Homeটুডে টেকবিএসআইয়ের উদ্যোগে ইউএস রোডশো ২০২৬ শুরু

বিএসআইয়ের উদ্যোগে ইউএস রোডশো ২০২৬ শুরু

বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন এর উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ইউএস রোডশো ২০২৬। আমেরিকার কয়েকটি শহরে সফরের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সাথে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি নেতৃবৃন্দকে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা।
আগামী ৫ জুন থেকে ১৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই রোডশোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র জুড়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি নির্বাহী, নীতিনির্ধারক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করবেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি জনাব এম. এ. জব্বার এবং পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার উদ্যোগের প্রধান স্থপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন। এ ছাড়াও সফরে অংশ নেবেন বিএসআইএর নেতৃবৃন্দ, শিল্প ও একাডেমিয়ার প্রতিনিধিরা, ব্রেইনগেইন নেটওয়ার্কের সদস্যবৃন্দ এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিবৃন্দ।


রোডশোর যাত্রা শুরু হবে ৫ জুন অস্টিন, টেক্সাসে, যেখানে প্রতিনিধি দল এএমডি, টোকিও ইলেক্ট্রন (টেল) এবং এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টরস-এর সাথে বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে ব্রেইনগেইন রিসেপশন লাঞ্চ, যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি পেশাজীবী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প নেতারা অংশ নেবেন। ৭ জুন ফিনিক্স, অ্যারিজোনায় অনুষ্ঠিত হবে ব্রেইনগেইন রিসেপশন ডিনার, যা বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার করবে। ৮ জুন প্রতিনিধি দল সফর করবে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ক্যাকটাস ম্যাটেরিয়ালস। এই সফরে উন্নত উপকরণ গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
৯ জুন সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হবে স্যানডিস্ক ও গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ-এর সাথে বৈঠক, যেখানে শিল্প সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১০ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ফলসমে প্রতিনিধি দল সফর করবে সিনপসিস ও ক্রেডো টেকনোলজি গ্রুপে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি ব্রেইনগেইন রিসেপশন ডিনার। ১১ জুন সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হবে রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ব্রেইনগেইন ব্যাংকুয়েট রিসেপশান। এর আগে প্রতিনিধি দল ইন্টেল, আর্ম এবং অন্যান্য শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নেতাদের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেবে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী কর্মকর্তা, অধ্যাপক, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। ১২ জুন প্রতিনিধি দল সফর করবে YES (Engineering the Intelligent Future) এবং বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর Berkeley SkyDeck-এ। এখানে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি বাণিজ্যিকীকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে আলোচনা হবে।
রোডশোর সমাপ্তি হবে ১৩ জুন পোর্টল্যান্ড, ওরেগনে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ব্রেইনগেইন রিসেপশন ডিনার। এতে প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন।
এই রোডশো বৃহত্তর সিলিকন রিভার উদ্যোগ-এর অংশ, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমগুলোর সাথে সংযুক্ত করা। সিলিকন রিভারের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রচেষ্টা চলছে।


গত এক বছরে সিলিকন রিভার-এর আওতায় জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম, BEAR Summit, BRAINGAIN, CREST, BASICS, STAR Facility পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক শিল্প সংযোগ এবং বৈশ্বিক বাংলাদেশি প্রযুক্তি কমিউনিটিকে একত্রিত করার মতো একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিএসআইএ সভাপতি জনাব এম. এ. জব্বার বলেন: “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ। সিলিকন রিভার এবং ব্রেইনগেইন-এর মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও নেতৃত্বকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি অর্থনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।“
সিলিকন রিভার উদ্যোগের প্রধান স্থপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন বলেন: “বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার উপর। এই রোডশোর মাধ্যমে আমরা শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই, যা ভবিষ্যতে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।“
আয়োজকরা আশা করছেন, এই রোডশো বাংলাদেশের সাথে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং গবেষণা, চিপ ডিজাইন, উন্নত প্যাকেজিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দেবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular