Homeটুডে ওয়ার্ল্ডচলন্ত ট্রেনে প্রবীণ নারীকে বর্বর নির্যাতন ও হেনস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ক্ষোভ

চলন্ত ট্রেনে প্রবীণ নারীকে বর্বর নির্যাতন ও হেনস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ক্ষোভ

শিলচরের বাসিন্দা সামসাদ বেগমকে লিঙ্গ ও খাবার পরীক্ষার নামে হেনস্থা, নিজেকে ‘পুলিশের স্ত্রী’ দাবি করা নারীসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি

শিলচর | ২০ মে ২০২৬
চলন্ত ট্রেনের কামরায় এক প্রবীণ ও একা নারী যাত্রীকে জনসমক্ষে বর্বর শারীরিক নির্যাতন, লাঞ্ছনা এবং মানসিকভাবে তীব্র হেনস্থা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ মে (শনিবার) আসামের পাঁচগ্রাম এলাকার কাছে চলন্ত ট্রেনে শিলচরের বদ্রিপাড়ের বাসিন্দা প্রবীণ নারী সামসাদ বেগম চৌধুরীর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেকে পুলিশের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারী এবং তার কয়েকজন সহযোগী মিলে এই নজিরবিহীন হেনস্থা চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্যাতন চললেও ট্রেনের অন্য যাত্রীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী সামসাদ বেগম চৌধুরী একজন প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একজন জওয়ানের বোন। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দর্জির (টেইলর) কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গত শনিবার ডিমাপুর থেকে ট্রেনে করে একা বাড়ি ফেরার পথে পাঁচগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেনের কামড়াতেই তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটে।

খাবার ও লিঙ্গ পরীক্ষার নামে অমানবিক লাঞ্ছনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং মোবাইল ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওচিত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, ট্রেনের ভেতরে ওই প্রবীণ নারীর ওপর চরম অবমাননাকর আচরণ করা হয়। অভিযুক্ত নারী ও তার পুরুষ সহযোগীরা মিলে সামসাদ বেগমের সাথে থাকা খাবার জোরপূর্বক পরীক্ষার চেষ্টা করে। একই সাথে তাঁর পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তাঁর ‘লিঙ্গ পরীক্ষা’ করার কথা বলে চরমভাবে মানসিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়।

নির্যাতনের পুরো সময়টিতে কামরার ভেতরে অন্য যাত্রীরা উপস্থিত থাকলেও কেউ ভুক্তভোগীকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি বা অপরাধীদের বাধা দেননি। বরং অনেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত ছিলেন। জনসমক্ষে একজন প্রবীণ ও একা নারী যাত্রীর এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার ঘটনায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের ভূমিকা

ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিজেকে ‘পুলিশের স্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে যে নারী এই বর্বরোচিত হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এজাহার (এফআইআর) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরপিএফ) ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ঘটনায় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।

📊 ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র

  • ভুক্তভোগী: সামসাদ বেগম চৌধুরী (প্রবীণ নারী, ডিমাপুরের দর্জি)।
  • ঘটনার তারিখ ও সময়: ১৬ মে ২০২৬, শনিবার।
  • লোকেশন: পাঁচগ্রামের নিকটবর্তী এলাকা, চলন্ত ট্রেন।
  • অভিযুক্ত: নিজেকে পুলিশের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারী ও তার সহযোগীরা।
  • লঙ্ঘন: শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বৃদ্ধা ও নারী লাঞ্ছনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে এ ধরনের প্রবীণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বারবার ঘটার অন্যতম কারণ অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি না হওয়া এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতা। একই সাথে জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে সহযাত্রী বা সাধারণ মানুষের নীরবতা অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করছে, যা নাগরিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে গণপরিবহনে কোনো সাধারণ নাগরিককে এমন নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে না হয়।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) প্রাথমিক কন্ট্রোল রুম বিবরণী, শিলচর, ২০ মে ২০২৬।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments