নেত্রকোনা: টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হাওরগুলোতে হু হু করে ঢুকছে পানি। সোনাডুবি, গোরাডোবা ও মহিষাশুরাসহ বেশ কয়েকটি হাওর ও বিলের প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান এখন পানির নিচে। আসন্ন বন্যার আশঙ্কায় আধপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে কৃষকদের মাঝে। কিন্তু শ্রমিকের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের সংকটে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’।
পানির নিচে স্বপ্ন, শ্রমিকের সংকটে হাহাকার
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, হাওরাঞ্চলের ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ২৫ শতাংশের বেশি ধান ঘরে ওঠেনি। বিশরপাশা গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম জানান, “আট শতক জমির ধান কাটতে শ্রমিক খরচ হচ্ছে ১৪০০ টাকা, অথচ এক মণ ধানের দাম মাত্র ৭০০ টাকা।” একদিকে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের চেয়ে দ্বিগুণ শ্রম মজুরি—সব মিলিয়ে দিশেহারা হাওরের কৃষক।
জ্বালানি সংকট: মাঠেই পড়ে আছে হারভেস্টার
আধুনিক পদ্ধতিতে দ্রুত ধান কাটার জন্য ৩৫টি কম্বাইন হারভেস্টার থাকলেও জ্বালানি তেলের সংকটে সেগুলো কাজে আসছে না। পাম্পগুলো চাহিদামত ডিজেল সরবরাহ করতে না পারায় অর্ধেক বেলা চলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যন্ত্রগুলো। হারভেস্টার মালিক আজিজুল হক জানান, পাম্প থেকে চাহিদার অর্ধেক তেলও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে কৃষকদের ধান সময়মতো কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রশাসনের আশ্বাস বনাম বাস্তবতা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যার সম্ভাবনা মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে কৃষকদের শঙ্কা, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্বালানি ও শ্রমিক সমস্যার সমাধান না হলে পানিতে পচে নষ্ট হবে হাজার হাজার একর জমির সোনার ফসল।



