৭৫ বছর বয়সে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রয়াত ভারতীয় সিনেমার অনন্য অভিনেতা; পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘ওয়েলকাম’ থেকে ‘নটসম্রাট’—অসংখ্য চরিত্রে রেখে গেলেন অবিস্মরণীয় ছাপ
শোবিজ টুডে ডেস্ক
পর্দায় তিনি কখনো ভয়ংকর খলনায়ক, কখনো ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ, কখনো ভেঙে পড়া স্বামী, কখনো রসিক গ্যাংস্টার। কখনো আবার এমন এক চরিত্র, যার চোখের নীরবতাই বলে দিত হাজার শব্দের গল্প। সংলাপ বলার এক স্বতন্ত্র ভঙ্গি, কণ্ঠের তীব্রতা, মুখের অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের ভেতর ঢুকে যাওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতায় কয়েক প্রজন্মের দর্শককে মুগ্ধ করেছিলেন তিনি।
সেই কণ্ঠ আজ থেমে গেল।
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ভোরে ভারতের গোয়ার নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেও সফল হননি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে; ঠিক কী কারণে তা ঘটেছিল, সেটি তখনো স্পষ্ট ছিল না। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শোকের ছায়া নেমে আসে ভারতীয় চলচ্চিত্রে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার, রীতেশ দেশমুখ, রাজনীতিক ও অসংখ্য শিল্পী স্মরণ করেন এই অভিনেতাকে। মোদি বলেছেন, নানা পাটেকরের তীব্রতা, স্বাতন্ত্র্য ও অনন্য উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল এবং তাঁর অভিনীত বহু চরিত্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।
যে শিশুর জীবন শুরু হয়েছিল অভাবের মধ্যে
নানা পাটেকরের জন্মনাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় তাঁর জন্ম। পরে মুম্বাইয়ে পড়াশোনা করেন স্যার জে. জে. ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড আর্টে। কিন্তু তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল না তারকাখচিত। ছিল অর্থকষ্ট, সংগ্রাম এবং টিকে থাকার লড়াই।
কৈশোরেই পরিবারকে কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্কুলে পড়ার সময় তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন, দীর্ঘ পথ হেঁটে কাজে যেতেন—নিজের মুখে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই দিনগুলোর কথা বলেছেন তিনি। জীবনের সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর অভিনয়ে বাস্তবতার এক তীব্র স্পর্শ তৈরি করেছিল।
নানা পাটেকরের অভিনয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল শুধু কোনো পাঠশালা নয়—মঞ্চ। স্কুলজীবন থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মারাঠি থিয়েটারের শক্তিশালী ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি অভিনয়ের ভাষা, শরীরী অভিব্যক্তি, কণ্ঠনিয়ন্ত্রণ এবং চরিত্রের ভেতরের আবেগকে প্রকাশ করার নিজস্ব কৌশল তৈরি করেন। পরে সেই মঞ্চ-অভিজ্ঞতাই হয়ে ওঠে তাঁর চলচ্চিত্র অভিনয়ের অন্যতম ভিত্তি।
‘গমন’ থেকে শুরু, ‘পরিন্দা’তে বিস্ফোরণ
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু। এরপর কয়েক বছর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। কিন্তু ১৯৮৯ সালের ‘পরিন্দা’ তাঁর ক্যারিয়ারে নিয়ে আসে বড় পরিবর্তন।
‘পরিন্দা’য় এক অন্ধকার জগতের চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের একসঙ্গে নাড়া দেয়। সেই অভিনয়ের জন্য তিনি পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান। একই কাজ তাঁকে এনে দেয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
এরপর একের পর এক চরিত্রে তিনি প্রমাণ করতে থাকেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের অভিনেতা নন। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বৈচিত্র্য।
‘ক্রান্তিবীর’—এক চরিত্র, এক বিস্ফোরক অভিনয়
১৯৯৪ সালের ‘ক্রান্তিবীর’ নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। দুর্নীতি, সামাজিক অন্যায় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাধারণ মানুষের চরিত্রে তিনি যে তীব্রতা নিয়ে অভিনয় করেছিলেন, তা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
এই ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। একইসঙ্গে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও অর্জন করেন। তাঁর সংলাপ বলার ধরণ, রাগ, হতাশা ও প্রতিবাদের বিস্ফোরক প্রকাশ চরিত্রটিকে ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির স্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করে।
কিন্তু নানা পাটেকরের অভিনয় কেবল প্রতিবাদী চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
‘অগ্নিসাক্ষী’তে ভয়ংকর, ‘নটসম্রাটে’ অসহায়
১৯৯৬ সালের **‘অগ্নিসাক্ষী’**তে তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে একই সঙ্গে ছিল ভয়, নিষ্ঠুরতা, অস্থিরতা ও অন্ধকার মানসিকতা। এই অভিনয়ের জন্য তিনি আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হন। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ক্ষমতার গভীরতার অন্যতম প্রমাণ।
পরবর্তী সময়ে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপরাধ’, ‘রাজনীতি’সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। আর বাণিজ্যিক সিনেমায় তাঁর আরেকটি জনপ্রিয় রূপ সামনে আসে ‘ওয়েলকাম’-এ উদয় শেঠ চরিত্রে। একসময় যে অভিনেতাকে দর্শক মূলত তীব্র ও সিরিয়াস চরিত্রের জন্য চিনতেন, তিনিই পরে হাস্যরসাত্মক চরিত্রেও সমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কাজগুলোর একটি ‘নটসম্রাট’। বয়সের ভার, স্মৃতি, একাকিত্ব ও জীবনের শেষপ্রান্তের অসহায়তা নিয়ে নির্মিত এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় আবারও প্রমাণ করে—নানা পাটেকর শুধু সংলাপের অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আবেগের অভিনেতা।
অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালকও
নানা পাটেকরের পরিচয় শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ দিয়ে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে নির্মাণের কাজেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর চলচ্চিত্রচিন্তায় বরাবরই মানুষের সংকট, সমাজের বাস্তবতা ও চরিত্রের নৈতিক দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাঁর অভিনয়শৈলী ছিল এমন, যেখানে সাজসজ্জার চেয়ে চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত নায়কোচিত সৌন্দর্য, গ্ল্যামার কিংবা পর্দার জৌলুস তাঁর জন্য কখনো প্রধান ছিল না। বরং একজন মানুষের দুর্বলতা, রাগ, ভয়, ক্ষোভ, অপরাধবোধ কিংবা হাস্যরস—এসবকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই ছিল তাঁর শক্তি।
সেই কারণেই একই দর্শক তাঁকে ‘ক্রান্তিবীর’-এ দেখে উত্তেজিত হয়েছেন, ‘অগ্নিসাক্ষী’-তে ভয় পেয়েছেন, ‘নটসম্রাট’-এ কেঁদেছেন এবং ‘ওয়েলকাম’-এ হেসেছেন।
পুরস্কারে সমৃদ্ধ এক দীর্ঘ ক্যারিয়ার
নানা পাটেকরের ঝুলিতে রয়েছে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্য। পেয়েছেন একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর পুরস্কারের তালিকা আসলে তাঁর অভিনয়জীবনের বৈচিত্র্যেরই প্রতিচ্ছবি—সেরা অভিনেতা, পার্শ্ব অভিনেতা থেকে খলনায়ক—বিভিন্ন বিভাগেই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
কিন্তু পুরস্কারের সংখ্যা দিয়েই নানা পাটেকরের গুরুত্ব মাপা কঠিন। কারণ তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল এমন একটি অভিনয়ভাষা তৈরি করা, যা নকল করা কঠিন। তাঁর কণ্ঠ, বিরতি, চোখের দৃষ্টি, সংলাপ ছোড়ার গতি—সব মিলিয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি অভিনয়-ধারা।
পর্দার বাইরেও অন্য এক নানা
অভিনয়ের বাইরেও নানা পাটেকরের জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায় ছিল সমাজসেবা। ২০১৫ সালে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে তিনি NAAM Foundation গড়ে তোলেন। মহারাষ্ট্রের খরা-পীড়িত কৃষক, গ্রামাঞ্চলের পানি সংকট এবং কৃষকদের আত্মহত্যা—এসব সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংগঠনটি কাজ শুরু করে।
সংস্থাটির উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কৃষকদের সহায়তা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত খাল ও পানি প্রকল্প পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ উন্নয়ন। অর্থাৎ পর্দায় যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো চরিত্রে অভিনয় করতেন, বাস্তব জীবনেও তিনি কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের সংকট নিয়ে কাজ করেছেন।
শেষ দিন পর্যন্ত কাজের ভেতরেই
জীবনের শেষ পর্যায়েও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি নানা পাটেকর। ২০২৬ সালেও তাঁকে নতুন চলচ্চিত্রে দেখা গেছে এবং মৃত্যুর পরও তাঁর কয়েকটি কাজ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ‘ঈঠা’, ‘শক্তি শালিনী’, ‘দ্য কনফেশন অব মেরি’সহ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁর আসন্ন কাজগুলোর কয়েকটির শুটিং তিনি মৃত্যুর আগেই শেষ করেছিলেন।
অর্থাৎ শেষ সময়টুকুও কেটে গেছে কাজের মধ্যেই। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের নতুন ছবির ডাবিংয়ের কাজ নিয়ে কথা বলেছিলেন বলেও প্রতিবেদন এসেছে।
শোকের ভাষায় ফিরে আসছে ‘নানা’
নানা পাটেকরের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে একের পর এক শোকবার্তা আসতে থাকে।
অক্ষয় কুমার স্মরণ করেছেন তাঁর সঙ্গে কাজের স্মৃতি। রীতেশ দেশমুখ তাঁকে এমন এক অভিনেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার বিকল্প নেই। রাজনীতিক, সহশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তাঁর স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী এবং ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, নানা পাটেকরের চলে যাওয়া হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, নানা এমন সব চরিত্র উপহার দিয়েছেন, যেগুলো বহু প্রজন্ম মনে রাখবে।
এই কথাটিই হয়তো সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে তাঁর উত্তরাধিকার।
কারণ নানা পাটেকর কেবল সিনেমায় অভিনয় করেননি। তিনি চরিত্রকে বেঁচেছেন। তাঁর বলা একটি সংলাপ যেমন দর্শকের মনে থেকেছে, তেমনি তাঁর নীরবতাও থেকে গেছে। তিনি নায়ক ছিলেন, খলনায়ক ছিলেন, বাবা ছিলেন, স্বামী ছিলেন, পুলিশ ছিলেন, অপরাধী ছিলেন, সাধারণ মানুষ ছিলেন—কিন্তু প্রতিটি চরিত্রেই কোথাও না কোথাও লুকিয়ে ছিল নানা পাটেকরের নিজস্ব সত্যতা।
শেষ দৃশ্যের পরও যাঁর গল্প শেষ হয় না
একজন অভিনেতার মৃত্যু মানে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর মৃত্যু নয়। বরং সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন করে ফিরে দেখা।
নানা পাটেকরের ক্ষেত্রেও তাই হবে। নতুন প্রজন্ম আবার ‘পরিন্দা’ দেখবে। ‘ক্রান্তিবীর’-এর সংলাপ আবার শুনবে। ‘অগ্নিসাক্ষী’র অন্ধকার চরিত্রটি দেখে শিউরে উঠবে। ‘নটসম্রাট’-এ হয়তো আবারও চোখ ভিজবে। আর ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেঠ দেখে হয়তো নতুন প্রজন্মও হেসে উঠবে।
পর্দার আলো নিভে গেছে। মানুষটি আর নতুন কোনো চরিত্রে দাঁড়াবেন না ক্যামেরার সামনে। কিন্তু যে অভিনেতা একটি চরিত্রকে দর্শকের স্মৃতিতে স্থায়ী করে দিতে পারেন, তাঁর মৃত্যু কখনোই পর্দা নামিয়ে দেয় না।
নানা পাটেকরের বিদায় তাই শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়; এটি ভারতীয় অভিনয়ের এক স্বতন্ত্র যুগের অবসান।
নানা পাটেকর নেই—কিন্তু তাঁর কণ্ঠ আছে, তাঁর চরিত্রগুলো আছে, তাঁর অভিনয় আছে। আর আছে কোটি দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে থাকা সেই মানুষটি, যিনি অভিনয়কে শুধু পেশা নয়, এক ধরনের সত্যে পরিণত করেছিলেন।
নানা পাটেকরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
ওম শান্তি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো—ভারত সরকার, ফিল্মফেয়ার, প্রোথম আলো, NAAM Foundation এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।




