দেড় দশকের নেতৃত্বের পর শূন্য হতে যাচ্ছে বিএনপির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ; ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর
ঢাকা | ১৭ আগস্ট ২০২৬
বিএনপির রাজনীতিতে সামনে আসতে যাচ্ছে বড় একটি নেতৃত্ব পরিবর্তন। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নির্বাচিত ও শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হচ্ছে না। দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এরপরই নতুন মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে সিদ্ধান্ত সামনে আসবে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে তাঁর নামের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ফখরুলের বিদায় কেন এত বড় ঘটনা
বিএনপির মহাসচিব পদটি দলের চেয়ারপারসন বা চেয়ারম্যানের পর সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা, কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয়, দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় মহাসচিবের ভূমিকাই সবচেয়ে দৃশ্যমান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সালে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। ফলে প্রায় দেড় দশক ধরে দলটির দ্বিতীয় সারির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে তিনি ছিলেন।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। এখন দলটি সরকারে থাকা অবস্থায় তার বিদায় হলে নতুন মহাসচিবকে শুধু বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা নয়, সরকার পরিচালনার সঙ্গে সমন্বিত একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাও সামলাতে হবে।
রিজভী কেন সবচেয়ে এগিয়ে
দলের ভেতরে সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাভাবিক উত্তরসূরি হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর নাম সামনে আসার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, তিনি দীর্ঘদিন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তৃতীয়ত, বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনপর্বে তিনি নিয়মিত দলীয় মুখ হিসেবে সামনে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা ও রাজনৈতিক বক্তব্যে সক্রিয় রয়েছেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে বলা হয়েছে—মহাসচিব পদ শূন্য হলে আগে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রিজভীর অবস্থান সবচেয়ে স্বাভাবিক। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানও এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তবে এখানেই একটি পার্থক্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়া আর পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হওয়া এক বিষয় নয়। রিজভী প্রথম ধাপে দায়িত্ব পেলেও পরে জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে স্থায়ীভাবে নির্বাচিত করা হবে কি না, নাকি অন্য কাউকে আনা হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তাহলে কি রিজভীই স্থায়ী মহাসচিব?
এ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
রিজভী নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। অর্থাৎ তাঁর নিজের কাছেও বিষয়টি চূড়ান্ত নয়।
এখানে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। অতীতে অবশ্য কাউন্সিলের বাইরেও দলীয় সিদ্ধান্তে মহাসচিব নিয়োগের নজির রয়েছে। ফলে রিজভীর সম্ভাবনা থাকলেও তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দলীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
সালাহউদ্দিন আহমদ: সরকার ও দলের সেতুবন্ধনের সম্ভাবনা
বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
তাঁর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো—সরকার পরিচালনা এবং দলীয় রাজনীতির দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে বিএনপি যদি এমন একজন মহাসচিব চায়, যিনি একদিকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করবেন, অন্যদিকে দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন, সে ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।
তবে এর বিপরীতে একটি বাস্তব প্রশ্নও রয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি দলের মহাসচিবের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব একই সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে পালন করা সম্ভব হবে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতার সমীকরণ
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন। অর্থনীতি, বিনিয়োগ, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর অন্যতম শক্তি।
বিএনপি সরকারে থাকার নতুন বাস্তবতায় দল যদি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং সরকার পরিচালনার সঙ্গে দলীয় সংগঠনের সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে তাঁর নাম আলোচনায় থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনিও বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন—ফলে মহাসচিবের পদ গ্রহণ করলে তাঁর বর্তমান দায়িত্বে পরিবর্তন দরকার হবে কি না, সেটিও একটি বিষয়।
হাবিব ও এ্যানি: তৃণমূল ও সাংগঠনিক রাজনীতির দুই নাম
হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দুজনেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপি যদি আগামী কাউন্সিলে অপেক্ষাকৃত নতুন প্রজন্মকে সামনে এনে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে চায়, তাহলে এই ধরনের নেতাদের গুরুত্ব বাড়তে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই দলীয়ভাবে মহাসচিবের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এবার সিদ্ধান্তে কাউন্সিলের ভূমিকা কতটা
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে নিয়মিত কাউন্সিল হয়নি। এখন দল ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির নেতারাও বলেছেন, কাউন্সিল দ্রুত আয়োজনের প্রত্যাশা রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
এই কাউন্সিলই শুধু মহাসচিব নয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অর্থাৎ মহাসচিবের প্রশ্নটি আলাদা কোনো একটি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিএনপির ক্ষমতাসীন দলের রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ।
রিজভীর স্থায়ী কমিটিতে যাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
সাম্প্রতিক সময়ে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহাসচিব পদে একজন নেতাকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া তার সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে এটাকেই মহাসচিব পদে রিজভীর চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দল নিজেও এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি।
আসল সিদ্ধান্ত কার হাতে
দলের ভেতরে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন ধারণা বিএনপির নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
কারণ মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়—দলীয় আনুগত্য, সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পরিকল্পনা—সবকিছু বিবেচনায় আসতে পারে।
এখানেই রিজভীর সঙ্গে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মূল জায়গা।
বিএনপি কি সরকার ও দল আলাদা রাখবে?
এই প্রশ্নটিই সম্ভবত মহাসচিব নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমীকরণ।
একটি মডেলে সরকার পরিচালনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা, আর দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকবেন একজন পূর্ণকালীন মহাসচিব। এই কাঠামোতে রিজভীর মতো পূর্ণকালীন সাংগঠনিক নেতার সম্ভাবনা বাড়ে।
অন্য মডেলে সরকার ও দলের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখা হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে মহাসচিব করা হতে পারে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও এই দুই ধরনের সমীকরণের কথা উঠে এসেছে।
একজন মহাসচিব চলে যাচ্ছেন, বদলাতে পারে বিএনপির রাজনৈতিক ভাষাও
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ নেতৃত্বের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত ও কূটনৈতিক রাজনৈতিক ভাষা। তাঁর স্থলে কে আসছেন, তা শুধু সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়; বিএনপির রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রিজভী দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক ও মাঠকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ বা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতাদের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বেশি দৃশ্যমান।
ফলে নতুন মহাসচিবের নির্বাচন বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কৌশলের দিকনির্দেশও দিতে পারে।
সম্ভাব্য চিত্র: সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ কোনটি
বর্তমান তথ্য ও দলীয় কাঠামো বিবেচনায় সবচেয়ে স্বাভাবিক সম্ভাবনা হলো—
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী ও শপথ নেওয়ার পর মহাসচিবের পদ শূন্য হবে। সেই পর্যায়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নিতে পারেন। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।
তবে এর দ্বিতীয় অংশটি এখনো অনিশ্চিত। রিজভীই স্থায়ী মহাসচিব হবেন, নাকি কাউন্সিলের আগে বা পরে অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সামনে আনা হবে—এ সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির সামনে এখন শুধু একজন উত্তরসূরি নয়, একটি নতুন নেতৃত্ব মডেল
মির্জা ফখরুলের বিদায়ের সঙ্গে বিএনপি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ করার পথে। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর থেকে তিনি দলটির কঠিন সময়, বিরোধী রাজনীতি ও নির্বাচনী সংগ্রামের প্রধান মুখদের একজন ছিলেন।
এখন বিএনপি সরকারে। ফলে নতুন মহাসচিবের কাছ থেকে আগের মতো শুধু আন্দোলন পরিচালনার দক্ষতা নয়; সরকার ও দল সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নির্বাচনী রাজনীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছুর সমন্বিত সক্ষমতা প্রত্যাশিত হবে।
সুতরাং প্রশ্নটি কেবল “মির্জা ফখরুলের জায়গায় কে আসছেন?”—এতটুকু নয়। আসল প্রশ্ন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর কোন ধরনের সাংগঠনিক নেতৃত্ব বেছে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো কীভাবে সাজাতে চাইছে।
এই প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর রুহুল কবির রিজভীর দিকে ইঙ্গিত করলেও স্থায়ী উত্তর আসবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও জাতীয় কাউন্সিলের পর।
তথ্যসূত্র: BBC News বাংলা, জাগো নিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রকাশিত কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য।




