Homeটুডে ওয়ার্ল্ডইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলছে, কিন্তু দূরত্ব কমেনি; হরমুজই বড় প্রশ্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলছে, কিন্তু দূরত্ব কমেনি; হরমুজই বড় প্রশ্ন

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রথম শাটল আলোচনা; তেহরান চায় নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ওয়াশিংটন চায় হরমুজ উন্মুক্ত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস পর আবার কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মতপার্থক্য বড় হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, এই জলপথ থেকে সবাই সুবিধা নেবে, কিন্তু ইরান নিজে সেখানে চলাচলে বাধার মুখে থাকবে—এটি তারা মেনে নেবে না।

হরমুজ নিয়ে অচলাবস্থা

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেত। যুদ্ধের পর জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান বলছে, মার্কিন নৌ অবরোধ ও সামরিক চাপ কমানো হলে হরমুজ দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করার পথ খুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ রাখতে হবে।
এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ পুনরায় খোলার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল। তবে এটিকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। আলোচনা, সামরিক চাপ এবং পাল্টা হুমকি একই সঙ্গে চলায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

কূটনীতি আর সামরিক চাপ পাশাপাশি

জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, তেহরান চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কাতারসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। অঞ্চলটির দেশগুলোর জন্যও হরমুজ খোলা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেল রপ্তানি, বীমা, জাহাজ চলাচল এবং খাদ্য ও শিল্পপণ্যের পরিবহন খরচ বাড়তে পারে।

সামনে কোন দিকে যাবে পরিস্থিতি

এই মুহূর্তে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দুই পক্ষের আলোচনার ধারাবাহিকতা, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বাস্তব অবস্থা এবং সামরিক হামলা বন্ধের সম্ভাবনা। একটি বিষয়েও স্থায়ী সমঝোতা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স; এপি; এএফপি; আল জাজিরা; জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments