প্রায় ৩০০ অ্যাকাউন্ট স্থগিতের তথ্য; আরও কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট নজরদারিতে—ফাইভআরের নীতিমালা নিয়ে নতুন আলোচনা
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে বিটোপিয়া গ্রুপকে নিয়ে। প্রথম আলোর ২৪ সেপ্টেম্বরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভআরে বিটোপিয়াকে ঘিরে সংঘবদ্ধভাবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ভুয়া অর্ডার ও রিভিউ ব্যবহার এবং মার্কেটপ্লেসের র্যাংকিং প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে বিটোপিয়া-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি ফাইভআর অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে আরও কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট নজরদারি ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
ফাইভআরের বক্তব্য কী
ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৪ আগস্ট ফাইভআরের বাংলাদেশ কমিউনিটি ফোরামে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের হয়ে ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনা এবং মার্কেটপ্লেসের অবস্থান প্রভাবিত করতে ভুয়া অর্ডার ও রিভিউ ব্যবহারের অভিযোগের কথা বলা হয়। তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি বিটোপিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ফাইভআর জানিয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে কিছু অ্যাকাউন্ট ও অর্ডার শনাক্ত করা হয়েছে এবং নীতিমালা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মার্কেটপ্লেসে কৃত্রিমভাবে অর্জিত সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল।
কর্মীদের পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সাবেক কর্মী ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হাজারো কর্মীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে তাদের নামে ফাইভআর অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কর্মী চাকরি ছাড়ার পরও নিজের নামে খোলা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাননি—এমন অভিযোগও এসেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একজন ব্যক্তির পরিচয়ে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করলে পরিচয় যাচাই, নীতিমালা এবং প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ভুয়া অর্ডার বা রিভিউয়ের মাধ্যমে কোনো গিগের অবস্থান কৃত্রিমভাবে বাড়ানো বা কমানোর অভিযোগ উঠলে তা অন্য ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসায়িক সুযোগেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রভাব
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসনির্ভর। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সেটির প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্য ফ্রিল্যান্সারদের ওপরও পড়তে পারে। বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা, অ্যাকাউন্ট যাচাই এবং বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের পরিচিতি—সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফাইভআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে কী পাওয়া যায়। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ থাকবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো; ফাইভআরের বাংলাদেশ কমিউনিটি ফোরামের ৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি।




