Homeটুডে নেশনমিরপুরে অবহেলায় বৃদ্ধার মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

মিরপুরে অবহেলায় বৃদ্ধার মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহানের মরদেহ উদ্ধার, চরম অবহেলার অভিযোগে ‘ভরণপোষণ আইন’ অনুযায়ী পদক্ষেপের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা | ৩ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে একটি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত সন্তানদের চরম অবহেলার চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনায় ওই নারীর এক ছেলে, যিনি সরকারের একজন যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত নূর জাহান বেগমের সন্তানরা সমাজে অত্যন্ত উচ্চপদস্থ ও প্রতিষ্ঠিত। তাঁর এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গত মঙ্গলবার মিরপুরের সেকশন ৬, ব্লক সি, ১৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। গণমাধ্যমে এই অমানবিক অবহেলার খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর জাহান বেগম তাঁর শিক্ষক মেয়ের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বৃদ্ধার ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় প্রবীণ এই নারীর ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাস পড়েছিল এবং মরদেহে পোকার অস্তিত্ব দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিনের চরম অবহেলার প্রমাণ দেয়। এই মর্মান্তিক ও অমানবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার মূল সমীকরণ ও সন্তানদের পরিচয়:

  • ভুক্তভোগী: নূর জাহান বেগম (বয়স ৭৫ বছর)।
  • পরিচয়: সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা।
  • ঘটনার স্থান: মিরপুর সেকশন ৬, ব্লক সি, ১৩ নম্বর সড়কের একটি ভবন।
  • বর্তমান অবস্থা: যুগ্ম সচিব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু।

নীতিনির্ধারকদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান [💬 সরাসরি উদ্ধৃতি]:

“পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

মো. আব্দুল বারী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ভরণপোষণ আইনের আইনি ধারা ও শাস্তির বিধান:

নূর জাহান বেগমের এই করুণ মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ২০১৩ সালে পাস হওয়া পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এবং ২০২৩ সালের এর বিধিমালা পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এই আইনের মূল আইনি দিকগুলো হলো:

  • সন্তানদের বাধ্যবাধকতা: প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার নিয়মিত ভরণপোষণ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার খোঁজখবর এবং পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এটি বন্টন করবেন।
  • শাস্তির বিধান: এই আইন অমান্য করলে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনূর্ধ্ব ৩ মাস কারাদণ্ডের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

📌 তথ্যসূত্র:

  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পল্লবী থানা পুলিশ প্রশাসন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular