Homeটুডে স্পোর্টসমিরপুরে ইতিহাস: পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

মিরপুরে ইতিহাস: পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

ঢাকা | ১২ মে ২০২৬
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক সোনালি অধ্যায়। তরুণ পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিনটি টেস্টে জয়ের কীর্তি গড়ল টাইগাররা, যা দেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

ম্যাচ সারাংশ: এক নজরে

  • বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০
  • পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬/১০
  • বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৪০/৯ (ডিক্লেয়ার)
  • পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৬৩/১০ (লক্ষ্য ২৬৮)
  • ফলাফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
  • ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত (প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান)।

নাহিদ রানার গতির ঝড় ও ফাইফার

চতুর্থ ইনিংসে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নামা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন ২১ বছর বয়সী পেসার নাহিদ রানা। ১৪৭-১৪৮ কি.মি. গতির সাথে নিখুঁত রিভার্স সুইংয়ে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট (৪০ রান খরচায়)। টেস্ট ক্রিকেটের ২৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি।
নাহিদের শিকার যারা:
১. সাউদ শাকিল (কট বিহাইন্ড)
২. মোহাম্মদ রিজওয়ান (বোল্ড)
৩. নোমান আলী (এলবিডব্লিউ)
৪. হাসান আলী (তাইজুলের বলে আউট হলেও চাপে রেখেছিলেন নাহিদ)
৫. শাহিন শাহ আফ্রিদি (বাউন্সারে ক্যাচ আউট)

পঞ্চম দিনের নাটকীয়তা

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশ সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। সকালে দ্রুত রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক শান্ত। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

  • শুরুতেই ধাক্কা: অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান ইমাম-উল-হককে।
  • প্রতিরোধ ও পতন: দ্বিতীয় উইকেটে দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজাল ৫৪ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু মিরাজ ও তাইজুলের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধ ভেঙে যায়। আব্দুল্লাহ ফাজাল সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন।
  • মিডল অর্ডার ধস: লাঞ্চের পর নাহিদ রানা তার বিধ্বংসী স্পেল শুরু করেন। রিজওয়ানকে (১৫) বোল্ড এবং শাকিলকে (১৫) আউট করে জয়ের পথ পরিষ্কার করেন তিনি। শেষ বিকেলে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে।

🔎 বিশ্লেষণ: কেন এই জয় ঐতিহাসিক?

১. প্রথম জয়: পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে এটিই প্রথম টেস্ট জয়।
২. পেস ইউনিটের দাপট: সাধারণত মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে স্পিনাররা দাপট দেখালেও এই ম্যাচে পেসাররা (নাহিদ ও তাসকিন) ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।
৩. টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।
৪. ব্যক্তিগত মাইলফলক: মুমিনুল হক এই ম্যাচেই বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৫,০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

💬 ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, “বোলারদের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। বিশেষ করে নাহিদ যেভাবে গতি ব্যবহার করেছে, তা অসাধারণ। দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”

📊 স্কোরবোর্ড হাইলাইটস (দ্বিতীয় ইনিংস)

  • বাংলাদেশ: শান্ত ৮৭, মুমিনুল ৫৬ (চতুর্থ দিন), মিরাজ ২৪।
  • পাকিস্তান: আব্দুল্লাহ ফাজাল ৬৬, সালমান আগা ২৬।
  • বোলিং (বাংলাদেশ): নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ইসলাম ২/২২, তাসকিন আহমেদ ২/৪০।

  • উপসংহার: গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার দুয়েক দর্শকের “নাহিদ… নাহিদ” চিৎকারে মিরপুরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে যখন শাহিন আফ্রিদির শেষ উইকেটটি পড়ে। গতির আগুনে পাকিস্তানকে পুড়িয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করল, টেস্ট ক্রিকেটে তারা এখন যেকোনো বড় শক্তিকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments