Homeটুডে ওয়ার্ল্ডউত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ফের শুরু হওয়ার ইঙ্গিত

উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ফের শুরু হওয়ার ইঙ্গিত

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের দাবি; একই সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে পিয়ংইয়ং

সিউল | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন আইনপ্রণেতা। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NIS) থেকে পাওয়া ব্রিফিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া শীর্ষ বৈঠক যেকোনো সময় হতে পারে—এমন মূল্যায়ন রয়েছে।

এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এমন সময়ে, যখন উত্তর কোরিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে শত্রুতাপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়ে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে। ফলে কূটনীতির সম্ভাবনা ও সামরিক প্রস্তুতি—দুটি বিপরীত প্রবণতা একই সময়ে দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্পের আগ্রহ, পিয়ংইয়ংয়ের অনাগ্রহ—দুই সংকেত একসঙ্গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বার্ষিক মার্কিন-দক্ষিণ কোরীয় সামরিক মহড়ার মাত্রা কমানোর সিদ্ধান্তও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক আগ্রহের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। পিয়ংইয়ংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন এখনো তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সামরিক মহড়ার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েই মূল অমিল

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা সীমিত করার দাবি করে আসছে।

এই মৌলিক মতপার্থক্যই সম্ভাব্য যেকোনো ভবিষ্যৎ আলোচনার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিম তিনবার বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।

একই সময়ে নতুন সামরিক মহড়াও হচ্ছে

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র সেপ্টেম্বরের ৯ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত Freedom Edge নামে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এই মহড়ার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রস্তুতি পরীক্ষা করা।

পিয়ংইয়ং এসব মহড়াকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে একদিকে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় উত্তেজনাও পুরোপুরি কমছে না।

দক্ষিণ কোরিয়া সংলাপ চায়, তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়তে রাজি নয়

সিউল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া আলোচনার পুনরারম্ভে তারা সমর্থন দেবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বক্তব্য—যে কোনো আলোচনায় দেশটির নিরাপত্তা স্বার্থ এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ সিউল একই সঙ্গে কূটনৈতিক সুযোগ এবং সামরিক প্রস্তুতি—দুটিই ধরে রাখতে চাইছে।

উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার প্রস্তুতিও আলোচনায়

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, কিম জং উন তাঁর কন্যা জু এ-কে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও দৃশ্যমান করছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি বেড়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন।

তবে এ ধরনের গোয়েন্দা মূল্যায়নের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই এগুলোকে নিশ্চিত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা হিসেবে নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা উচিত।

📊 বর্তমান সমীকরণ

• সম্ভাব্য U.S.-North Korea summit: আলোচনার পর্যায়ে
• শেষ ট্রাম্প-কিম বৈঠক: ২০১৯
• Freedom Edge মহড়া: ৯–১১ সেপ্টেম্বর
• উত্তর কোরিয়ার অবস্থান: পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের অঙ্গীকার
• সরাসরি নতুন যোগাযোগ: এখনো নিশ্চিত নয়

🧭 সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী

সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক বাস্তবে পরিণত হলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক মহড়া, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা—এই চারটি প্রশ্নে দুই পক্ষ কতটা আপস করতে পারে তার ওপর।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হলো: সংলাপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত আছে, কিন্তু সমঝোতার পথ এখনো নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: Reuters, South Korean NIS briefing, U.S. government statements, North Korean KCNA.

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments