Homeটুডে ওয়ার্ল্ডভেনেজুয়েলার তেল খাতে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে Chevron

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে Chevron

উৎপাদন দ্বিগুণ করে দিনে ৬ লাখ ব্যারেলে নেওয়ার পরিকল্পনা; Eni আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে—বদলাচ্ছে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অর্থনীতি

কারাকাস | ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের দুর্বল তেল শিল্পকে নতুন করে গড়ে তুলতে Chevron ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। মার্কিন কোম্পানিটি আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে নিজেদের তেল উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। একই সময়ে ইতালির Eni ভেনেজুয়েলার Orinoco Belt-এর Junin 5 ভারী তেলক্ষেত্রে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

বুধবার কারাকাসে এক অনুষ্ঠানে Chevron, Eni, GE Vernova এবং আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণের চুক্তি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করে। অনুষ্ঠানটিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস এবং মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট উপস্থিত ছিলেন।

একসময় প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেল, এখন মাত্র ১২.৫ লাখ

ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদক ছিল। ১৯৯০-এর দশকে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। কিন্তু বিনিয়োগের ঘাটতি, ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার পরিবর্তনের পর শিল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে সংকটে রয়েছে।

বর্তমানে দেশটির উৎপাদন প্রায় ১২.৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক, যা আগের সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় অনেক কম। নতুন বিনিয়োগের লক্ষ্য হলো এই ব্যবধান দ্রুত কমানো।

Chevron-এর পরিকল্পনায় বড় উৎপাদন লাফ

Chevron বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় অন্যতম বড় বিদেশি তেল কোম্পানি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কোম্পানিটি আগামী পাঁচ বছরে উৎপাদন দ্বিগুণ করার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে।

এই বিনিয়োগ সফল হলে Chevron-এর ভেনেজুয়েলীয় উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল দৈনিক হতে পারে। বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ হলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের দামের ওপর নিচের দিকে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—যদিও তা নির্ভর করবে বিশ্বের মোট তেল চাহিদা, অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

Eni-ও ঢুকছে বড় ভারী তেলক্ষেত্রে

Eni ভেনেজুয়েলার বিশাল Orinoco Belt-এর Junin 5 এলাকায় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কোম্পানিটির বর্তমান যৌথ উদ্যোগকে ২৫ বছরের production-sharing contract-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। Eni জানিয়েছে, Junin 5 বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন করে এবং দশকের শেষ নাগাদ তাদের বিভিন্ন ভেনেজুয়েলীয় প্রকল্প থেকে মোট উৎপাদনের লক্ষ্য ৪ লাখ ব্যারেল দৈনিক

বিদ্যুৎ সংকটও একই পরিকল্পনার অংশ

ভেনেজুয়েলার সমস্যা শুধু তেল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। GE Vernova একটি বিদ্যুৎ খাতের অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে, যার লক্ষ্য দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা করা।

অর্থাৎ নতুন মার্কিন ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ শুধু তেল উত্তোলন বাড়ানোর প্রকল্প নয়; বিদ্যুৎ ও শিল্প অবকাঠামোও এর অংশ হয়ে উঠছে।

কেন এবার এত বড় বিনিয়োগ সম্ভব হচ্ছে

ভেনেজুয়েলা জানুয়ারি মাসে একটি বড় তেল সংস্কার আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে বিদেশি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। এতে একদিকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ঢুকবে, অন্যদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু চুক্তির সঙ্গে বিতর্কও আছে

এই নতুন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বড় চুক্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। North American Blue Energy Partners নামের মার্কিন সমর্থিত একটি কোম্পানি ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাওয়ার চুক্তি করেছে। এর আওতায় প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুদের কথা বলা হয়েছে।

চুক্তির স্বচ্ছতা ও অংশীদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিনিয়োগের গতি বাড়লেও রাজনৈতিক ও আইনি ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

📊 সংখ্যায় ভেনেজুয়েলার তেল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা

• বর্তমান উৎপাদন: প্রায় ১.২৫ মিলিয়ন ব্যারেল/দিন
• ১৯৯০-এর দশকের সর্বোচ্চ উৎপাদন: ৩ মিলিয়ন+ ব্যারেল/দিন
• Chevron বিনিয়োগ: $7 বিলিয়ন+
• Chevron-এর সম্ভাব্য উৎপাদন: ৬ লাখ ব্যারেল/দিন
• Eni বিনিয়োগ: $1.5 বিলিয়ন
• Junin 5 বর্তমান উৎপাদন: প্রায় ১২,০০০ ব্যারেল/দিন

🇧🇩 বিশ্ব তেলের দামের প্রভাব বাংলাদেশে কতটা আসতে পারে?

ভেনেজুয়েলার উৎপাদন দ্রুত বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে পারে। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ঝুঁকি খুব বেশি; ফলে ভেনেজুয়েলার সম্ভাব্য অতিরিক্ত উৎপাদন তাৎক্ষণিকভাবে সেই চাপ পুরোপুরি কমাতে পারবে না।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে আন্তর্জাতিক তেলের দামের সামগ্রিক গতিপথ।

🧭 এরপর কী

নতুন চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন, Chevron-এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতির পরিবর্তন—এই তিনটি বিষয় সামনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সফল হলে দেশটি আবার বৈশ্বিক তেলবাজারে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: Reuters, AP, Venezuelan government, U.S. Department of Energy।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments