প্রায় তিন দশকের প্রযুক্তি অভিজ্ঞতা, দুই দশক ধরে Divine IT গড়ে তোলার যাত্রা, PrismERP-এর মতো দেশীয় এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের বিকাশ এবং BASIS-এর নির্বাহী পরিষদে কাজের অভিজ্ঞতা—এবার BASIS-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের সভাপতি পদে প্রার্থী ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান।
ঢাকা | ২৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের গল্প শুধু বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লেখা হয়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাত ধরে—যারা এমন সময়ে সফটওয়্যার তৈরি শুরু করেছিলেন, যখন দেশে নিজস্ব এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের বাজার ছিল ছোট, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ছিল সীমিত এবং বিদেশি সমাধানের ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি।
ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, প্রযুক্তি অঙ্গনে যিনি ‘রাসেল’ নামে পরিচিত, সেই প্রজন্মেরই একজন উদ্যোক্তা। ১৯৯৮ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Divine IT Limited। দুই দশকের সেই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শুধু সফটওয়্যার সেবা দেওয়ার পর্যায়ে থেমে থাকেনি; নিজস্ব ERP, HR, VAT, POS, production planning এবং অন্যান্য enterprise solution-এর একটি বিস্তৃত পোর্টফোলিও তৈরি করেছে। Divine IT-এর বর্তমান নেতৃত্ব-প্রোফাইলেও রাসেলের ২৭ বছরের বেশি IT industry experience-এর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস—BASIS-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় সভাপতি পদে চারজন প্রার্থীর নাম রয়েছে এবং ভোট হওয়ার কথা ২৬ সেপ্টেম্বর। মোট ২৬ জন প্রার্থী ১১টি পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচন তাই কেবল একজন উদ্যোক্তার রাজনৈতিক-ধাঁচের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নয়; বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিস শিল্প কোন দিকে এগোবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
প্রযুক্তির গভীর থেকে উদ্যোক্তার যাত্রা
রাসেলের পেশাগত যাত্রার একটি বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা দিয়ে শুরু করেছেন, ব্যবসা দিয়ে তা বিস্তৃত করেছেন।
Divine IT-এর অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও সিমুলেশন, সিস্টেম ডিজাইন, পরিকল্পনা ও স্থাপন, enterprise business operating system এবং cybersecurity-এর মতো প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। একই প্রোফাইলে CDCP, CDCS ও CTDC-এর মতো data-centre সংশ্লিষ্ট professional qualification-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যায়—প্রযুক্তি শুধু ব্যবহার করা নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসার বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি তৈরি করা।
২০০৫: Divine IT-এর শুরু
২০০৫ সালে Divine IT প্রতিষ্ঠার সময় বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্প এখনকার মতো বিস্তৃত ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস অনুযায়ী, উদ্যোক্তারা শুরুতেই একটি গবেষণা ও উন্নয়ন দল গঠন করে স্থানীয় ব্যবসার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত ERP system তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে এর নাম ছিল Divine Business। পরবর্তী সময়ে সেটিই রূপ নেয় PrismERP-এ।
২০০৮ সালে PrismERP নামে নতুন interface নিয়ে পণ্যটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর web-based platform, নতুন module, cloud model, security এবং business intelligence-এর মতো সক্ষমতা যোগ হতে থাকে। সর্বশেষ বড় সংস্করণটি ২০২৩ সালে প্রকাশ করা হয়।
একটি দেশীয় সফটওয়্যার পণ্যের প্রায় দুই দশকের এই বিবর্তনই রাসেলের উদ্যোক্তা-যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়গুলোর একটি।
PrismERP: শুধু ERP নয়, স্থানীয় প্রযুক্তির দীর্ঘ পরীক্ষা
ERP বা Enterprise Resource Planning এমন একটি সফটওয়্যার কাঠামো, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব, inventory, procurement, sales, human resources, production, supply chain ও management reporting-এর মতো বিভিন্ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় আনা যায়।
Divine IT-এর তথ্য অনুযায়ী, PrismERP বর্তমানে ৬৫টিরও বেশি শিল্পখাতে ব্যবহারের উপযোগী এবং ৪০০-এর বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, PrismERP web ও mobile-based এবং integrated MIS reporting-এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। এগুলো Divine IT-এর নিজস্ব প্রকাশিত পরিসংখ্যান।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, PrismERP সময়ের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ERP পণ্যের সীমা ছাড়িয়ে একটি বিস্তৃত business automation platform-এ পরিণত হয়েছে।
একটি পণ্য থেকে তৈরি হয়েছে সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম
Divine IT-এর বর্তমান পণ্য তালিকায় PrismERP-এর পাশাপাশি রয়েছে—
LinesPay — HR ও Payroll
PrismVAT — VAT Management
Centroid — Production Planning & Control
PrismATS — Applicant Tracking System
PrismPOS — Point of Sale
PrismDMS — Document Management
PrismVMS — Visitor Management
OneBook — SME ERP
এবং আরও বেশ কিছু enterprise ও industry-specific solution।
এই পোর্টফোলিওর দিকটি রাসেলের ব্যবসায়িক দর্শনকে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি software company যখন একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য নিজস্ব solution তৈরি করে, তখন সেটি কেবল software vendor থাকে না; ধীরে ধীরে enterprise technology partner হিসেবে অবস্থান তৈরি করে।
স্থানীয় বাজার পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
Divine IT ও PrismERP-এর যাত্রায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Divine IT ২০১৫ ও ২০১৮ সালে National Productivity & Quality Excellence Award অর্জন করে। ২০১৭ সালে PrismERP BASIS National ICT Awards-এ champion এবং APICTA International Awards-এ merit recognition পায়। ২০২০ সালে PrismERP WITSA Global ICT Excellence Awards-এ Sustainable Growth category-তে merit অর্জন করে।
পরবর্তী সময়ে Divine IT স্থানীয় বাজারে ICT Solution Provider of the Year স্বীকৃতিও পায়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের profile-এ ২০২৩ সালের The Daily Star ICT Solutions Provider of the Year এবং ২০২০ সালের WITSA award-সহ একাধিক স্বীকৃতি নথিভুক্ত রয়েছে।
এই স্বীকৃতিগুলোকে রাসেলের উদ্যোক্তা-যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা যায়। তবে পুরস্কার কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়; বাস্তব ব্যবসায়িক ব্যবহার, customer retention, product innovation এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
BASIS-এর সঙ্গে সম্পর্কও দীর্ঘদিনের
রাসেলের BASIS-সম্পৃক্ততাও নতুন নয়।
২০২৪ সালের BASIS Executive Council Election-এ তিনি সাধারণ ক্যাটাগরি থেকে ৩৪১ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে তিনি Vice President (Finance) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময়ে শিল্পখাতের policy, finance, local market এবং technology-related বিভিন্ন আলোচনায় তিনি অংশ নেন। ফলে বর্তমান প্রার্থিতা তাঁর জন্য সংগঠনের বাইরে থেকে নেতৃত্বে আসার চেষ্টা নয়; বরং BASIS-এর নির্বাচিত কাঠামোর ভেতরে কাজ করার অভিজ্ঞতার পরবর্তী ধাপ।
BASIS-এর সেই অভিজ্ঞতা, তারপর একটি কঠিন অধ্যায়
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাসেল BASIS-এর Vice President (Finance) পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে BASIS-এর তৎকালীন সভাপতি Russell T. Ahmed-ও পদত্যাগ করেন। এরপর সংগঠনের নেতৃত্ব ও পরিচালনা নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকার BASIS-এ administrator নিয়োগ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
এখানে রাসেলের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও BASIS-এর সামগ্রিক সাংগঠনিক সংকটকে আলাদা করে দেখা জরুরি। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগের কারণ ব্যক্তিগত ছিল; BASIS-এর পরবর্তী governance crisis ছিল বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক ঘটনা।
এই পটভূমির কারণেই ২০২৬ সালের নির্বাচনকে অনেকটা BASIS-এর জন্য একটি institutional reset হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এবার সরাসরি সভাপতি পদে
বর্তমান নির্বাচনে রাসেল পরিচালক নয়, সরাসরি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় সভাপতি পদে তাঁর সঙ্গে আরও তিন প্রার্থীর নাম রয়েছে। নির্বাচন হবে ২৬ সেপ্টেম্বর।
ফলে এবার তাঁর জন্য প্রশ্নটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের নয়।
প্রশ্ন হলো—
একটি সফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা কি একটি পুরো শিল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে?
‘BASIS for All’—স্লোগানের অন্তর্নিহিত অর্থ
রাসেলের নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে দৃশ্যমান বার্তাগুলোর একটি হলো “BASIS for All”।
এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার পরীক্ষা হবে সংগঠনের সবচেয়ে বড় ও ছোট সদস্যদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে।
কারণ BASIS-এর সদস্যদের ব্যবসার ধরন এক নয়। কেউ বড় software company, কেউ startup; কেউ IT-enabled service রপ্তানি করে, কেউ স্থানীয় বাজারে ERP তৈরি করে, আবার কেউ cloud, fintech, cybersecurity বা emerging technology নিয়ে কাজ করে।
একটি কার্যকর industry association-এর জন্য তাই শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের নীতিগত দাবি তুলে ধরা যথেষ্ট নয়। ছোট উদ্যোক্তার market access, startup-এর financing, freelancer-এর regulatory challenge এবং product company-এর export barrier—সবকিছুকেই একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হয়।
রাসেলের প্রচারাভিযানে “ERP Pioneer”, “Policy Advocate” এবং “Leadership Mentor” ধরনের পরিচয়ও ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো নির্বাচনী positioning; তবে তাঁর দীর্ঘ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার বিভিন্ন দিকের সঙ্গে এগুলোর একটি যোগসূত্র রয়েছে।
তাঁর অভিজ্ঞতা BASIS-কে কোন জায়গায় সুবিধা দিতে পারে?
স্থানীয় সফটওয়্যারের বাজার
দেশে তৈরি software-এর ব্যবহার বাড়ানোর প্রশ্নে নিজের product development-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাসেলকে একটি বাস্তব perspective দিতে পারে।
বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য government procurement, private-sector adoption, interoperability এবং quality certification সহজ করা গেলে local software industry-এর জন্য বড় বাজার তৈরি হতে পারে।
Product export
বাংলাদেশের ICT export দীর্ঘদিন outsourcing ও manpower-based services-এর সঙ্গে বেশি পরিচিত। কিন্তু SaaS, ERP, cybersecurity, fintech infrastructure ও industry-specific software-এর মতো নিজস্ব পণ্যেরও বৈশ্বিক বাজার রয়েছে।
একটি সফল দেশীয় ERP product তৈরি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার অভিজ্ঞতা এই জায়গায় কাজে লাগতে পারে।
AI-এর যুগে শিল্পনীতি
Artificial Intelligence ইতোমধ্যে software development ও business process-এর ধরন বদলে দিচ্ছে।
আগামী BASIS নেতৃত্বের জন্য তাই AI adoption, cybersecurity, data governance, cloud infrastructure, workforce reskilling ও intellectual property—এসব বিষয় আর আলাদা প্রযুক্তি ইস্যু থাকবে না; এগুলো শিল্পনীতির কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠবে।
নীতি ও ব্যবসার মধ্যে সেতুবন্ধন
একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে রাসেলের অভিজ্ঞতার আরেকটি সম্ভাব্য শক্তি হলো—নীতির প্রভাব তিনি ব্যবসার বাস্তব জায়গা থেকে দেখতে পারেন।
Tax, VAT, customs, foreign exchange, export incentive, government procurement এবং digital regulation—এসব বিষয়ে industry association-এর advocacy তখনই কার্যকর হয়, যখন তা মাঠের ব্যবসায়িক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ঐক্য তৈরি করা
এখানে রাসেলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
একটি কোম্পানি পরিচালনায় সিদ্ধান্তের কেন্দ্র এক জায়গায় থাকে। কিন্তু BASIS পরিচালনায় একই শিল্পের মধ্যে থাকা হাজারো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সবসময় এক নয়।
বড় প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার এক রকম, startup-এর অন্য রকম। Software exporter-এর সমস্যা এক ধরনের, স্থানীয় enterprise solution provider-এর আরেক ধরনের।
সুতরাং একজন BASIS সভাপতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়—consensus building।
অর্থাৎ মতভেদ থাকলেও শিল্পের জন্য একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা।
এই জায়গাতেই রাসেলের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর BASIS board experience-এর সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের ICT শিল্প এখন যে মোড়ে
২০২৬ সালের BASIS নেতৃত্ব এমন একটি সময়ে দায়িত্ব নেবে, যখন বিশ্বজুড়ে AI software development, cloud computing, cybersecurity ও automation-এর সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগও কম নয়।
দেশে বিপুল তরুণ জনশক্তি, software development capability এবং দীর্ঘদিনের outsourcing experience রয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন শুধু কতজন programmer বা freelancer তৈরি হবে তা নয়।
প্রশ্ন হলো—
বাংলাদেশ কি নিজের technology products তৈরি করতে পারবে?
সেগুলো কি regional market-এ বিক্রি করতে পারবে?
AI-এর যুগে কি নিজের software industry-কে নতুনভাবে position করতে পারবে?
আর ICT sector কি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে আরও শক্তিশালী ও তথ্যভিত্তিক কণ্ঠস্বর তৈরি করতে পারবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই হবে আগামী BASIS নেতৃত্বের অন্যতম বড় কাজ।
Divine IT-এর অভিজ্ঞতা থেকে BASIS-এর জন্য কী শেখা যায়?
রাসেলের ব্যবসায়িক যাত্রার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত ধারাবাহিকতা।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া একটি স্থানীয় IT company ধীরে ধীরে নিজস্ব ERP platform তৈরি করেছে, পণ্যের পরিসর বাড়িয়েছে, quality certification অর্জন করেছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং একাধিক industry segment-এ প্রবেশ করেছে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাসেলের নেতৃত্বের সম্ভাব্য একটি দর্শন হতে পারে—স্বল্পমেয়াদি project-এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি technology product তৈরি।
বাংলাদেশের IT industry-ও যদি শুধু service exporter না হয়ে product exporter হতে পারে, তাহলে শিল্পটির মূল্য সংযোজন ও আন্তর্জাতিক অবস্থান দুটোই বাড়তে পারে।
২৬ সেপ্টেম্বরের ভোটের দিকে তাকিয়ে শিল্পখাত
BASIS-এর পরবর্তী নির্বাচিত নেতৃত্বের সামনে প্রত্যাশা অনেক।
সদস্যরা চাইবেন একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং কার্যকর সংগঠন। উদ্যোক্তারা চাইবেন নীতিগত বাধা কমাতে বাস্তব advocacy। ছোট প্রতিষ্ঠান চাইবে বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমান প্রতিনিধিত্ব। আর দেশের বৃহত্তর ICT industry চাইবে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান।
ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসানের ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাই শুধু “BASIS-এর সভাপতি পদপ্রার্থী” হওয়া নয়।
তার আগে আছে—
একজন প্রযুক্তিবিদ হিসেবে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা,
একজন উদ্যোক্তা হিসেবে Divine IT গড়ে তোলার দুই দশকের পথচলা,
একটি দেশীয় enterprise software ecosystem তৈরির অভিজ্ঞতা,
এবং BASIS-এর নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ভেতরে কাজ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।
এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে রাখে কি না, তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন অবশ্যই করবেন BASIS-এর সদস্যরা।
শেষ কথা
একজন সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তার গল্প সাধারণত তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে শেষ হয়।
রাসেলের গল্প এখন সেই পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে আরেকটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েছে।
একটি কোম্পানি গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাকে কি একটি পুরো শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজে লাগানো সম্ভব?
Divine IT ও PrismERP-এর দীর্ঘ যাত্রা দেখিয়েছে, বাংলাদেশি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। BASIS-এর নেতৃত্ব তাঁর হাতে এলে সেই অভিজ্ঞতা বৃহত্তর ICT industry-এর জন্য কতটা রূপান্তরিত হবে, সেটিই হবে পরবর্তী অধ্যায়ের আসল পরীক্ষা।
আর সেই পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকবে তিনটি বিষয়—
নীতিতে দৃঢ়তা, প্রযুক্তিতে দূরদৃষ্টি এবং শিল্পের ভেতরে ঐক্য তৈরি করার সক্ষমতা।
২৬ সেপ্টেম্বরের ভোট তাই শুধু একজন সভাপতি নির্বাচন করবে না; BASIS আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের ICT industry-র জন্য কী ধরনের নেতৃত্বের ভাষা বেছে নেবে, তারও একটি ইঙ্গিত দেবে।
তথ্যসূত্র
Divine IT Limited-এর অফিসিয়াল Leadership, About, Product ও Awards পেজ; PrismERP-এর অফিসিয়াল History ও About তথ্য; BASIS-এর ২০২৪ সালের Executive Council Election এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী তথ্য; The Daily Star, The Business Standard, Digi Bangla ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক শিল্প প্রতিবেদন।




