ওয়াশিংটনে চীনা প্রেসিডেন্ট; ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর সমঝোতা, বৈঠকে বিরল খনিজ ও প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক আজ, ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে হওয়ার কথা। শি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন এবং জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে বিরল আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। এক দশকেরও বেশি সময় পর শির ওয়াশিংটন সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ঠেকাতে বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতি ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন। আগের চুক্তির আওতায় দুই দেশ নতুন বড় শুল্ক আরোপ না করা এবং কিছু বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছিল। এখন সেই বিরতি আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে আলোচনার সময় তৈরি করা হয়েছে।
বাণিজ্যই কি মূল বিষয়
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় বাণিজ্যঘাটতি, শুল্ক, কৃষিপণ্য, বিরল খনিজ এবং প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্যের প্রবেশ বাড়ানোর বিষয় তুলতে পারে। অন্যদিকে চীন বিরল খনিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের বিরল খনিজ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক বিষয়।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র। একই সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে দ্রুত তথ্য জানানোর একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এআইয়ের বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজন দুই দেশই স্বীকার করছে।
তাইওয়ান ও ইরানও গুরুত্বপূর্ণ
তাইওয়ান ইস্যুতে চীন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে। বৈঠকের আগে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে “চরম সতর্কতা” অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। ফলে বাণিজ্যে সমঝোতার চেষ্টা হলেও নিরাপত্তা ও তাইওয়ান ইস্যুতে মতপার্থক্য বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতও আলোচনার বাইরে থাকছে না। চীনের ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে চাপ দুই দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং ইরানের ওপর কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাতে পারে—এমন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
শির আগমন উপলক্ষে ট্রাম্প যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করেছেন, তার বাইরে আজকের বৈঠকের আসল গুরুত্ব থাকবে বাস্তব সমঝোতায়। বাণিজ্যবিরতি কতদিন স্থায়ী হয়, বিরল খনিজ ও প্রযুক্তিতে নতুন ব্যবস্থা হয় কি না এবং তাইওয়ান ও ইরান প্রশ্নে দুই দেশ কতটা যোগাযোগ রাখে—এসবই পরবর্তী সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস; শিনহুয়া; হোয়াইট হাউস; চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া।




