Homeটুডে হেলথবাংলাদেশে হামের মৃত্যু থামছেই না: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ লাখ...

বাংলাদেশে হামের মৃত্যু থামছেই না: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ছাড়াল

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—টিকাদানের ঘাটতি, রোগপ্রতিরোধে ফাঁক ও বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া কি সংকটকে আরও গভীর করেছে?

ঢাকা | ৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯২৫ শিশু এবং পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে আরও ১০৬ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৭৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত সাত শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং বাকি দুজন বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ছিল।

সংকটের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে—

📊 হামের উপসর্গযুক্ত শিশু: ১,০৫,৬১৮
📊 ল্যাব-নিশ্চিত হাম: ১২,৬৩২
📊 মোট আক্রান্ত: ১,১৮,২৫০
📊 মোট মৃত্যু: ৭৩৮
📊 হাসপাতালে ভর্তি: ৮৮,৮৪৪
📊 সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েছে: ৮৫,১২২

টিকাদান ব্যবস্থার ফাঁক নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশ বহু বছর ধরে শিশু টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় সফল দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি কার্যকর টিকাকভারেজ প্রয়োজন। সামান্য ঘাটতিও দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

WHO-এর আগের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পূর্ণ টিকাসুরক্ষার বাইরে ছিল।

কেন এত দ্রুত ছড়ায় হাম?

হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি। এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।

হামের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো—

• জ্বর
• কাশি
• নাক দিয়ে পানি পড়া
• চোখ লাল হওয়া
• শরীরে লালচে ফুসকুড়ি

তবে গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ, অন্ধত্ব বা মৃত্যুও হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোথায়?

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করাই যথেষ্ট নয়; কোন শিশুরা টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে, কোন এলাকায় রোগপ্রতিরোধের ফাঁক তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, নিয়মিত টিকাদানে বিঘ্ন ঘটলে ধীরে ধীরে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি হতে পারে, যা বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের পথ তৈরি করে। (arXiv)

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

বাংলাদেশ অতীতে হাম নিয়ন্ত্রণে বড় সফলতা দেখিয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি সংক্রামক রোগের সংকট নয়, এটি দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, শিশুস্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাকভারেজ বাড়ানো, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি শক্তিশালী করা না গেলে সংক্রমণের চক্র দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

🔎 দাবি বনাম বাস্তবতা

দাবি: শুধু টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হলেই হাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

বাস্তবতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকভারেজের পরিমাণ, বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যা এবং দ্রুত শনাক্তকরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দাবি: হাম সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো একটি রোগ।

বাস্তবতা: হাম গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে।

📌 তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS), WHO Disease Outbreak News, Reuters, UNICEF-সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments