বা তার নিচে বিক্রি করেও লাভজনক থাকার সম্ভাবনা পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা যায়, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন হলে প্রতি ব্যাগের হিসাব আনুমানিক ৪ থেকে ৫ টাকার কাছাকাছি নামানো সম্ভব হতে পারে—অর্থাৎ বৃহৎ পরিসরের উৎপাদন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য রয়েছে। একদিকে ২০২৫ সালের সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটি ব্যাগের সম্ভাব্য খুচরা মূল্য ২০–২৪ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রকল্পটিকে বাজারে অকার্যকর মনে করেছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের গবেষণায় পাইলট উৎপাদনের অর্থনীতি দেখে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি উন্নত করা গেলে ব্যয় অনেকটা কমানোর সুযোগ আছে।
অর্থাৎ মূল প্রশ্নটি শুধু ‘ব্যাগ কত টাকায় তৈরি হচ্ছে’ নয়; বরং কোন প্রযুক্তি, কোন উৎপাদন স্কেল এবং কোন বাজার মডেলে তৈরি করা হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রাসায়নিক নিয়ে কেন তৈরি হলো বিতর্ক?
সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটির সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যগুলোর একটি ছিল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ১৫ থেকে ১৬ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি।
২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বাজারে ব্যাগটি ছাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবও এই কারণটিকে প্রকল্প বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
কিন্তু সোনালি ব্যাগের উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমদ খান এ দাবির সঙ্গে একমত নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সেলুলোজ থেকে ব্যাগ তৈরিতে কিছু রাসায়নিক উপাদান প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক; তবে সব কেমিক্যালই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর—এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এখানেই প্রয়োজন একটি বিষয় পরিষ্কার করা। কোনো রাসায়নিকের নাম শুনলেই তা ‘বিষাক্ত’ বা ‘নিরাপদ’ বলা যায় না। কোন রাসায়নিক কত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে, উৎপাদনের পর তা কতটা অবশিষ্ট থাকে, খাদ্য বা ত্বকের সংস্পর্শে গেলে কী ঘটে এবং আন্তর্জাতিক safety standard পূরণ করছে কি না—এসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
গবেষণার তথ্য বলছে, উন্নতির সুযোগ ছিল
সোনালি ব্যাগের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা একেবারে থেমে যায়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জুট সেলুলোজ থেকে তৈরি সোনালি ব্যাগে cellulose nanocrystal যোগ করে এর শক্তি, তাপ সহনশীলতা এবং পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট মাত্রায় cellulose nanocrystal ব্যবহার করলে উপাদানটির tensile strength বাড়ে এবং water resistance-ও উন্নত হয়।
অর্থাৎ প্রযুক্তিটির দুর্বলতা কোথায়, তা বুঝে material engineering-এর মাধ্যমে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো গবেষণা পরীক্ষামূলক অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত ফল না দিলেও তার উপাদান বা মূল প্রযুক্তি পরবর্তী গবেষণায় আরও উন্নত হতে পারে।
পরিবেশের জন্য তাহলে এর সম্ভাবনা কোথায়?
সোনালি ব্যাগের মূল আকর্ষণই হলো এর জৈবভিত্তিক উপাদান।
প্রচলিত পলিথিন পরিবেশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে এবং ড্রেন, খাল, নদী ও মাটিতে জমে নানা সমস্যা তৈরি করে। ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করার পেছনেও এই পরিবেশগত উদ্বেগ বড় কারণ ছিল।
অন্যদিকে সোনালি ব্যাগকে পাটের সেলুলোজভিত্তিক biodegradable material হিসেবে তৈরি করার লক্ষ্য ছিল। আগের গবেষণা ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিবেশে এটি তুলনামূলক দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখানে “পচনশীল” শব্দটির অর্থও বুঝতে হবে। কোনো উপাদান biodegradable হলেই সেটি সব পরিবেশে একই গতিতে ভেঙে যাবে—এমন নয়। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, মাটি, পানি, মাইক্রোবায়াল পরিবেশ এবং material composition-এর ওপর degradation rate নির্ভর করে।
পলিথিনের সঙ্গে আসল লড়াই দামেই
এখানে এসে সোনালি ব্যাগের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাটি সামনে আসে।
একটি সাধারণ পলিথিনের ব্যাগের দাম খুব কম। ফলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরি হলেও যদি সেটির দাম কয়েকগুণ বেশি হয়, তাহলে আইন বা সামাজিক চাপ ছাড়া মানুষ সহজে তা গ্রহণ করবে না।
২০২৪ সালের অর্থনৈতিক গবেষণায় অবশ্য দেখানো হয়েছে, উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন এবং উপাদান ব্যয়ের উন্নতি হলে সোনালি ব্যাগের দাম অনেক কমানো সম্ভব হতে পারে। গবেষণায় chemical component cost-কে উৎপাদন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সরকারি সহায়তায় খরচ কমার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব ব্যাগকে সফল করতে শুধু পণ্য ভালো হলেই হবে না; তার দামও বাজারের সঙ্গে লড়তে পারতে হবে।
১৯ কোটি টাকা গবেষণার পর থামল প্রকল্প
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোনালি ব্যাগের গবেষণায় দুই দফায় মোট প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রকল্পটিকে ফলপ্রসূ নয় বলে মত দিলে সরকার গবেষণা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
এটি বাংলাদেশের গবেষণা ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে—একটি গবেষণা প্রকল্প যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না দেয়, তাহলে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে, নাকি ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে নতুন কাঠামোয় আবার পরীক্ষা করা হবে?
কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণায় সব প্রকল্প সফল হয় না। অনেক সময় একটি ব্যর্থ পরীক্ষাই পরবর্তী সফল প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করে।
তাহলে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত কি ভুল ছিল?
এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন।
সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি যদি মনে করে থাকে যে বর্তমান প্রযুক্তি ও বর্তমান উৎপাদন ব্যয়ে পণ্যটি নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক নয়, তাহলে প্রকল্প বন্ধ বা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
কিন্তু একই সঙ্গে ২০২৪ সালের peer-reviewed গবেষণা যখন দেখাচ্ছে, ব্যয় ও material performance উন্নত করার সুযোগ রয়েছে, তখন প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাকে চিরতরে বাতিল করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও এখনই বলা যায় না। 3
এক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—সরকারি মূল্যায়নের কাঁচা data, ব্যবহৃত রাসায়নিকের toxicology report, production cost calculation এবং independent safety testing প্রকাশ করা।
বাংলাদেশের জন্য কেন বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদক দেশ এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো দেশের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য।
কাঁচা পাট বা প্রচলিত পাটপণ্যের বাইরে যদি পাটের সেলুলোজ থেকে biodegradable packaging material তৈরি করা যায়, তাহলে একই কাঁচামাল থেকে উচ্চমূল্যের নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে।
এতে পাটচাষি, জুট মিল, chemical industry, packaging sector এবং export market—সবগুলো ক্ষেত্রেই নতুন value chain তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর বাংলাদেশের মতো দেশে পলিথিন দূষণ কমাতে যদি স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক একটি কার্যকর বিকল্প পাওয়া যায়, সেটির পরিবেশগত মূল্যও কম নয়।
সোনালি ব্যাগের গল্প কি এখানেই শেষ?
সম্ভবত পুরোপুরি নয়।
একটি সরকারি প্রকল্প বন্ধ হতে পারে। কিন্তু একটি প্রযুক্তির গবেষণা থেমে যাওয়া এবং প্রযুক্তির বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া একই বিষয় নয়।
সোনালি ব্যাগের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে প্রয়োজন হতে পারে স্বচ্ছ বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন।
কোন রাসায়নিক প্রয়োজন? কোনগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব? কীভাবে ব্যাগের দাম কমানো যাবে? কতবার ব্যবহার করা যাবে? কত দ্রুত পচবে? পানিতে কী ধরনের আচরণ করবে? খাদ্যপণ্যের সংস্পর্শে এটি নিরাপদ কি না? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পলিথিনের সঙ্গে বাস্তব বাজারে এটি কতটা প্রতিযোগিতা করতে পারবে?
এসব প্রশ্নের পরীক্ষিত উত্তর ছাড়া সোনালি ব্যাগকে একদিকে ‘বিপ্লবী বিকল্প’ কিংবা অন্যদিকে ‘ব্যর্থ প্রকল্প’—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা ঠিক হবে না।
শেষ কথা
সোনালি ব্যাগের গল্প আসলে একটি ব্যাগের গল্প নয়।
এটি বাংলাদেশের গবেষণা, পাট, পরিবেশ, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ দেওয়ার সক্ষমতার গল্প।
একসময় যে উদ্ভাবনকে পলিথিনের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিশ্বকে দেখানো হয়েছিল, তা দীর্ঘ সময়েও বড় বাজারে পৌঁছাতে পারেনি। সরকারি বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ তুলেছেন; উদ্ভাবক সেই মূল্যায়নের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন; আর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে প্রযুক্তিটির material performance আরও উন্নত করার সুযোগ এখনও রয়েছে। 4
তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো “সোনালি ব্যাগ কেন বন্ধ হলো?” নয়।
বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত—
বাংলাদেশ কি এই গবেষণার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও নিরাপদ, সস্তা ও কার্যকর পাটভিত্তিক biodegradable packaging তৈরি করতে পারবে?
সোনালি ব্যাগের ভবিষ্যৎ হয়তো এই উত্তরেই লুকিয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য; বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন; বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের তথ্য; ২০২৪ সালে প্রকাশিত Green Economics গবেষণা; ২০২৪ সালে প্রকাশিত Green Materials গবেষণা; সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও শিল্প নথি।




