অনলাইন ডেস্ক | Today TV BD
ঢাকা | ৩ জুন ২০২৬
জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহক ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করে, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জও বাড়ানো হয়েছে ২৩.৯৬ শতাংশ। বিইআরসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৯.৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
📊 একনজরে বিদ্যুতের নতুন দাম ও পরিবর্তনের চিত্র
| পর্যায় | পূর্ববর্তী গড় দাম (প্রতি ইউনিট) | নতুন গড় দাম (প্রতি ইউনিট) | বৃদ্ধির হার (%) |
| গ্রাহক/খুচরা পর্যায় | ৯.১১ টাকা | ১০.৬৩ টাকা | ১৬.৬৮% (ধাপভেদে ১৫% – ১৯.৯৪%) |
| পাইকারি পর্যায় | ৭.০০ টাকা | ৮.Check ৩৯ পয়সা | ১৯.৮৫% |
| সঞ্চালন চার্জ (গড়) | ০.৩১ টাকা | প্রায় ০.৩৯ টাকা | ২৩.৯৬% |
💬 “কোনো চাপ ছিল না, বাজেট মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত”
এত তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না। মূলত আসন্ন জাতীয় বাজেট মাথায় রেখেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান স্বীকার করেন যে মানুষের ব্যয় বাড়বে। তবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মূল্যায়ন (Economic Evaluation) এখনো করা হয়নি, যদিও তা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
📈 উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকির সমীকরণ
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরকারি ও বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয়। এরপর উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কম দামে সরকার নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। এই ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি নিলেও বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করেই নিজেদের কোম্পানি পরিচালনা করে।
বিপিডিবি পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১.২০ টাকা থেকে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাদের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে দেখানো হয়েছে:
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলন: আগামী অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।
- ইউনিট প্রতি খরচ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে প্রায় ১২.৯১ টাকা।
উল্লেখ্য, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে বিইআরসি গণশুনানি করেছিল। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি দরে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল।
Today TV BD বিশ্লেষণ: জুনের বাজেট ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বিদ্যুতের এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেশের শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পারিবারিক বাজেটে এক বড় ধরনের চেইন-রিঅ্যাকশন তৈরি করবে। বিশেষ করে সঞ্চালন ও পাইকারি দাম প্রায় ২০% বাড়ায় উৎপাদন খাতের ওপর চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
📌 তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন



