Homeটুডে ওয়ার্ল্ডG20-তে ঋণ, শুল্ক ও ইরান নিয়ে বড় অর্থনৈতিক সমীকরণের লড়াই

G20-তে ঋণ, শুল্ক ও ইরান নিয়ে বড় অর্থনৈতিক সমীকরণের লড়াই

বিশ্বের মোট ঋণ প্রায় ৩৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারে; যুক্তরাষ্ট্র প্রবৃদ্ধিকে সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরছে, পাশাপাশি চীন ও ইরান নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে

অ্যাশভিল, যুক্তরাষ্ট্র | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির সামনে এখন একসঙ্গে কয়েকটি বড় ঝুঁকি—বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে G20-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনের বৈঠকে واشিংটন বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোকে ঋণের চাপ কমানোর প্রধান পথ হিসেবে তুলে ধরছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৈঠকের শুরুতে বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি বিপুল ঋণের বোঝা বহন করছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ হলো প্রবৃদ্ধি। Reuters-এর হিসাবে, চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বের মোট ঋণ প্রায় ৩৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

ঋণের পাহাড় কমাতে প্রবৃদ্ধির ওপর জোর ওয়াশিংটনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো। বেসেন্ট বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, অকার্যকর করব্যবস্থা, কম বিনিয়োগ, বাজারের বিভাজন এবং দক্ষ কর্মীর ঘাটতি প্রবৃদ্ধিকে আটকে রাখছে।

ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগের ঢেউ তৈরি হওয়ার কথা বলেছেন। তার ভাষায়, বিশ্ব অর্থনীতি এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে আগে যে ‘savings glut’ দেখা যেত, তার জায়গায় এখন বড় বিনিয়োগের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা, তেলের বাজারে এর সরাসরি প্রভাব

G20 বৈঠকে অর্থনীতির সঙ্গে ভূরাজনীতি সরাসরি জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে অন্য দেশগুলো ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে দিক এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা শেষ করতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো হোক।

কিন্তু একই সময় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। ফলে G20-এর অর্থনৈতিক আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়; এটি সরাসরি মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের সঙ্গে যুক্ত।

চীনকে ঘিরে নতুন বাণিজ্য চাপ

ওয়াশিংটন G20 সদস্যদের চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক বেশি এবং দেশটির অর্থনীতি দুর্বল থাকায় রপ্তানিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি চীনের অর্থনীতিকে অভ্যন্তরীণ ভোগের দিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অবস্থানের সঙ্গে অনেক দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও একই সঙ্গে সস্তা আমদানি ও শিল্প প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

বাজারে কেন উদ্বেগ বাড়ছে

G20 বৈঠকের আগেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৪.৭৬৪ শতাংশে উঠেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে Dow Jones, S&P 500 এবং Nasdaq—তিনটিই কমেছে।

উচ্চ তেলমূল্য যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। সেটি হলে ঋণের খরচ বাড়বে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

📊 বৈশ্বিক অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• বিশ্বের মোট ঋণ: প্রায় $353 ট্রিলিয়ন
• U.S. 10-year Treasury yield: 4.764%
• Brent crude: $90.34/ব্যারেল
• Dow Jones: -0.67%
• S&P 500: -0.49%
• Nasdaq: -0.39%

🇧🇩 বাংলাদেশের জন্য এর গুরুত্ব

বিশ্ববাজারে তেল ও সুদের হার বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ পড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য কিছু সুযোগ এবং কিছু ঝুঁকি—দুই ধরনের প্রভাবই তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি খাতে কোনো দেশ থেকে সরবরাহ সরে এলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে; আবার বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে বিপরীত প্রভাবও পড়তে পারে। এই ফলাফল নির্ভর করবে নতুন বাণিজ্যনীতির ধরন ও বাস্তবায়নের ওপর।

🧭 এরপর কী

G20 বৈঠকের ফলাফল থেকে বোঝা যাবে বড় অর্থনীতিগুলো ঋণ, মূল্যস্ফীতি, চীন ও ইরান—এই একাধিক সংকট মোকাবিলায় কতটা সমন্বিত অবস্থান নিতে পারে। তবে সদস্য দেশগুলোর স্বার্থভেদ বড় হওয়ায় একক নীতি বা বড় যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হবে না।

📌 তথ্যসূত্র

Reuters, G20, U.S. Treasury, Federal Reserve।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments