Homeটুডে নেশনগ্রেপ্তার, রিমান্ড, লকআপ ও মোবাইল কোর্টে মারধর: আইন কি সরকারি কর্মকর্তাকে কাউকে...

গ্রেপ্তার, রিমান্ড, লকআপ ও মোবাইল কোর্টে মারধর: আইন কি সরকারি কর্মকর্তাকে কাউকে পেটানোর ক্ষমতা দিয়েছে?

গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কতটুকু বলপ্রয়োগ বৈধ? রিমান্ডে কি আসামিকে মারধর করা যায়? থানার লকআপে চড়-থাপ্পড়ের অনুমতি আছে কি? আর মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট কি ঘটনাস্থলেই কাউকে শারীরিকভাবে ‘শাস্তি’ দিতে পারেন? বাংলাদেশের সংবিধান, ফৌজদারি আইন, নির্যাতনবিরোধী আইন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কী বলছে?

কভার স্টোরি | TODAY TV BD

বাংলাদেশে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য নতুন নয়। কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন, কখনো গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তি হচ্ছে, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনকে মারধরের ভিডিও।

থানায় নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ডে নিয়ে জেরা, লকআপে অবস্থান কিংবা অভিযানের সময় সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে আচরণ—এসব নিয়েও বহু বছর ধরে অভিযোগ আছে।

আর সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কাউকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, সেটি কি ‘তাৎক্ষণিক শাস্তি’ হিসেবে আইনসম্মত?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করতে হয়:

রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা আইন প্রয়োগ করতে পারেন; কিন্তু তিনি নিজে আইন হয়ে যেতে পারেন না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের আইন অনুযায়ী এবং কেবল আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে আইনসম্মত কারণ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আর ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ সরাসরি নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর শাস্তি বা আচরণ নিষিদ্ধ করেছে।

গ্রেপ্তারের সময় কি পুলিশ বা অন্য কর্মকর্তা মারধর করতে পারেন?

এখানে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি যদি জোরপূর্বক গ্রেপ্তার প্রতিরোধ করেন বা পালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে গ্রেপ্তার কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় উপায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু একই ধারার ৫০ ধারায় বলা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ঠেকানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার বেশি restraint বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

অর্থাৎ—

প্রতিরোধ ভাঙতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ ≠ মারধর করে শাস্তি দেওয়া।

একজন ব্যক্তি পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ হতে পারে। কিন্তু মাটিতে ফেলে মারতে থাকা, আটকের পর প্রতিশোধমূলকভাবে পেটানো বা ঘটনাস্থলেই ‘শাস্তি’ দেওয়া—সেগুলোকে ৪৬ ধারার সাধারণ ক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আর ২০২৫ সালের সংশোধনের পর গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় পুলিশের দায়িত্ব আরও নির্দিষ্ট হয়েছে। গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাকে দৃশ্যমান পরিচয় বহন করতে হবে, নিজের পরিচয় জানাতে হবে, পরিচয়পত্র দেখাতে হবে, গ্রেপ্তারের মেমোরেন্ডাম প্রস্তুত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য বা মনোনীত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে হবে। আঘাতের চিহ্ন থাকলে চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।

এমনকি গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি যুক্তিসঙ্গত যত্ন নেওয়া হেফাজতকারী ব্যক্তির আইনি দায়িত্ব।

“সে তো আসামি”—তাহলে কি তাকে মারা যায়?

না।

এখানেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের মধ্যে পার্থক্য।

কোনো ব্যক্তি আসামি হলেই তিনি দোষী হয়ে যান না। আদালতের রায়ের আগে তিনি অভিযুক্ত। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার রয়েছে।

আর কোনো ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হলেও তাকে শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি আইন নির্ধারণ করে। পুলিশ বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজের হাতে অতিরিক্ত শাস্তি দিতে পারেন না।

পুলিশের কাজ তদন্ত করা; আদালতের কাজ বিচার করা; আইন অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

থানার লকআপ বা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ কি আইনের বাইরে?

একেবারেই নয়।

কেউ থানার লকআপে থাকা অবস্থায় তার ওপর অপ্রয়োজনীয় হামলা চালানো, নির্যাতন করা বা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শারীরিক কষ্ট দেওয়া আইনসম্মত নয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) এ নির্যাতন নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্যাতনের বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি কাঠামো তৈরি করেছে।

এই আইনের আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ওপরও বিধান প্রযোজ্য।

অর্থাৎ পুলিশ, র‍্যাব বা অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী হলেও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে নির্যাতন করার আইনি অধিকার তাদের নেই।

স্বীকারোক্তি আদায় করতে মারধর?

আইনের দৃষ্টিতে এটিও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

নির্যাতনবিরোধী আইনের কাঠামোয় তথ্য বা স্বীকারোক্তি আদায়, শাস্তি দেওয়া, ভয় দেখানো বা সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে শারীরিক কিংবা মানসিক কষ্ট দেওয়ার মতো আচরণ নির্যাতনের আওতায় পড়তে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ও ১৬৪ ধারার কাঠামোও দেখায় যে তদন্তের সময় তথ্য সংগ্রহ ও স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

পুলিশের কাছে দেওয়া confession-এর প্রমাণমূল্যও Evidence Act-এর ২৫ ও ২৬ ধারায় কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।

অর্থাৎ—

“মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায়”—এটি তদন্তের বৈধ পদ্ধতি নয়।

রিমান্ড কি আসামিকে মারার লাইসেন্স?

সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো—রিমান্ড মানেই পুলিশ আসামিকে ইচ্ছামতো জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং প্রয়োজনে মারতে পারবে।

আইন এমন কোনো ক্ষমতা দেয় না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় তদন্ত শেষ করতে না পারলে নির্দিষ্ট শর্তে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পুলিশ হেফাজতের অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে একই ধারায় পুলিশ হেফাজত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সীমার মধ্যে রাখার বিধান রয়েছে এবং এরপর প্রয়োজন হলে বিচারিক হেফাজতের কথা বলা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ২০২৫ সালের সংশোধনের পর ১৬৭(২এ)-তে পুলিশ হেফাজতের আগে ও পরে চিকিৎসা পরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ হেফাজতে দেওয়ার আগে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের মাধ্যমে আসামির পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিতে পারেন।

রিমান্ড শেষে আসামিকে ফেরত আনার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে অথবা আসামি নির্যাতনের অভিযোগ করলে ম্যাজিস্ট্রেটকে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিতে হবে। চিকিৎসা প্রতিবেদনে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অর্থাৎ আইন নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা তৈরি করেছে:

রিমান্ডে নেওয়া মানে নির্যাতনের অনুমতি নয়; বরং রিমান্ড চলাকালীন আসামির শারীরিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

২৪ ঘণ্টার বেশি পুলিশ হেফাজত?

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে—যাতায়াতের প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে। ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তৃত্ব ছাড়া তার বেশি সময় আটক রাখা যাবে না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারাও একই মূল সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা করে।

এ কারণে কাউকে ধরে এনে দিনের পর দিন থানায় রেখে দেওয়া, আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা বা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া আটক রাখা—এসবের প্রতিটিরই আলাদা আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়।

২০২৫ সালের পরিবর্তনে গ্রেপ্তারকারীর ওপর নতুন দায়িত্ব

বর্তমান আইনে গ্রেপ্তারের সময় কর্মকর্তার কিছু স্পষ্ট দায়িত্ব রয়েছে।

গ্রেপ্তারকারীকে পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।

গ্রেপ্তারের মেমোরেন্ডাম তৈরি করতে হবে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নথিভুক্ত করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা মনোনীত ব্যক্তিকে জানাতে হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলে সেই সুযোগ দিতে হবে—আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

আর হেফাজতে থাকা ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি যুক্তিসঙ্গত যত্ন নেওয়া কর্মকর্তার দায়িত্ব।

অর্থাৎ বর্তমান আইন গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে শুধুই “আসামি” হিসেবে দেখছে না; তাকে একটি অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবেও বিবেচনা করছে।

এবার আসা যাক মোবাইল কোর্টে

ঘটনাস্থলেই দণ্ড—এটি কি সত্যিই বৈধ?

হ্যাঁ, বাংলাদেশের আইন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোবাইল কোর্টকে ঘটনাস্থলে অপরাধ আমলে নিয়ে দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।

২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইন মূলত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে সীমিত ক্ষমতায় ঘটনাস্থলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। আইনের উদ্দেশ্যই ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে “limited power” ব্যবহার করে অপরাধের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য:

ঘটনাস্থলে দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা আছে মানেই ঘটনাস্থলে কাউকে শারীরিকভাবে পেটানোর ক্ষমতা নেই।

মোবাইল কোর্টে কীভাবে দণ্ড দেওয়ার কথা?

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭ ধারায় প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ আমলে নেওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিতভাবে সংক্ষিপ্ত অভিযোগ গঠন করতে হবে। সেই অভিযোগ অভিযুক্তকে পড়ে ও ব্যাখ্যা করে শোনাতে হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন কি না। তিনি অভিযোগ স্বীকার না করলে কেন স্বীকার করছেন না, সেই ব্যাখ্যাও জানতে হবে।

অভিযুক্ত অভিযোগ স্বীকার করলে সেই স্বীকারোক্তি লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং অভিযুক্ত ও দুইজন উপস্থিত সাক্ষীর স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে। এরপর লিখিত আদেশের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া যায়।

অর্থাৎ ‘তাৎক্ষণিক দণ্ড’ মানে—

অভিযোগ → অভিযোগ জানানো → বক্তব্য/স্বীকারোক্তির সুযোগ → প্রয়োজনীয় নথিভুক্তি → লিখিত আদেশ → আইনসম্মত দণ্ড।

এটি চড়-থাপ্পড় → লাঠিপেটা → ঘটনাস্থলেই শারীরিক শাস্তি নয়।

অভিযুক্ত অভিযোগ স্বীকার না করলে?

মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার এখানেই গুরুত্বপূর্ণভাবে সীমিত।

সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যায়, মোবাইল কোর্ট আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধ ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোবাইল কোর্টের এখতিয়ারের বাইরে হলে বা গুরুতর অপরাধ হলে নিয়মিত মামলা ও উপযুক্ত আদালতের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

অর্থাৎ কোনো কর্মকর্তা শুধু নিজের চোখে কোনো ঘটনা দেখেছেন বলেই ইচ্ছেমতো যেকোনো শাস্তি দিতে পারেন না।

তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে চড় মারতে পারেন?

মোবাইল কোর্টের দণ্ড হিসেবে—না।

আইনে মোবাইল কোর্টকে নির্দিষ্ট শর্তে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন নিজে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কাউকে চড়, ঘুষি, লাথি বা লাঠি দিয়ে “শাস্তি” দেওয়ার ক্ষমতা দেয়নি।

মোবাইল কোর্ট আইনের ৮ ধারায় দণ্ডের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে; এই আইনের অধীনে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:

কারাদণ্ড দেওয়া এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা এক জিনিস নয়।

কারাদণ্ড হলো আইনসম্মত লিখিত আদেশের মাধ্যমে আরোপিত রাষ্ট্রীয় দণ্ড।

কাউকে চড় মারা হলো শারীরিক আঘাত।

দুটির আইনি চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।

তাহলে মোবাইল কোর্টে শারীরিক বলপ্রয়োগের কোনো সুযোগই নেই?

এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রাখতে হবে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় যদি কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন, পালানোর চেষ্টা করেন বা অন্যভাবে প্রতিরোধ করেন, তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কোনো প্রযোজ্য আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের প্রশ্ন উঠতে পারে।

কিন্তু সেই বলপ্রয়োগকে “মোবাইল কোর্টের শাস্তি” বলা যাবে না।

অর্থাৎ—

গ্রেপ্তার বা নিরাপত্তার প্রয়োজনে বৈধ বলপ্রয়োগ এক বিষয়; দণ্ড হিসেবে মারধর আরেক বিষয়।

আদালতও মোবাইল কোর্টের ক্ষমতাকে সীমাহীন বলেনি

বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগ মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে বলেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তাৎক্ষণিক conviction বা দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা আইনের ৬ ধারায় নির্ধারিত নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে। সব অপরাধ মোবাইল কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি রায়ে শিশুদের মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার, ন্যায্য বিচার এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অর্থাৎ আদালতের অবস্থান থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার:

মোবাইল কোর্ট একটি সীমিত ক্ষমতার ব্যবস্থা, সীমাহীন নির্বাহী ক্ষমতার নাম নয়।

একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি ঘটনাস্থলে কাউকে মারধর করেন?

এখানে প্রশ্নটি আর মোবাইল কোর্টের শাস্তির মধ্যে থাকে না।

তখন দেখতে হবে—

কেন আঘাত করা হয়েছিল?

আঘাতটি কি কোনো তাৎক্ষণিক ও আইনসম্মত প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের অংশ ছিল?

নাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি, অপমান বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল?

কারণ সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার আচরণও আইনের সীমার বাইরে যেতে পারে না।

গ্রেপ্তারের সময় আসামির আত্মীয় বা সাধারণ মানুষকে মারা যাবে?

শুধু আত্মীয়, প্রতিবেশী, সাংবাদিক, পথচারী বা উপস্থিত ব্যক্তি হওয়ার কারণে কাউকে মারধরের সাধারণ কোনো ক্ষমতা পুলিশকে আইন দেয় না।

কেউ গ্রেপ্তারে শারীরিক বাধা দিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শুধু উপস্থিত থাকা, প্রশ্ন করা, পরিচয় জানতে চাওয়া বা প্রতিবাদ করার কারণে ব্যক্তিকে আঘাত করা বৈধ বলপ্রয়োগের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, পরিস্থিতি, ব্যবহার করা বলের মাত্রা এবং উদ্দেশ্য বিচার করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব কোথায়?

বাংলাদেশের আপিল বিভাগ Bangladesh and Others v. BLAST and Others, 8 SCOB [2016] AD 1 মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।

আদালত বলেছে, গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত কেবল অস্পষ্ট সন্দেহ বা সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করতে পারে না; পুলিশ কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে হতে হবে।

আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, আদালত বলেছে—হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বা মৃত্যুর বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তথ্য থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং মেডিকেল প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদালত নির্দেশনায় রেখেছে। হেফাজতে মৃত্যু হলে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট শুধু রিমান্ড মঞ্জুর করে দায়িত্ব শেষ করেছেন—এমন নয়।

নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে কী হবে?

২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী আদালতের সামনে নির্যাতনের অভিযোগ এলে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতনের তথ্য বা উপাদান পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো এবং মেডিকেল প্রমাণে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেলে স্বতঃপ্রণোদিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ রয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত কেবল অভিযুক্ত সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকা উচিত নয়; আইনের কাঠামো বিচারিক হস্তক্ষেপের সুযোগও তৈরি করেছে।

হেফাজতে মৃত্যু: মৃত্যু হলেই কি দায় শেষ?

না।

কেউ পুলিশ, র‍্যাব বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে মারা গেলে প্রশ্ন উঠবে—মৃত্যুর কারণ কী?

স্বাভাবিক মৃত্যু?

অসুস্থতা?

আত্মহত্যা?

দুর্ঘটনা?

নাকি নির্যাতনের কারণে মৃত্যু?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে মেডিকেল বোর্ড, প্রয়োজনে মৃতদেহের পুনঃপরীক্ষা এবং প্রমাণ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ “হেফাজতে মারা গেছে”—এই তথ্যই একটি গুরুতর আইনি অনুসন্ধানের কারণ।

তাহলে এত অভিযোগের পরও সমস্যা থেকে যাচ্ছে কেন?

এখানে বাংলাদেশের বাস্তবতার সবচেয়ে কঠিন জায়গাটি হলো—আইন এবং আইনের প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান।

বাংলাদেশে বর্তমানে—

সংবিধানে নির্যাতন নিষিদ্ধ।

ফৌজদারি কার্যবিধিতে গ্রেপ্তারের সীমা আছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বিধান আছে।

২০২৫ সালের সংশোধনে গ্রেপ্তারের সময় নতুন নথিভুক্তি ও চিকিৎসা-সুরক্ষা যুক্ত হয়েছে।

রিমান্ডের পর আঘাত বা নির্যাতনের অভিযোগে মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু ঠেকাতে পৃথক আইন হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে।

তবু বাস্তবে অভিযোগ থাকলে প্রশ্ন ওঠে—কে তদন্ত করবে, কীভাবে প্রমাণ সংরক্ষণ হবে, সিসিটিভি বা ডিউটি রেকর্ড কীভাবে পরীক্ষা হবে, চিকিৎসা প্রতিবেদন কতটা স্বাধীন হবে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা সত্যিই জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন কি না।

এই জায়গাতেই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে।

একজন নাগরিকের করণীয় কী?

কেউ গ্রেপ্তারের সময় বা হেফাজতে আঘাতপ্রাপ্ত হলে বিষয়টি নথিভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেপ্তারের সময় আঘাত থাকলে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ই ধারায় চিকিৎসা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বিধান রয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

রিমান্ড শেষে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো এবং মেডিকেল পরীক্ষা চাওয়া আইনের নতুন সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্ন

১. গ্রেপ্তারের সময় প্রতিরোধ করলে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা যেতে পারে?
হ্যাঁ, গ্রেপ্তার কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে।

২. গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ার পর আসামিকে পেটানো যায়?
না।

৩. থানার লকআপে মারধর করা যায়?
না।

৪. স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য মারধর করা যায়?
না।

৫. রিমান্ড মানেই কি মারধরের অনুমতি?
না; রিমান্ড তদন্তের জন্য হেফাজত, শাস্তি নয়।

৬. মোবাইল কোর্ট কি ঘটনাস্থলে দণ্ড দিতে পারে?
নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে হ্যাঁ।

৭. মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট কি চড়-থাপ্পড়কে দণ্ড হিসেবে দিতে পারেন?
না; মোবাইল কোর্টের লিখিত আইনসম্মত দণ্ড আর শারীরিক আঘাত এক জিনিস নয়।

৮. মোবাইল কোর্টে অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে?
তখন আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে; সব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

৯. হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করলে কী হবে?
চিকিৎসা পরীক্ষা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

১০. সরকারি কর্মকর্তা আইন ভাঙতে পারেন?
না। সরকারি পদ কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে তোলে না।

উপসংহার

বাংলাদেশে অপরাধ দমন করতে রাষ্ট্রের হাতে বড় ক্ষমতা আছে।

পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে।

র‍্যাব অভিযান চালাতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীকে আটক করতে পারে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেন।

আর আদালত দণ্ড দিতে পারে।

কিন্তু এই ক্ষমতাগুলোর প্রতিটিরই সীমা আছে

গ্রেপ্তারের সময় প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পেটানোর সাধারণ অনুমতি বলা যাবে না।

রিমান্ডকে নির্যাতনের লাইসেন্স বলা যাবে না।

লকআপকে আইনমুক্ত এলাকা বলা যাবে না।

আর মোবাইল কোর্টের তাৎক্ষণিক দণ্ডকে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে চড়-থাপ্পড়ের ক্ষমতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

কারণ রাষ্ট্র যখন একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে, তখন সেই নাগরিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে চলে যান।

সেই মুহূর্তেই আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

অপরাধী হলে তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে।
কিন্তু তাকে পেটানো—শাস্তির নামে হলেও—আইনের বিকল্প হতে পারে না।

রাষ্ট্র যদি অপরাধ দমনের নামে নিজেই আইন ভাঙে, তাহলে প্রশ্নটি শুধু একজন আসামির অধিকারের নয়।

প্রশ্নটি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের।


আইন ও বিচারিক সূত্র

বাংলাদেশের সংবিধান: অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫(৫)—আইনের সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তার ও আটকসংক্রান্ত সুরক্ষা এবং নির্যাতন নিষিদ্ধকরণ।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮: ধারা ৪৬—গ্রেপ্তারের সময় প্রতিরোধ হলে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ; ধারা ৫০—প্রয়োজনের অতিরিক্ত restraint নিষিদ্ধ।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২৫ সালের সংশোধন: ধারা ৪৬এ–৪৬ই—গ্রেপ্তার মেমোরেন্ডাম, পরিচয় প্রকাশ, পরিবারকে অবহিতকরণ, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা এবং আঘাত থাকলে মেডিকেল পরীক্ষা।

ধারা ১৬৭: পুলিশ হেফাজত ও রিমান্ডের বিচারিক নিয়ন্ত্রণ; পুলিশ হেফাজতের আগে/পরে মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯: ধারা ৬–৮—মোবাইল কোর্টের সীমিত এখতিয়ার, অভিযোগ ও স্বীকারোক্তির প্রক্রিয়া এবং দণ্ডের সীমা।

সুপ্রিম কোর্ট—Bangladesh & Others v. BLAST & Others, 8 SCOB [2016] AD 1: গ্রেপ্তার, রিমান্ড, হেফাজতে নির্যাতন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক নজরদারি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

সুপ্রিম কোর্ট—Suo-Moto No. 07 of 2019: মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার, তাৎক্ষণিক conviction এবং আইনি সীমা সম্পর্কে বিচারিক ব্যাখ্যা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments