আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রোম/নোয়াখালী
ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দেশটির পুলিশ ইতোমধ্যে এক প্রধান সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে।
শুক্রবার রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে নিহত হন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পরিবারের বড় ছেলে অয়নকে, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইতালীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ছেলেকে হাসপাতালে পাঠায়।
তদন্তে সামনে এলো পুরোনো হুমকির ঘটনা
এদিকে ঘটনার পর পরিবারটির স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া গিয়েছিল। কথিত ‘লাল বাহিনী’ নাম ব্যবহার করে পাঠানো সেই চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, ওই চিঠিতে দাবি পূরণ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
তবে স্থানীয় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল এবং পরিবারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছিল।
তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে
এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—
- পুরোনো হুমকি এবং বর্তমান হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি?
- এটি কি ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি পরিকল্পিত অপরাধ?
- প্রবাসী জীবনের কোনো বিরোধ বা আর্থিক লেনদেন কি ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে?
- প্রকাশিত সন্দেহভাজনের সঙ্গে পরিবারটির কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল কি?
তদন্ত এখনো চলমান
ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বা দায়ী ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।



