Homeটুডে হেলথগ্রীষ্মের স্বস্তিতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি: তরমুজ খাওয়া ও সংরক্ষণে ছোট ভুলেই বড় বিপদ

গ্রীষ্মের স্বস্তিতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি: তরমুজ খাওয়া ও সংরক্ষণে ছোট ভুলেই বড় বিপদ

বিশেষ স্বাস্থ্য ডেস্ক | টুডে টিভি বিডি

২৯ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা/কলকাতা: তীব্র দাবদাহে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ যেন প্রাণজুড়ানো প্রশান্তি। প্রচুর জলীয় অংশ, ভিটামিন এবং খনিজের আধার এই ফলটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে অতুলনীয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অসতর্কভাবে তরমুজ কাটা বা সংরক্ষণ করলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সাধারণ পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া—সবই হতে পারে একটি ছোট ভুলের কারণে।

১. কেন বিষক্রিয়া হয়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

​তরমুজে থাকা প্রচুর জলীয় অংশ এবং প্রাকৃতিক শর্করা (Sugar) ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ। উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় এই প্রক্রিয়া কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

  • দ্রুত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ: তরমুজ কাটার পর ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে এতে সালমোনেল্লা, ই-কোলাই এবং লিস্টেরিয়া-র মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • অপরিচ্ছন্নতা: নোংরা ছুরি, অপরিষ্কার হাত কিংবা ধুলোবালিযুক্ত স্থানে তরমুজ কাটলে বাইরের আবরণ থেকে জীবাণু ফলের ভেতরের অংশে প্রবেশ করে।

২. বাজারের কাটা তরমুজ: নীরব ঘাতক

​অনেকেই সময় বাঁচাতে বা পরীক্ষা করতে বাজার থেকে কাটা তরমুজ কিনে আনেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি সবচেয়ে বড় ভুল।

  • ক্রস-কনট্যামিনেশন: বিক্রেতারা একই ছুরি দিয়ে বারবার ভিন্ন ভিন্ন ফল কাটেন, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • প্লাস্টিকের ব্যবহার: কাটা তরমুজ প্লাস্টিক বা পলিথিনে মুড়ে রাখলে ফলের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করে।

৩. নিরাপদ থাকার গোল্ডেন রুলস: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

​গ্রীষ্মে সুস্থ থাকতে তরমুজ কেনা এবং খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের এই ৪টি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলুন:

  • আস্ত ফল কিনুন: সবসময় আস্ত তরমুজ কিনুন। বাড়িতে আনার পর ফলের বাইরের অংশটি সাবান বা পরিষ্কার জল দিয়ে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিন। ধোয়ার পর হাত ও ছুরি পরিষ্কার করে তারপর কাটুন।
  • ঘরের তাপমাত্রায় বর্জন: তরমুজ কাটার পর সেটি দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। কাটার ২ ঘণ্টার মধ্যে তা খেয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
  • সঠিক রেফ্রিজারেশন: তরমুজ ঠান্ডা করে খেতে চাইলে কাটার আগেই আস্ত ফলটি ফ্রিজে রাখুন। আর কাটা অংশ রাখতে চাইলে বায়ুনিরোধক (Airtight) পাত্রে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
  • ঘ্রাণ ও রঙ পরীক্ষা: তরমুজের স্বাদ টক হয়ে গেলে বা ভেতরের অংশ পিচ্ছিল মনে হলে তা কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এটি ফারমেন্টেশন বা পচনের প্রাথমিক লক্ষণ।

৪. উপসংহার

​ফল হিসেবে তরমুজ নিঃসন্দেহে আশীর্বাদ, যদি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে কাটা ফলের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, আজকের সামান্য একটু সচেতনতাই আপনাকে গ্রীষ্মকালীন রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments