Homeটুডে নেশন৪০ হাজার কোটি টাকার সেতু-প্রস্তাব, সামনে মন্ত্রীর ছেলে — কাকতাল, নাকি স্বার্থসংঘাতের...

৪০ হাজার কোটি টাকার সেতু-প্রস্তাব, সামনে মন্ত্রীর ছেলে — কাকতাল, নাকি স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন?

সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল ও জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর অবকাঠামো প্রস্তাব; নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জাপান-চুক্তির সমালোচনাকারী তরুণই এখন জাপানি বিনিয়োগের স্থানীয় অংশীদার

টুডে টিভি বিডি | বিশেষ অনুসন্ধান

কয়েক মাস আগে এক তরুণ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত—তাঁর যুক্তি ছিল, তখন সরকারের কাজ রুটিন দায়িত্বেই সীমিত থাকা উচিত। আজ সেই একই তরুণের প্রতিষ্ঠান জাপানের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি মেগা সেতু প্রকল্পে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে সামনে এসেছে—আর তাঁকে দেখা গেছে সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে।

তরুণটির নাম সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক। তাঁর প্রতিষ্ঠান স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড নিজেকে জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর “অফিসিয়াল লোকাল পার্টনার” বলে দাবি করছে। প্রশ্ন একটাই—মাত্র দুই বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো বিনিয়োগের স্থানীয় অংশীদারিত্ব এল কীভাবে? এটি কি নিছক ব্যবসায়িক সক্ষমতার স্বীকৃতি, নাকি প্রভাবশালী পিতৃপরিচয় এই পথ সহজ করেছে?

বিনিয়োগের অঙ্কে গরমিল, আর তার চেয়ে বড় প্রশ্ন

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর কাছ থেকে দুটি সেতু নির্মাণে তারা ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ “সিকিউর” করেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা। অথচ গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই অঙ্ক দেখানো হয়েছে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার—ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতুকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে সংখ্যার এই গরমিলের চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হলো—এই অর্থ কি ইতিমধ্যে অনুমোদিত, নাকি নিছক প্রস্তাব? প্রকাশ্য তথ্য বলছে, বিষয়টি এখনো প্রস্তাব ও সম্ভাব্যতা-যাচাইয়ের পর্যায়ে। মিয়াগাওয়া কেনসেতসুকে দেওয়া কোনো চূড়ান্ত সরকারি কার্যাদেশের প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

সেতু সচিবের সঙ্গে বৈঠক: প্রক্রিয়াটি কী ছিল

সাম্প্রতিক এক বৈঠকে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল ও মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর প্রতিনিধিরা সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেন—যেখানে ভোলা-বরিশাল, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতুতে PPP ভিত্তিতে বিনিয়োগ, নকশা ও নির্মাণ অংশীদারত্বের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ দল একাধিক দফা আলোচনায় বসবে এবং সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করবে—অর্থাৎ প্রকল্প এখনো চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ হয়নি।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—এই আলোচনার পর্যায়েই স্থানীয় অংশীদার হিসেবে স্ট্যালিয়নের নাম এল কীভাবে? কোনো উন্মুক্ত বা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়া হয়েছিল, নাকি মিয়াগাওয়া নিজস্ব সিদ্ধান্তে তাদের বেছে নিয়েছে? এই তথ্য প্রকাশ হওয়া জরুরি।

স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল: দাবি বনাম যাচাইযোগ্য রেকর্ড

স্ট্যালিয়নের LinkedIn পেজ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, কর্মীসংখ্যা মাত্র ২-১০ জন। অথচ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে অবকাঠামো বিনিয়োগ, সেতু, বন্দর, সড়ক নেটওয়ার্ক, EPC, GIS জরিপ ও প্রকিউরমেন্ট পরামর্শের মতো ব্যাপক সক্ষমতার কথা।

কিন্তু এই দাবির পেছনে কোনো সম্পন্ন বড় সেতু প্রকল্পের প্রমাণ—প্রকল্পমূল্য, ক্লায়েন্ট তালিকা, কাজের সময়কাল বা সমাপ্তি-নথি—প্রকাশ্য সূত্রে সহজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কোম্পানির সক্ষমতার দাবি একদিকে, আর তার যাচাইযোগ্য বাস্তবায়ন-রেকর্ড অন্যদিকে—এই ফারাকটাই অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দু।

সাঈদ ইব্রাহিমের যোগ্যতা: একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন

তাঁকে নিছক “ব্রোকারেজ ট্রেডার” বলে চিহ্নিত করলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। AIUB-এর একাডেমিক জার্নাল অনুযায়ী তিনি University of Toronto থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, University of Kent থেকে ফাইন্যান্স-ইনভেস্টমেন্ট-রিস্কে এমএসসি এবং Imperial College London থেকে ইনভেস্টমেন্ট-ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টে এমএসসি সম্পন্ন করেছেন। তিনি AIUB-তে ফাইন্যান্সের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তাঁর শিক্ষাগত ও আর্থিক দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু বহুমূল্যের PPP প্রকল্পের স্ট্রাকচারিং, ঋণ সংগ্রহ, ঝুঁকি বণ্টন বা কনসেশন চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর বা স্ট্যালিয়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা কতটুকু—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনুপস্থিত।

জাপান নিয়ে অবস্থান বদল: রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো অংশ

গত ২৪ জানুয়ারি সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ LinkedIn-এ “Tokyo Drift: Derailing Development and Why Cutting Japanese Rail Projects Risks More Than Just Commutes” শিরোনামে একটি লেখায় মন্তব্য করেছিলেন, নির্বাচন সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের জাপানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

কয়েক মাস পরই সেই একই ব্যক্তি জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে সামনে এলেন। এটি কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়—তবে এটি একটি বৈধ স্বচ্ছতার প্রশ্ন তৈরি করে: নীতিগত সমালোচক থেকে ব্যবসায়িক সুবিধাভোগীতে এই রূপান্তরের সম্পূর্ণ চিত্র জনসমক্ষে আসা উচিত কি না।

পারিবারিক আর্থিক লেনদেন

দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের হলফনামাভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর ছেলেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঈদ ইব্রাহিম Southern Sea Coast Asset Management Ltd. থেকে ১৬.৭৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন—যে প্রতিষ্ঠানটি আগে First Security Islami Bank থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যা পিতা সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিশোধ করেছিলেন।

এই তথ্য নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়—স্বাভাবিক পারিবারিক লেনদেনও হতে পারে। তবে একই পরিবার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামনে যখন হাজার কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের অংশীদারিত্ব আসে, তখন সেই আর্থিক কাঠামোর স্বচ্ছতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিসিবি বিতর্কের পুনরাবৃত্তি

এপ্রিলে গঠিত বিসিবির ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে সাঈদ ইব্রাহিমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তখনই প্রথম আলোসহ সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। পরে জুনের নির্বাচনে তিনি ৭২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হন—অর্থাৎ এটি নির্বাচনের মাধ্যমেই হয়েছে, নিয়োগ নয়। তবে তাঁর পূর্ববর্তী স্পোর্টস-ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতা কতটুকু ছিল বা রাজনৈতিক পরিচিতি ভোটে কতটা প্রভাব ফেলেছে—এই বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত, এবং একই প্রশ্ন এখন অবকাঠামো-ব্যবসাতেও ফিরে এসেছে।

মিয়াগাওয়া কেনসেতসু: এই কোম্পানিটি আসলে কে?

বাংলাদেশি সূত্রে মিয়াগাওয়া কেনসেতসু সম্পর্কে তথ্য সীমিত। জাপানে একই বা কাছাকাছি নামে একাধিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থাকায়, প্রকল্পে যুক্ত সুনির্দিষ্ট কোম্পানিটির কর্পোরেট নিবন্ধন, পরিশোধিত মূলধন, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং সম্পন্ন সেতু-প্রকল্পের তালিকা জাপানি সরকারি রেকর্ড দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া জরুরি। “জাপানি কোম্পানি” পরিচয় একাই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ নয়—৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অংশীদারের অতীত রেকর্ড অবশ্যই যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত।

কমিশনের গুঞ্জন: প্রমাণহীন দাবি

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা আছে, স্ট্যালিয়ন প্রকল্পমূল্যের ৩-৫ শতাংশ কমিশন পেতে পারে। তবে এই দাবির সমর্থনে কোনো প্রকাশ্য চুক্তি বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি—তাই এটিকে সত্য বলে উপস্থাপন করা যাবে না। বাস্তবে স্থানীয় অংশীদারের আয় অ্যাডভাইজরি ফি, ইক্যুইটি অংশগ্রহণ বা অন্য কোনো চুক্তিভিত্তিক কাঠামো থেকে আসতে পারে—প্রকৃত পারিশ্রমিক জানতে সংশ্লিষ্ট চুক্তি প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন।

স্বার্থসংঘাতের পাঁচটি চেকপয়েন্ট

এই ঘটনায় অন্তত পাঁচটি সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের বিন্দু চিহ্নিত করা যায়: এক, সাঈদ ইব্রাহিম বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে—এই সম্পর্ক নিশ্চিত। দুই, তাঁর প্রতিষ্ঠান নিজেকেই সরকারি প্রকল্পের বিদেশি অংশীদারের স্থানীয় সহযোগী দাবি করছে। তিন, সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক হয়েছে। চার, প্রকল্পটি সরকারের PPP কাঠামোর অধীন, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে। পাঁচ, স্থানীয় অংশীদার হিসেবে সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ এখনো অপ্রকাশিত।

এই পাঁচটি বিষয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্নীতি প্রমাণ করে না—কিন্তু স্বচ্ছতা ও প্রকাশ্য ঘোষণার জন্য যথেষ্ট কারণ তৈরি করে।

আসিফ মাহমুদের নজির: একই মানদণ্ড কি প্রযোজ্য?

এর আগে আসিফ মাহমুদের বাবার ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছিল, সেখানে সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত স্বীকার করে লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা এসেছিল। দুটি ঘটনার আইনি কাঠামো ভিন্ন হলেও নীতিগত শিক্ষা একই—ক্ষমতাসীন ব্যক্তির নিকটাত্মীয়ের ব্যবসায়িক স্বার্থ সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হলে, স্বচ্ছতার মাত্রা কমে নয়, বরং বাড়ে।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো নেই

স্ট্যালিয়নকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী ছিল? মিয়াগাওয়া কি প্রতিযোগিতামূলক অংশীদার-নির্বাচন করেছিল? স্ট্যালিয়নের আর্থিক সক্ষমতা ও ইক্যুইটি অবদান কত? সরকারের সঙ্গে কোনো MoU বা টার্ম শিট হয়েছে কি? PPP সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা সরকারি প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি? প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় সরকারি নথিতে কত? অর্থায়ন সম্পূর্ণ মিয়াগাওয়ার, নাকি ঋণ-ইক্যুইটি-রাষ্ট্রীয় সহায়তার মিশ্র কাঠামো?

এসব প্রশ্নের কোনোটিরই পর্যাপ্ত উত্তর এখনো জনসমক্ষে নেই।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ছয়টি ধাপ

সরকার চাইলে সহজেই এই সন্দেহ দূর করতে পারে—স্ট্যালিয়ন-মিয়াগাওয়া অংশীদারিত্বের MoU বা টার্ম শিট প্রকাশ করে; স্থানীয় অংশীদার নির্বাচনের যোগ্যতার মানদণ্ড স্পষ্ট করে; প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও অর্থায়ন কাঠামো প্রকাশ করে; স্ট্যালিয়নের প্রকৃত মালিকানা, পরিশোধিত মূলধন ও প্রকল্প-অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে; সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাঈদ ইব্রাহিমের পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থসংঘাত-নীতি প্রযোজ্য কি না তা স্পষ্ট করে; এবং মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর জাপানি নিবন্ধন ও প্রকৃত প্রকল্প-রেকর্ড যাচাই করে প্রকাশ করে।

তাহলে কি এটি ‘বাপের দোয়া’?

এই মুহূর্তে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা হবে না। সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের শক্তিশালী একাডেমিক ও ফাইন্যান্স পটভূমি রয়েছে, আর তাঁর প্রতিষ্ঠান নিজেকে বৈধ অবকাঠামো-বিনিয়োগ পরামর্শক হিসেবেই উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে সত্য এটাও যে, কোম্পানিটি মাত্র দুই বছরের পুরোনো এবং তার স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বড় প্রকল্পের ইতিহাস প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

তাই আসল প্রশ্ন এটা নয় যে তিনি অযোগ্য কি না—প্রশ্ন হলো, তাঁর যোগ্যতার দাবিগুলো ৪০ হাজার কোটি টাকার এই সম্ভাব্য প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং স্বচ্ছভাবে যাচাইযোগ্য কি না।

শেষ কথা: প্রশ্নটি ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, প্রক্রিয়াকে নিয়ে

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষত জাপানি বিনিয়োগ আসা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ভোলা-বরিশাল বা শরীয়তপুর-চাঁদপুরের মতো সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই প্রশ্ন প্রকল্প থামানোর নয়—প্রশ্ন হলো, কে অংশীদার হচ্ছে, কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হচ্ছে, এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিদ্ধান্তের সম্পর্ক কতটা।

একজন ক্ষমতাসীন মন্ত্রীর সন্তান যদি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদার হন, তাহলে সেই সম্পর্কের প্রতিটি স্তর জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত। উত্তর হ্যাঁ হলে—নথি প্রকাশ করা হোক। উত্তর না হলে—প্রশ্ন ওঠার যৌক্তিকতা অস্বীকারের সুযোগ নেই। সরকারি ক্ষমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসার সম্পর্ক বেআইনি না হলেও, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা স্বচ্ছ হওয়া বাধ্যতামূলক—আর ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে সেই মানদণ্ড আরও উঁচু হওয়াই স্বাভাবিক।

টুডে টিভি বিডির এই অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, মিয়াগাওয়া কেনসেতসু এবং সেতু বিভাগের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

— টুডে টিভি বিডি | ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments