Homeটুডে ওয়ার্ল্ডফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে নতুন প্রশ্ন: উগ্রপন্থার অভিযোগ জেনেও কীভাবে ককপিটে হামলার সুযোগ পেলেন সহকারী...

ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে নতুন প্রশ্ন: উগ্রপন্থার অভিযোগ জেনেও কীভাবে ককপিটে হামলার সুযোগ পেলেন সহকারী পাইলট?

অনুসন্ধান প্রতিবেদন | আন্তর্জাতিক

ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর মাঝ-আকাশে হামলা, উড়োজাহাজের দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া এবং সহকারী পাইলটের অতীত কর্মজীবন ঘিরে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে অভিযুক্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের দুর্বলতা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকট। উড্ডয়নের মাঝপথে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। হামলার সময় উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নেমে যায়। আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে কয়েকজন যাত্রী ও উড়োজাহাজের অন্য কর্মীরা অভিযুক্তকে নিবৃত্ত করেন। পরে বিকল্প পাইলটদের সহায়তায় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। এতে থাকা ১৮২ জনের জীবন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছিল।

ঘটনার পর তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম হামাম আল-হাম্মামি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) একাধিক সূত্রের বরাতে তাঁকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে তাঁর পরিচয় ও অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি। ফলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পরিচয় ও তাঁর অতীত নিয়ে আসা তথ্যকে সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুট নিচে, কী ঘটেছিল ককপিটে?

ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা উড্ডয়ন-তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের আকাশসীমায় উড়োজাহাজটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে এবং দ্রুত নিচে নামতে থাকে। সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে এটি ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারায়। পরে উড়োজাহাজ থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয় এবং সেটিকে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির ৩ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, সহকারী পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এটি শুধু দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশ্ন থাকলেও আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনাটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে পরিকল্পনার পূর্ণ বিবরণ, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে অন্য কেউ ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার হামলার মধ্যেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ভেতরে প্রবেশ করে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাত্রীদের মধ্যে অন্তত একজন পরিস্থিতি সামাল দিতে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেন; পরে বিমানে থাকা দায়িত্বমুক্ত দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জরুরি অবতরণ করান। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ওমানের বিমান সংস্থায় উড়তে বাধা, তবু ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—অভিযুক্তের অতীত কর্মজীবনে উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের তথ্য থাকলে তা নতুন নিয়োগের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আল-হাম্মামি আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে কাজ করতেন। উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে উড়োজাহাজ চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেই তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল এবং ওমানের কর্তৃপক্ষ অন্য সংস্থা বা দেশের সঙ্গে তা ভাগ করে নিয়েছিল কি না—এসব এখনো স্পষ্ট নয়।

এর পরও তিনি কীভাবে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ পেলেন, সেটিই এখন বিমান সংস্থার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাইব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এপি-র বরাতে জানা গেছে, একজন উপসাগরীয় কূটনীতিকের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগের আগে অভিযুক্তের নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই হয়েছিল। তবে সেই যাচাইয়ে অপরাধের রেকর্ডকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো যথেষ্ট গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ তথ্যের স্বাধীন ও চূড়ান্ত যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: আগের কোনো কর্মস্থলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের অভিযোগ থাকা আর কোনো ব্যক্তি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য—দুটি এক কথা নয়। তদন্তের মূল কাজ হলো, তাঁর অতীতের তথ্য, পরবর্তী কর্মকাণ্ড এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের হামলার মধ্যে প্রমাণযোগ্য যোগসূত্র আছে কি না, তা নির্ধারণ করা।

মরক্কোর বিমান সংস্থায় চাকরি নয়, প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন

অভিযুক্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল এবং সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দূরশিক্ষণ কোর্স করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এপিকে জানিয়েছে, তিনি সেখানে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেননি। অর্থাৎ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনার শিক্ষা এবং পাইলট হিসেবে পেশাগত প্রশিক্ষণকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

মরক্কোর রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারোকের সঙ্গে তাঁর কর্মজীবনের সম্পর্ক নিয়েও প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি রয়েছে। সংস্থাটি এপিকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে হামাম সেখানে তিন মাসের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, যা ছিল চাকরিতে নিয়োগের আগের প্রক্রিয়ার অংশ। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সংস্থাটিতে তিনি নিয়মিত পাইলট হিসেবে কাজ করতেন—এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে মেলে না। এরপর ঠিক কীভাবে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে নিয়োগ পান, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদার ছবি, কতটা নিশ্চিত তথ্য?

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর কিছু পোস্ট বা ভিডিওতে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আইমান আল-জাওয়াহিরিসহ উগ্রপন্থী ব্যক্তিদের ছবি ছিল। নারীদের ভূমিকা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে তাঁর কিছু বক্তব্যও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ঘটনার দিন মুছে ফেলা হয়েছিল বলেও এপি জানিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা তাঁর ডিজিটাল কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছেন।

তবে এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে উগ্রপন্থী নেতার ছবি বা বিতর্কিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা তাঁর চিন্তাধারা সম্পর্কে তদন্তের সূত্র হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সেই তথ্য একাই প্রমাণ করে না যে তিনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য ছিলেন, সংগঠনটির নির্দেশে কাজ করেছেন কিংবা নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এসব সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পোস্টের সত্যতা, প্রেক্ষাপট, সময়, যোগাযোগ এবং অন্যান্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

হামলার উদ্দেশ্য কি ইসরায়েলি যাত্রীদের হত্যা করা ছিল?

ফ্লাইটটি ইসরায়েলগামী হওয়ায় হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বক্তব্য সামনে এসেছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, অভিযুক্ত উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে, আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু হামলার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্যবস্তু এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের যোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রাথমিক পর্যায়ে হামাম একাই কাজ করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করেছিলেন। একই সঙ্গে তদন্তে তখন পর্যন্ত ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে কোনো রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে এই ঘটনার পেছনে দায়ী করা যায় না। অভিযুক্তের ব্যক্তিগত উগ্রপন্থী বিশ্বাস, মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো প্রেরণা—কোনটি কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তা প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।

তদন্তে আমিরশাহি, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের ভূমিকা

ঘটনার পর আমিরশাহির সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করেছে। আহত ক্রু সদস্যদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কর্তৃপক্ষ তখন ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্তের কথা জানিয়ে যাচাই না করা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল বিশেষ তদন্তের কথা জানান। এতে ঘটনার পটভূমি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের পাশাপাশি উড়োজাহাজের কারিগরি তথ্য, শারীরিক আলামত এবং ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তে অংশ নিয়েছে। ইসরায়েলও তদন্তে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এপি-র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একাধিক দেশের নিরাপত্তা সংস্থা তদন্তে সহযোগিতা করছে। তবে তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে এসব তথ্যের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন

এই ঘটনা শুধু একজন সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থার কয়েকটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। প্রথমত, এক দেশে কোনো কর্মীর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হলে অন্য দেশে চাকরির আবেদন করার সময় সেই তথ্য কতটা কার্যকরভাবে যাচাই করা হয়? দ্বিতীয়ত, বিমান সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অপরাধের রেকর্ডের পাশাপাশি আচরণগত ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মূল্যায়নের পদ্ধতি কতটা কার্যকর? তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভরযোগ্য?

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে এমন ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক রুটে পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল সাধারণত তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশের পাইলটদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ অনুসরণ করে। ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত কীভাবে ফ্লাইটটির দায়িত্ব পেলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তবে নিরাপত্তা যাচাইয়ের দুর্বলতা প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুরো ব্যবস্থাকে ব্যর্থ ঘোষণা করাও সমীচীন নয়। বরং তদন্তে দেখা জরুরি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে কী তথ্য ছিল, সেই তথ্য আদৌ ভাগ করা হয়েছিল কি না, যাচাইয়ের সময় কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং বিদ্যমান নিয়ম কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না।

এখনো যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি

ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে হামলার ঘটনা ও উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ এবং আমিরশাহির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছে। কিন্তু কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি: হামাম আল-হাম্মামির অতীত কর্মজীবনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? ওমানের কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য অন্য দেশ বা ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে ভাগ করেছিল কি না? অভিযুক্তের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো তাঁর হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না? কোনো সংগঠন বা অন্য ব্যক্তি তাঁকে নির্দেশ, সহায়তা কিংবা প্ররোচনা দিয়েছিল কি না? আর নিয়োগের আগে ফ্লাইদুবাইয়ের যাচাইপ্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে তদন্তকারীদের হাতে থাকা ডিজিটাল তথ্য, উড়োজাহাজের কারিগরি উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যের ওপর। তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ককপিটের দরজা সুরক্ষিত রাখাই যথেষ্ট নয়; পাইলট নিয়োগ, অতীত তথ্য যাচাই এবং দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে দেওয়া এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি ঠেকাতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments