Homeটুডে ওয়ার্ল্ডফলতার পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির...

ফলতার পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’কে স্বাগত জানালেন ‘পুষ্পা’ খ্যাত এই তৃণমূল নেতা; ফলতায় গেরুয়া আবিরের উচ্ছ্বাস

ফলতা (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) | **
২০ মে ২০২৬** পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য পুনর্নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। ‘পুষ্পা’ খ্যাত এই তৃণমূল নেতার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের ফলে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গির খান জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতা বিধানসভার উন্নয়নের জন্য যে ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছেন, তাকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাই ফলতা শান্তিতে থাকুক এবং উন্নয়ন হোক। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজকে সম্মান জানিয়েই আমি এই নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।’’ তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

কেন এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ফলতার নির্বাচনী প্রচার থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একরকম দূরত্ব বজায় রাখা এই পরিস্থিতির বড় কারণ হতে পারে। এতদিন নিজেকে ‘পুষ্পা’ হিসেবে তুলে ধরে লড়াইয়ের বার্তা দিলেও শেষ মুহূর্তে জাহাঙ্গিরের এই সুর পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে রহস্য। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ জাহাঙ্গির খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
এদিকে, গত সোমবার গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গির খান এবং আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ প্রদান করেন। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি কমিশনের বিধি মেনেই ভোট পরিচালনা করেছেন এবং অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন না।

কেন পুনর্নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়ল?

গত ২৯ এপ্রিল মূল ভোটগ্রহণের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দেখা দিয়েছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। কমিশনের স্ক্রুটিনি ও পর্যবেক্ষকের রিপোর্টে উঠে আসা কারণগুলো হলো:

  • সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিভ্রাট: ফলতা কেন্দ্রের বহু বুথে ভোট চলাকালীন ভিডিও রেকর্ডিং বা সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি অথবা তা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার নীতি ও নিয়মের পরিপন্থী।
  • ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ: বিভিন্ন বুথে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য দলের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা প্রভাবিত করে জোর করে ভোট দেওয়ার (ছাপ্পা ভোট) অভিযোগ ওঠে।
  • ভুয়ো ভোটার: অনেক বুথে ভুয়ো ভোটারদের প্রবেশ এবং তাদের ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।
  • অশান্তি ও মারধর: বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশকে মারধর, হুমকি এবং ভোট দিতে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে।
  • নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন: কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮৫টি বুথের মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি বুথে ইভিএম (EVM) নিয়ে কারচুপি, নির্দিষ্ট দলের প্রতীকে টেপ লাগিয়ে দেওয়া এবং বুথের ভেতর অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও ফলতার বিষয়টি অমীমাংসিত ছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এরপর, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গিরের এই ঘোষণার পর গেরুয়া কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় এক বিশাল ‘রোড শো’ করছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ফলতার নির্বাচনী প্রচার থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একরকম দূরত্ব বজায় রাখা এই পরিস্থিতির বড় কারণ হতে পারে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ জাহাঙ্গির খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

📊 ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র

  • কেন্দ্র: ফলতা বিধানসভা।
  • ঘটনা: তৃণমূল প্রার্থীর পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো।
  • মূল কারণ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’কে স্বাগত জানানো।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: ইভিএমে জাহাঙ্গির খানের নাম থাকলেও তিনি আর লড়াইয়ে থাকছেন না।
    নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে এই ঘটনা ফলতার পুনর্নির্বাচনের আগের পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মোড় দিল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২১ মে ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন (১৯ মে ২০২৬), নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট, ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সূত্র।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments