কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়ছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ অস্ট্রেলিয়ার ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফার্মাস। এনভিডিয়ার সমর্থনপুষ্ট এই প্রতিষ্ঠান শুক্রবার ৫০০ কোটি ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। এর বদলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে তারা।
প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ
ফার্মাসের পরিকল্পিত শেয়ার বিক্রিটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম হতে পারত। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। আগস্টের একটি অর্থ সংগ্রহের পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ছিল প্রায় ১০৫০ কোটি ডলার। এবার শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনায় তা বেড়ে প্রায় ৩০৬০ কোটি ডলারে পৌঁছায়—দুই মাসেরও কম সময়ে প্রায় তিন গুণ।
প্রতিষ্ঠানটি এআই ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরি করে। তবে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে ছিল এর ঋণের পরিমাণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে আয় করার সক্ষমতা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্মাসের ঋণ প্রায় ৩০০০ কোটি ডলার বলে যৌথ ব্যবস্থাপকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অংশীদারের পরিকল্পনা বদলও প্রভাব ফেলেছে
ফার্মাসের একটি বড় ডেটা সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদার সিডিসি ডেটা সেন্টার্সের প্রধান নির্বাহী এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির ১ দশমিক ৬ গিগাওয়াট ক্ষমতার এআই কারখানা নির্মাণ পরিকল্পনা আর এগোচ্ছে না। এই বক্তব্যের পর কয়েকজন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী তাঁদের প্রাথমিক আগ্রহ প্রত্যাহার করেন বলে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ফার্মাস জানিয়েছে, তারা এখন বেসরকারি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিকল্প বিবেচনা করবে। নাসডাকে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি মন্তব্য করেনি।
এআই বিনিয়োগের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
একই সময়ে ওপেনএআইয়ের আয়সংক্রান্ত হিসাব নিয়েও আলোচনা চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের সেপ্টেম্বরের বার্ষিকীকৃত আয় প্রায় ৫০০০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছে, যা এর আগে দেওয়া প্রায় ৭০০০ কোটি ডলারের ইঙ্গিতের চেয়ে কম। তবে এই পার্থক্যের বড় কারণ হলো আয় গণনার পদ্ধতি। ওপেনএআই ক্লাউড অংশীদারদের মাধ্যমে বিক্রি করা কিছু আয় নিজের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে না, যা প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের হিসাবের সঙ্গে তুলনা জটিল করে তোলে। এক মাসের আয়কে ১২ দিয়ে গুণ করে তৈরি বার্ষিকীকৃত আয় দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও তা প্রকৃত বার্ষিক আয় বা লাভের নিশ্চয়তা দেয় না।
এআই প্রযুক্তির চাহিদা ও বিনিয়োগ এখনও বড়, তবে ফার্মাসের আইপিও স্থগিত হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রকৃত আয়, ঋণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতারও কঠোর হিসাব চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




