ঢাকা: রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা নিউমার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আন্ডারওয়ার্ল্ডের দীর্ঘদিনের অন্তঃকোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত ৮টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে মাস্ক ও ক্যাপ পরিহিত দুই যুবক টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে টিটন রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করার চেষ্টা করে। তবে খুনিরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পিবিআই-এর মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা থাকলেও রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহত টিটন হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা কে এম ফকরুদ্দিনের ছেলে। তিনি আরেক কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের স্ত্রীর বড় ভাই এবং এককালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
তদন্তের কেন্দ্রে ‘ইমন’ ও পুরোনো সংঘাত
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্ভাব্য সব সমীকরণকে সামনে রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন হত্যাকাণ্ডের পেছনে টিটনের ভগ্নিপতি ইমনের সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছিল। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, মামুন হত্যার প্রতিশোধ অথবা ইমনের সঙ্গে টিটনের সাম্প্রতিক কোনো বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে।
দীর্ঘ কারাবাস ও রহস্যময় জামিন
২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় টিটনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাত্র সাত দিন পর, ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে রহস্যজনকভাবে জামিনে মুক্তি পান তিনি। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং আদালতের হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।
পুলিশি তৎপরতা
নিউমার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে, খুনিদের শনাক্ত করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার এই প্রকাশ্য বন্দুকযুদ্ধ রাজধানীর সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।



