Homeটুডে হেলথহার্টের স্বাস্থ্য থেকে ভিটামিন ডি—মাশরুম নিয়ে কী বলছে গবেষণা?

হার্টের স্বাস্থ্য থেকে ভিটামিন ডি—মাশরুম নিয়ে কী বলছে গবেষণা?

স্বাস্থ্য ডেস্ক | Today TV BD

সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্র, মজবুত হাড় এবং সুষম পুষ্টি—এই তিনটি বিষয়ই বর্তমান সময়ে মানুষের প্রধান স্বাস্থ্য-চিন্তার মধ্যে রয়েছে। খাদ্যাভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পুষ্টিবিদ ও গবেষকদের মতে, মাশরুম এমন একটি খাদ্য যা কম ক্যালোরির পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় মাশরুম যুক্ত করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কোনো একক খাবার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করতে পারে না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মাশরুমে কী কী পুষ্টি রয়েছে?

মাশরুমে সাধারণত পাওয়া যায়—

  • প্রোটিন
  • খাদ্যআঁশ (ফাইবার)
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
  • ভিটামিন ডি
  • পটাশিয়াম
  • সেলেনিয়াম
  • কপার
  • ফসফরাস

১০০ গ্রাম ভোজ্য মাশরুমে প্রায় ৩ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে, যদিও প্রজাতিভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যে কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণায় দেখা গেছে, মাশরুমে থাকা ফাইবার, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মাশরুম খাওয়া—

  • ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে
  • ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে

এই কারণগুলো নিয়ন্ত্রিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

তবে মাশরুম কোনো ওষুধ নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্পও নয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বিশেষ ভূমিকা

মাশরুমে দুই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়—

  • এরগোথায়োনিন (Ergothioneine)
  • গ্লুটাথায়োন (Glutathione)

গবেষকদের মতে, এই উপাদানগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভিটামিন ডি-এর উৎস হিসেবে মাশরুম

ভিটামিন ডি সাধারণত সূর্যালোকের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হয়। তবে খাদ্য থেকেও কিছু পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

মাশরুমের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির সংস্পর্শে এলে এর ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যালোকে রাখা মাশরুমে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ কয়েক গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভিটামিন ডি সহায়তা করে—

  • হাড় মজবুত রাখতে
  • ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সমর্থন করতে

কোন ধরনের মাশরুম খাওয়া যায়?

বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রজাতির মাশরুম থাকলেও সব মাশরুম ভোজ্য নয়।

নিরাপদ ও জনপ্রিয় ভোজ্য মাশরুমের মধ্যে রয়েছে—

  • বাটন মাশরুম
  • অয়েস্টার মাশরুম
  • মিল্কি মাশরুম
  • শিটাকে (Shiitake) মাশরুম

বন্য পরিবেশে জন্মানো অচেনা মাশরুম খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কতটুকু খাওয়া উচিত?

পুষ্টিবিদদের মতে, মাশরুম একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মাশরুম খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

  • মাশরুম কোনো “ম্যাজিক ফুড” নয়।
  • শুধু মাশরুম খেয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।
  • ভিটামিন ডি-এর গুরুতর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু মাশরুমের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

সংক্ষেপে

মাশরুম পুষ্টিকর, কম ক্যালোরিযুক্ত এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি খাদ্য। এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে এবং ভিটামিন ডি-এর একটি সম্ভাব্য উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারে।

তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত প্রতিরোধক নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসা পরামর্শের সমন্বয়ই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular