Homeটুডে হেলথভারতে অনুমোদন পেল ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা, বাংলাদেশে কী অবস্থা?

ভারতে অনুমোদন পেল ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা, বাংলাদেশে কী অবস্থা?

দুই ডোজের এই টিকা ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে বাংলাদেশে অনুমোদন, প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন | স্বাস্থ্য ডেস্ক | TODAY TV BD

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাকেদার তৈরি কিউডেঙ্গা টিকা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিকাটির বাজারজাতের অনুমোদন দিয়েছে। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তৈরি এই টিকা চার থেকে ৬০ বছর বয়সীদের দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে ভারতে। টিকাটি দুই ডোজে নিতে হয়, মাঝখানে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হয়। তবে অনুমোদন পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পাওয়া যাবে, এমন নয়। ভারতে বেসরকারি পর্যায়ে টিকাটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাজারে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, ভারত যখন ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা ব্যবহারের পথে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশে এর অবস্থা কী? এ দেশে প্রতিবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবু কিউডেঙ্গা বাংলাদেশে অনুমোদন পেয়েছে কি না, কবে পাওয়া যেতে পারে এবং কারা এই টিকা নিতে পারবেন—এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।

৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রকাশ্য অনলাইন তথ্য ও নথিতে কিউডেঙ্গার বাংলাদেশে বাজারজাতের অনুমোদন নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর অর্থ, টিকাটি বাংলাদেশে অনুমোদিত বা বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত—এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত অবস্থা নিশ্চিত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

ডেঙ্গু নেই, নাকি পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক?

বাংলাদেশে ডেঙ্গু নেই—এমন ধারণা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মেলে না। বরং চলতি বছরেও রোগটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে রয়েছে।

বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত ৭৯ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই ১৪৮ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অক্টোবরেও সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশারি ও মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহার এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করা জরুরি। কিন্তু এসব ব্যবস্থার পাশাপাশি টিকা ব্যবহারের সম্ভাবনাও এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

কিউডেঙ্গা কীভাবে কাজ করে?

কিউডেঙ্গা একটি জীবিত কিন্তু দুর্বল করে দেওয়া ভাইরাস দিয়ে তৈরি টিকা। এতে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরির উপাদান রয়েছে। শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতে ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে রোগের ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য।

ডেঙ্গু ভাইরাসের একাধিক ধরন থাকায় আগে একবার ডেঙ্গু হওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে আর ডেঙ্গু হবে না—এমন নয়। বরং ভিন্ন ধরনের ভাইরাসে পরবর্তী সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণেই একাধিক ধরনকে লক্ষ্য করে তৈরি টিকা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে।

কত ডোজ, কত দিনের ব্যবধান?

কিউডেঙ্গার পূর্ণ টিকাদানসূচিতে দুটি ডোজ রয়েছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী, চার বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য টিকাটি নিবন্ধিত হয়েছে; তবে ব্যবহার করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সুপারিশ ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী।

তবে দুটি ডোজ নিলেই প্রত্যেক ব্যক্তি শতভাগ সুরক্ষিত হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। টিকার কার্যকারিতা ভাইরাসের ধরন, ব্যক্তির বয়স, আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না এবং গবেষণার সময়কাল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

আগে ডেঙ্গু হয়ে থাকতে হবে?

কিউডেঙ্গার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, টিকা নেওয়ার আগে প্রত্যেকের ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক নয়। এ ক্ষেত্রে এটি পুরোনো ডেঙ্গু টিকা ডেংভ্যাক্সিয়ার থেকে আলাদা। তবে আগে ডেঙ্গু হয়নি বলে যে কেউ নিজের সিদ্ধান্তে কিউডেঙ্গা নিতে পারবেন—এমন অর্থ নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিউডেঙ্গা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে মূলত ছয় থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য, যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি এবং রোগের বোঝা উল্লেখযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সুপারিশ ভারতের চার থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য দেওয়া অনুমোদনের সঙ্গে এক নয়। একটি দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে কাদের টিকা দেওয়া উচিত—এ দুটি আলাদা সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশে টিকাটি অনুমোদিত হলে কোন বয়সের মানুষকে দেওয়া হবে, সরকারি কর্মসূচিতে থাকবে কি না এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন হবে।

গবেষণায় কতটা কার্যকর পাওয়া গেছে?

কিউডেঙ্গার কার্যকারিতা নিয়ে বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। আটটি ডেঙ্গু-প্রবণ দেশের ২০ হাজার ৯৯ জন শিশু-কিশোরকে নিয়ে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দেখা যায়, তিন বছরের পর্যবেক্ষণে টিকাটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে ৬২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা ছিল ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ভাইরাসের ধরন ও আগে সংক্রমণ হয়েছিল কি না—এসবের ভিত্তিতে ফলাফলে পার্থক্য ছিল।

ব্রাজিলের বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলছে?

ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে ২০২৪ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় টিকাটি নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে করা বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, এক ডোজের পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা ছিল প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই গবেষণায় দ্বিতীয় ডোজের পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কার্যকারিতা নির্ভরযোগ্যভাবে হিসাব করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। তাই প্রায় ৬৮ শতাংশের এই ফলকে দুই ডোজের কার্যকারিতা বলা ঠিক হবে না।

তবে ২০২৪–২৫ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় সাও পাওলোতে করা পরবর্তী এক বছরের পর্যবেক্ষণে দুই ডোজ নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উপসর্গসহ নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৭৩ দশমিক ১ শতাংশ। ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা পাওয়া গেছে ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এই ফল আশাব্যঞ্জক। তবে মনে রাখা দরকার, এটি নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের ওপর করা পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। বাংলাদেশের সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে একই হারে সুরক্ষা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা এর মাধ্যমে দেওয়া যায় না।

টিকা নিলে কি ডেঙ্গু আর হবে না?

না। কোনো টিকাই শতভাগ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু সংক্রমণ এবং গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু টিকা নেওয়ার পরও কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা-নিরাপত্তা কমিটি ব্রাজিলের টিকাদান-পরবর্তী তথ্য পর্যালোচনা করে বিরল গুরুতর অ্যালার্জি, বিশেষ করে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে। তাই প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে টিকা দেওয়া এবং টিকা নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

কারা টিকা নিতে পারবেন না বা আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

কিউডেঙ্গা জীবিত দুর্বল ভাইরাস দিয়ে তৈরি হওয়ায় সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং গুরুতর রোগপ্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিষিদ্ধ। রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। টিকার কোনো উপাদানে গুরুতর অ্যালার্জি থাকলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে।

টিকা নেওয়ার আগে বয়স, শারীরিক অবস্থা, চলমান চিকিৎসা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু বিদেশে অনুমোদিত হয়েছে বলে নিজে থেকে টিকা সংগ্রহ বা প্রয়োগ করা নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশে কবে আসতে পারে?

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে কিউডেঙ্গার অনুমোদন ও বাজারজাতের জন্য কোনো আবেদন হয়েছে কি না, হলে সেটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার টিকাটির ব্যবহার সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্য সরকারি তথ্য থেকে এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নিশ্চিত করা যায়নি। তাই বাংলাদেশে অনুমোদনের সময় বা বাজারে আসার সম্ভাব্য তারিখ অনুমান করে বলা ঠিক হবে না।

ভারতের ক্ষেত্রেও বাজারজাতের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। তাকেদা ও ভারতের ডা. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে বেসরকারি বাজারে টিকাটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনুমোদন, আমদানি, সরবরাহ, মূল্য এবং কোন জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাবের পানি কতটা কার্যকর?

ডাবের পানি পান করলে শরীরে তরল ও কিছু খনিজ লবণ পাওয়া যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কেউ পান করতে পারলে এটি তরল গ্রহণের একটি উপায় হতে পারে। কিন্তু ডাবের পানি ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকায় না এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের টিকার বিকল্পও নয়।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। শুধু ডাবের পানি পান করে চিকিৎসা নিতে দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখন কী করা জরুরি?

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ব্যাপক সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঘটনা বিবেচনায় কিউডেঙ্গা নিয়ে সিদ্ধান্ত শুধু অনুমোদনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনাও জড়িত।

প্রথমত, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচিত টিকাটির অনুমোদন বা আবেদনসংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট করা। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং জনস্বাস্থ্য গবেষকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপযোগিতা, সম্ভাব্য উপকার, ঝুঁকি ও ব্যয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হলে কোন বয়সের মানুষ অগ্রাধিকার পাবেন এবং টিকাটি সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা জানানো জরুরি।

এর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হবে। টিকা থাকলেও এসব ব্যবস্থা বাদ দেওয়া যাবে না।

শেষ কথা

কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। গবেষণায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভারতেও টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু অনুমোদন আর বাজারে প্রাপ্যতা এক নয়; একইভাবে কোনো দেশে অনুমোদিত হওয়া মানেই অন্য দেশে তা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া নয়।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু নেই—এমন নয়। চলতি বছরেও বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং শত শত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিউডেঙ্গার মতো টিকার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাধারণ মানুষের এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো—বাংলাদেশে টিকাটির অনুমোদন ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা না নেওয়া এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা।

তথ্যসূত্র

১. ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়—কিউডেঙ্গার বাজারজাতের অনুমোদন, ২১ জুলাই ২০২৬। সরকারি বিজ্ঞপ্তি

২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—ডেঙ্গুর টিকা ও কিউডেঙ্গা ব্যবহারের সুপারিশ। প্রশ্নোত্তর

৩. ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা—কিউডেঙ্গার অনুমোদিত ব্যবহার, মাত্রা ও সতর্কতা। ওষুধের তথ্য

৪. ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস—কিউডেঙ্গার তিন বছরের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা গবেষণা। গবেষণাপত্র

৫. দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ—আমেরিকাস—ব্রাজিলে বাস্তব পরিস্থিতিতে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা। গবেষণাপত্র

৬. ই-ক্লিনিক্যাল মেডিসিন—ব্রাজিলে দুই ডোজের পর এক বছরের কার্যকারিতা নিয়ে ২০২৬ সালের গবেষণা। গবেষণাপত্র

৭. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—কিউডেঙ্গার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও অ্যালার্জির ঝুঁকি। নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন

৮. বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর—ডেঙ্গুর দৈনিক পরিস্থিতি। সরকারি ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড

৯. বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সরকারি ওয়েবসাইট

১০. রয়টার্স—বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, ১ অক্টোবর ২০২৬। সংবাদ প্রতিবেদন

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments