১৬ মে আসছেন প্রধানমন্ত্রী; খাল খনন উদ্বোধন ও জনসভাসহ থাকছে ব্যস্ত কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক | চাঁদপুর | ১১ মে, ২০২৬
দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ মে (শনিবার) চাঁদপুর সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১১ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর এই সফরের চূড়ান্ত সফরসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এই পত্রে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে তারেক রহমান চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন। এবার সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর এই আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
চূড়ান্ত সফরসূচি: একনজরে ১৬ মে
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দেবেন। দিনভর তাঁর কর্মসূচিগুলো হলো:
- সকাল ০৮:৩০: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
- সকাল ১১:৩০: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় ভাষণ। (হাজীগঞ্জের জনসভা বাতিল করে এটি যুক্ত করা হয়েছে)।
- দুপুর ১২:৩০: শাহরাস্তি উপজেলায় খোদ্দ খাল খনন কাজের উদ্বোধন।
- দুপুর ০১:৪৫: চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন।
- বেলা ০৩:৩০: চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
- বিকেল ০৫:০০: চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সভায় যোগদান।
- সন্ধ্যা ০৬:৩০: ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ।
বিশ্বখাল পুনঃখনন: পাল্টে যাবে শাহমাহমুদপুরের চিত্র
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের অবহেলিত বিশ্বখাল নতুন করে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ডাকাতিয়া নদী থেকে শুরু হয়ে মতলব দক্ষিণ হয়ে মেঘনা-ধনাগোদা নদীতে মিশেছে।
- প্রকল্প ব্যয়: ১ কোটি টাকারও বেশি।
- পরিকল্পনা: মেশিনের সাহায্যে খনন করে মাটি দিয়ে খালের দুই পাড়ে রাস্তা নির্মাণ এবং ২০ ফুট অন্তর ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করা হবে।
- সুফল: জলাবদ্ধতা নিরসন ও নৌ-চলাচল সহজ হবে।
রাজনৈতিক মহলে সাজ সাজ রব
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটিয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে এক বিশাল জনসভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে (যা সফরসূচির সমান্তরালে বা জনসভার অংশ হিসেবে আয়োজিত হবে)। তিনি বলেন:
“২০০৪ সালে তিনি যখন এসেছিলেন, তখন ছিলেন নিবেদিত কর্মী। আর এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী। এটি চাঁদপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের বিষয়।”
ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্য সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করেছেন। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়গুলোও এই সফরের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
🔎 বিশ্লেষণ: কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?
তারেক রহমানের এই সফরটি মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড (যেমন: খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড) সরাসরি তদারকি এবং দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার একটি বড় প্রয়াস। বিশেষ করে কুমিল্লার বরুড়ায় পথসভা যুক্ত করা এবং চাঁদপুরে জেলা বিএনপির নেতাদের সাথে বৈঠক করার সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
📊 গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র:
- শেষ সফর: ২০০৪ সাল।
- প্রধান প্রকল্প: বিশ্বখাল ও খোদ্দ খাল খনন।
- প্রধান ইভেন্ট: ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জেলা বিএনপির সভা।
তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (অফিসিয়াল পত্র), জেলা প্রশাসন চাঁদপুর ও স্থানীয় বিএনপি সূত্র (১১ মে, ২০২৬)।



