Homeশোবিজ টুডেসাবেক বন্ধু ও তথ্যমন্ত্রীর সিন্ডিকেট: বাংলা টিভি দখল ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ...

সাবেক বন্ধু ও তথ্যমন্ত্রীর সিন্ডিকেট: বাংলা টিভি দখল ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন চেয়ারম্যান সৈয়দ সামাদুল হক

লন্ডন প্রবাসী সাবেক বন্ধু সৈয়দ গোলাম দস্তগীর নিশাদ এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দখল, রাজনৈতিক হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা অপপ্রচারের তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বাংলা টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সৈয়দ সামাদুল হক।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে ‘বন্ধু যখন শত্রু: নিশাদ দস্তগীরের নোংরা প্রচারণা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে সৈয়দ সামাদুল হক তাঁর এক সময়ের বন্ধু নিশাদ দস্তগীরের অতীত ইতিহাস, ব্যবসায়িক প্রতারণা এবং তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে চ্যানেল দখলের অপচেষ্টার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেছেন।

রেস্টুরেন্ট ওয়েটার থেকে অনারারি পদ: সম্পর্কের শুরু ও ভাঙন

সৈয়দ সামাদুল হক জানান, নিশাদ দস্তগীর যখন লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন, তখন থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিচয়। সামাদুল হক তখন লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ‘সাপ্তাহিক জনমত’ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও পরবর্তীতে সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • বাংলা টিভির সূচনা ও পদত্যাগ: ১৯৯৯ সালে লন্ডনে বাংলা ভাষায় প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘বাংলা টিভি’র সূচনা লগ্নে পাঁচজন পরিচালকের একজন ছিলেন নিশাদ দস্তগীর এবং সৈয়দ সামাদুল হক ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD)। তবে ২০০১ সালে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে নিশাদকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত লন্ডন বা বাংলাদেশে বাংলা টিভির কোনো শেয়ার তাঁর নামে নেই।
  • কৃতজ্ঞতার অপব্যবহার: ২০১৬ সালের দিকে বাংলাদেশে বাংলা টিভির মাইনরিটি শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে নিশাদ দস্তগীর ও তাঁর সহযোগী আমিন হেলালী ‘আখতার ফার্নিচার গ্রুপ’ ও ‘ম্যাক ফার্নিচার’-এর মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সামাদুল হকের পরিচয় করিয়ে দেন। এই কাজের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিশাদ ও আমিন হেলালীকে বাংলা টিভিতে ‘অনারারি ভাইস-চেয়ারম্যান’ ও ‘ডিরেক্টর’ পদ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নিজেদের ‘মালিক’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতারণা শুরু করলে সামাদুল হক সেই অনারারি পদ বাতিল করতে বাধ্য হন।

মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে ডেকে শেয়ার দাবি

সৈয়দ সামাদুল হকের অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি ছিল সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সরাসরি সম্পৃক্ততা। নিশাদ দস্তগীর ও আমিন হেলালী সিন্ডিকেট তৎকালীন তথ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে বড় ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা চালায়।

“তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তাঁর মিন্টু রোডের সরকারি বাসায় আমাকে ডেকে নিয়ে প্রস্তাব করেন আমি যেন নিশাদ, আমিন হেলালী গংকে বাংলা টিভির ৩০% শেয়ার লিখে দিই। মুহূর্তের জন্য বিচলিত হলেও আমি মন্ত্রী মহোদয়কে পরিষ্কার বলে দিই—বাধ্য হলে বাংলাদেশে বাংলা টিভি বন্ধ করে আমি লন্ডন চলে যাব, কিন্তু কোনো অন্যায় আবদারের সাথে আমি আপোষ করব না।”
সৈয়দ সামাদুল হক

এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ঢাকার সাংবাদিক মহল এবং সরকারের ভেতরের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাদুল হকের পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন সময়ে ঢাকার শীর্ষ দৈনিক ‘মানবজমিন’ পত্রিকার প্রথম পাতায় “বাংলা টিভি দখলের পাঁয়তারা” শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাছান মাহমুদ ও নিশাদ চক্র সাময়িকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বিজ্ঞাপন বন্ধের চেষ্টা ও ২০২৩ সালের মিথ্যা ‘দুদক’ মামলা

সাময়িকভাবে পিছু হটলেও এই চক্রটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলা টিভির বিজ্ঞাপন বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। প্রথম দিকে কিছু বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ সৈয়দ সামাদুল হকের নামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

২০২৪-এর পটপরিবর্তন ও বর্তমান অপপ্রচার

সৈয়দ সামাদুল হক তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরগুলোতে অনৈতিক ব্যবসা ও ক্ষমতার দাপটে নিশাদ দস্তগীর বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিশাদ ও তাঁর সহযোগীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের ষড়যন্ত্র থামেনি।
বর্তমানে লন্ডনে বসে কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, আখ্যাত নিউজ পোর্টাল এবং সস্তা মূল্যের তথাকথিত ‘ইয়েলো জার্নালিস্ট’ বা ভাড়ায় খাটা সাংবাদিকদের দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপে বাংলা টিভির কর্মী, প্রতিনিধি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে লাগাতার মিথ্যা ও চটকদার গল্প ছড়ানো হচ্ছে।

বিবৃতির শেষাংশে সৈয়দ সামাদুল হক গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এক সময়ের বন্ধুর এমন নৈতিক স্খলন তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে তিনি আশা করেন, দেরিতে হলেও নিশাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তিনি হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে সভ্য মানুষের মতো আচরণ করবেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments