Homeটুডে বাংলাফেনীতে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার: মুক্তিপণ দাবি ও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

ফেনীতে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার: মুক্তিপণ দাবি ও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দাগনভূঞা, ফেনী | ১১ মে, ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর একটি ডোবা থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ হাসানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

নিহত শিশু হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

অপহরণ নাটক ও মুক্তিপণ দাবি

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) বেলা তিনটার দিকে বাসার সামনে থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। এরপর ওইদিন রাতেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি শিশুটির বাবার মুঠোফোনে কল করে জানায় যে শিশুটি তাদের কাছে রয়েছে।

  • টাকার অঙ্ক: প্রথমে ১২ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।
  • পরিবারের আর্তনাদ: নিহতের মা তারজিনা আক্তার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। এত টাকা আমরা কোথায় পাব? পরে দেখি নম্বরটি বন্ধ হয়ে গেছে।”

পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া এবং মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলেও তারা উদ্ধারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।


🔎 বিশ্লেষণ: মুক্তিপণ নাকি প্রতারণা?

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফজলুল আজীম বিষয়টিকে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে:

  1. ফেসবুক পোস্টের সুযোগ: শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা ফেসবুকে নিজের নম্বর দিয়ে পোস্ট দেন। সেখান থেকে নম্বর নিয়ে কোনো প্রতারক চক্র মুক্তিপণ দাবি করে ফোন দিতে পারে।
  2. অবস্থান: তদন্তে দেখা গেছে, যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল সেটি নওগাঁ এলাকার।
  3. মৃত্যুর কারণ: ওসির দাবি, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে।

📊 ঘটনার টাইমলাইন ২০২৬

তারিখ ও সময়ঘটনা
৯ মে (শনিবার), বেলা ৩টাবাসার সামনে থেকে শিশু হাসান নিখোঁজ।
৯ মে (শনিবার), সন্ধ্যাদাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)।
৯ মে (শনিবার), রাতঅজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক ফোন ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি।
১১ মে (সোমবার), বেলা ১১টাডোবা থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার।

আইনি পদক্ষেপ

আশ্চর্যের বিষয় হলো, মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ বা মামলা না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তবে একটি শিশু নিখোঁজের পর মুক্তিপণ দাবি এবং পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের এমন অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


তথ্যসূত্র: প্রতিনিধি, ফেনী ও দাগনভূঞা থানা পুলিশ (১১ মে, ২০২৬)।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments