Homeটুডে নেশনজাতিসংঘে শুক্রবার ভোরে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ুতে জোর

জাতিসংঘে শুক্রবার ভোরে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ুতে জোর

বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য; এর আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব এবং জলবায়ু অভিযোজনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টায় অর্থাৎ নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা সংকট। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি পাঁচ দফা প্রস্তাবে দ্রুত প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ, সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা, বিচার ও জবাবদিহি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন।

জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশের বার্তা

জাতিসংঘের আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে জানান, চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগের কথাও তিনি জানিয়েছেন। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কাজের লক্ষ্য বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাধার সংরক্ষণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানো।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে শুধু জাতীয় অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অনুমানযোগ্য অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন।

বক্তব্যে কোন কোন বিষয় থাকতে পারে

সরকার আগে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহারের বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কাঠামো সংস্কারের বিষয়ও আলোচনায় আসার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শুক্রবারের ভাষণ তাই শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু অর্থায়ন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে দেশের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলা ট্রিবিউন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments